somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমাদের টিভি চ্যানেলে শিশুরা উপেক্ষিত, উপেক্ষিত মেধা-মনন আর সৃজনশীলতা।

১৯ শে আগস্ট, ২০১৫ বিকাল ৫:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আমার ছেলেকে দেখলাম একটি কাগজের টুকরো হাতে নিয়ে কিছু একটা দেখল তারপরে আবার কাগজটি খুব যত্ন করে রেখে দিচ্ছে। বেশ কৌতূহল নিয়েই সেটা দেখতে চাইলাম ও চিৎকার করে বলল বাবা ওটা ফেল না ফেল না। বললাম ফেলছি না কিন্তু এখানে কি আছে তাই দেখছি। দেখলাম ওর কাচা হাতে পেন্সিল দিয়ে কয়েকটি সংখ্যা লিখে রেখেছে।
জিজ্ঞেস করলাম এ গুলো কিসের নাম্বার?
ও মাথা নিচু করে বলল কার্টুন চ্যানেলের।
বুঝলাম চ্যানেলের নাম্বারগুলি ভুলে যাওয়ার ভয়ে সে লিখে রেখেছে। বলা বাহুল্য চ্যানেলগুলির একটিও বাংলাদেশের নয়। মনে মনে বেশ বিরক্ত হচ্ছিলাম এই ভেবে যে, দেশে এতগুলি টিভি চ্যানেল অথচ একটিও শিশুতোষ চ্যানেল নেই কেন? কেন আমার ৬ বছরের শিশুটি বাংলার চেয়ে হিন্দিতে বেশী পারদর্শী হতে শিখবে?
এই টিভি চ্যানেলগুলির টার্গেট দর্শকই বা কারা?
এতগুলি চ্যানেল অথচ একটি চ্যানেলের অনুষ্ঠানেও কোন নতুনত্ব নেই। একই টক শো, একই গল্পের নাটক। কিছু বিদেশী চ্যানেলের নকল অনুষ্ঠান। কোন মানে হয়?

শিশুদের টার্গেট করে আপনি পণ্য তৈরি করছেন। সেই পণ্যের বিজ্ঞাপন বানাচ্ছেন সারাদিন প্রচার করছেন অথচ শিশুতোষ অনুষ্ঠান তৈরি করছেন না। শিশুদের টার্গেট করে তৈরি পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচার করছেন বড়দের জন্য তৈরি অনুষ্ঠানে। কি অদ্ভুত আপনাদের বিচার বুদ্ধি!

অনেককে এও বলতে শুনেছি, শিশুদের জন্য তৈরি পণ্যের ক্রেতা তো তার মা কাজেই বিজ্ঞাপন বড়দের জন্য তৈরি অনুষ্ঠানে প্রচার করলেও ফল মেলে। যারা এই তত্ত্বে বিশ্বাসী তাদের বলছি, একটি জরিপ চালিয়ে দেখুন এ দেশের মায়েরা স্টার প্লাস, জিটিভি আর জলসা নিয়েই বেশির ভাগ সময় কাটান। এক চ্যানেল থেকে অন্য চ্যানেলে যেতে যদি কোনভাবে এ দেশের কোন টিভি চ্যানেলের কয়েক সেকেন্ডের সুযোগ হয় সেই অনেক। কাজেই ঐ তত্ত্বটিও সঠিক নয়।

সবচেয়ে হাস্যকর লাগে একটি চ্যানেলে সিসিমপুর কবে কয়টায় হবে সেই বিজ্ঞাপন দিতে দেখে। তাও আবার সময়টা শিশুদের জন্য আদর্শ সময় নয়। যেখানে একটি শিশু চ্যানেল পালটালেই তার প্রিয় কার্টুন চ্যানেলগুলি পেয়ে যায় সেখানে আপনি তাকে বলছেন, বাবা দুদিন অপেক্ষা কর আমরা তোমার জন্য এক ঘণ্টার একটি ধার করা অনুষ্ঠান দেখাব! এই মেধা এই মানসিকতা নিয়ে আপনারা টিভি চ্যানেল চালাচ্ছেন!

ক্রিকেট বিশ্বকাপ চলাকালে দেখলাম ভারতের একটি টিভি চ্যানেলে বাংলাদেশের খেলার বাংলা ধারা বিবরনি প্রচার করছে। বেশিরভাগ মানুষ তখন সব ছেরে ঐ চ্যানেলটিতে চোখ রাখছে। এ দেশের মাথা মোটা চ্যানেলের কর্তা ব্যক্তিদের কি এ সব চোখেও পড়ে না। আরে নিজের মাথায় না থাকলে অন্যদেরটা দেখেও তো শিখতে হয় না কি?

এ ক্ষেত্রে জি বাংলা একটি অনন্য উদাহরন সৃষ্টি করেছে যারা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছে। যেখানে সাধারন মানুষের সম্পৃক্ততা বাড়ছে। নানা মুখি প্রতিভার বিচ্ছুরন ঘটছে। আসলে এটা করতে হলে যে সাহস যে মেধা এবং সর্বোপরি প্রতিনিয়ত নিজেকে ছারিয়ে যাওয়ার যে সংকল্প থাকতে হয় আমাদের চ্যানেলগুলির কর্তাব্যক্তিদের সেই ঘাটতিটাই সবথেকে বেশী অনুভুত হচ্ছে। তবে এটা নির্দ্বিধায় বলতে পারি এই চ্যানেলগুলি এভাবে খুব বেশদিন চলতে পারবে না। হয় তাদের অনেক বেশী সৃজনশীল হতে হবে নয়ত অচিরেই পাততারি গোটাতে হবে।

তথ্য মন্ত্রণালয়ের এখন একটি চ্যানেলের অনুমতি দেয়ার আগে তাদের মেধাটা যাচাই করে দেখা উচিৎ। সেই সাথে এমন একটি নির্দেশনা প্রদান জরুরী যাতে দিনের একটি উল্লেখযোগ্য সময় শিশুতোষ অনুষ্ঠান প্রচার বাধ্যতামূলক করা যায়। সম্ভব হলে দু একটি শিশুতোষ চ্যানেলের ব্যবস্থা করা।
আমি চাই না আমার ছেলে বলতে থাকুক, পাকিস্তান হোসমে আও। আমি চাই সে বলুক, জয় বাংলা। সে আপন মনেই গেয়ে উঠুক আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি।

[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে আগস্ট, ২০১৫ বিকাল ৫:০৫
৫টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সর্বজনীন পেনশন: সুবিধা বাড়ছে, ভবিষ্যৎ কতটা নিশ্চিত ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৪৪


সরকারের মনোভাব সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা কঠিন। ফ্যাসিস্ট আমলের বিতর্কিত 'সর্বজনীন পেনশন' প্রকল্পটি বাতিল না করে বর্তমান সরকার উল্টো নতুন নতুন স্কিম চালু করছে এবং এর সুযোগ-সুবিধা দিন দিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ এর পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে পাকিস্তান কি বাংলাদেশে জঙ্গি নেটওয়ার্ক গড়ছে?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫৪


পাকিস্তানের জঙ্গি গোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈয়বার সহযোগী সংগঠন জামাত-উদ-দাওয়ার কয়েকজন নেতা দাবি করেন, হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পেছনে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এই জঙ্গি সংগঠনটির নেতা সাইফুল্লাহ কাসুরি বলেন, তারা ১৯৭১ সালে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৫১

অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !



পাথর বা গ্রানাইটে বেঁধো না তো আমার শেষ শয্যা,
নাম খোদাই করে রেখো না আমায়, দিতে একা থাকার লজ্জা।
চাই না উপাধি, চাই না তারিখ, ধূসর... ...বাকিটুকু পড়ুন

নৈতিক অবক্ষয়ের দায় কার?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৫২

ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের দায় কার?

সমাজে যখন অপরাধ বাড়ে, পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হয়, সন্তান বাবা-মাকে সম্মান করে না, মানুষ মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারায়, দুর্নীতি-প্রতারণা-সহিংসতা স্বাভাবিক হয়ে ওঠে- তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কাতুকুতু'র কাহিনীনামা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭

কাতুর সাথে কুতু দিয়ে হচ্ছো পগারপাড়,
ফের যদি আসো কাছে বলবো- 'খবরদার!'
একটু হেসে, কাছে এসে, দিচ্ছো বুঝি কাশি,
ঝুলিয়ে দাড়ি, যাচ্ছো বাড়ি, যেথায় আছেন মাসি।

তোমার সাথে, দুধে-ভাতে, গপ্প করছি কত,
তবু কেন, ঘন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×