somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মোঃ গালিব মেহেদী খাঁন
মোঃ গালিব মেহেদী খাঁন।

দেশ দুই দলে নয় মুলত দুই ভাগে বিভক্ত।

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ২:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বাংলাদেশের মানুষ রাজনৈতিক আলাপ চারিতা ভালবাসেন। রাজনৈতিক পরিচয় দিতে পছন্দ করেন। এর একটা বিশেষ কারণ হয়ত দেশকে ভালোবাসা। দেশ নিয়ে ভাবা। এরা প্রায় প্রত্যেকেই কোন না কোন দলকে সমর্থন করেন। কিন্তু সমস্যা হল তারা দলীয় দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে যেতে পারেন না।
একটি নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে বিচার বিশ্লেষণ করতে চান না। নিজের পছন্দকে প্রতিষ্ঠিত করাই প্রধান কর্তব্য বলে মনে করেন।
এই অন্ধ ভক্তির কারণেই আওয়ামীলীগ ও এন্টি আওয়ামীলীগ ছারা কোন কথা নেই। আমি এন্টি আওয়ামীলীগ বলছি এ কারণেই যে, যদিও দেশে বড় দুটি দল আছে কিন্তু দুটি আদর্শ বিদ্যমান নেই। আওয়ামীলীগের গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে বিএনপির নিজস্ব কোন মতাদর্শ নেই। যা আছে তা কেবল আওয়ামীলীগের বিরোধিতা। আর স্বাভাবিকভাবেই মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী এই দলটির বিরুদ্ধ মতাবলম্বী একটি বড় গোষ্ঠী স্বাধীনতার আগে থেকেই ছিল। ক্ষমতা কেন্দ্রিক লাভ লোকসানের বিবেচনায় মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে যার সংখ্যা প্রতিনিয়তই বেড়েছে। এদের কোন স্বাতন্ত্র্য আদর্শ নেই। মূলত আওয়ামী বিরোধী মনোভাবকে পুঁজি করেই এরা সর্বদা একটি ফানুস উড়িয়ে চলেছে। আর স্বাভাবিকভাবেই সে ক্ষেত্রে এন্টি আওয়ামীলীগদের আশীর্বাদটুকু সব সময় বিএনপি পেয়ে এসেছে।
বিএনপির কোন আদর্শ থাক বা না থাক। তাদের কোন ইতিবাচক ভাবমূর্তি থাক বা না থাক একটি বৃহৎ গোষ্ঠীর আশীর্বাদ তারা সব সময়ই পায়। আর এ কারণেই যখন তাদের কাছে জানতে চাইবেন কেন তারা বিএনপির সমর্থক তখন আওয়ামী বিরোধী কথামালা ছারা তারা আর কোন যুক্তিই দিতে পারেন না।
বিভিন্ন জরিপের ফলাফল থেকে উপসংহার টানা হয় এই বলে যে, দেশ দুই দলে বিভক্ত। এটা মোটেই ঠিক নয়। হয় জরিপ পরিচালনা কারীরা সচেতনভাবেই ভুলটি করেন নয়ত এটা তাদের একটি বড় ভুল। প্রশ্নকারীর কাছে যদি এভাবে প্রশ্ন করা হয়, আপনি কি আওয়ামীলীগকে সমর্থন করেন? হ্যাঁ বা না বলুন। তাহলে উত্তরটা এক রকম আসবে। আবার যদি প্রশ্ন করেন; আওয়ামী লীগ না বিএনপি, আপনি কাকে সমর্থন করেন। তাহলে উত্তরটি আসবে অন্য রকম।
সত্যিকার অর্থে দেশ দুই দলে নয় মুলত দুই ভাগে বিভক্ত। এক, আওয়ামীলীগ দুই, এন্টি আওয়ামীলীগ। এর সাথে আছে আরো কিছু শক্তি। যারা একেবারেই কমজোরি ফলে তারা কোন আবেদন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয় না। বরং আত্মরক্ষার্থে তাদেরকে সর্বদাই উল্লেখিত দুই ভাগের কোন এক ভাগের সাথে গিয়ে ভিড়তে হয়।
আওয়ামীলীগের বিকল্প শক্তি দেশে নেই বলেই বিএনপি তার পুরো ফায়দাটা তুলে নিতে পেরেছে। আজ যদি আরেকটি আদর্শিক শক্তির উত্থান হত বিএনপির অবস্থা ন্যাপের মতই হত।
শুনতে যেমনই শোনা যাক এ দেশে এখনো যারা পাঁচ/ছয় ভাগ জনসমর্থন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে টিকে আছেন তারা তাদের আদর্শিক কারণেই টিকে আছেন। আর বিএনপি ত্রিশ বা ত্রিশের বেশী ভাগ জনসমর্থন নিয়েও টিকে আছে কেবল এন্টি আওয়ামীলীগার বলে; অন্য কোন কারণে নয়।
আওয়ামী বিরোধী অথচ দেশপ্রেমিক এই শক্তিটি ইদানীংকালে বিএনপির দেশ বিরোধী চরিত্রটি প্রকাশিত হয়ে পরার পরে দারুণ এক দ্বান্দিক অবস্থায় পৌঁছেছে। যা নিকট অতীতে পরিচালিত বিভিন্ন জরিপেও উঠে এসেছে। সমস্যা হল তারা বিকল্প খুঁজে পাচ্ছে না।
এন্টি আওয়ামী লীগাররা এতদিন ধরে বেগম জিয়াকে আশ্রয় করে ছিলেন। আর স্থায়ী ব্যবস্থা হিসেবে কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন তারেক জিয়াকে। কিন্তু দুজনই যখন ক্রান্তিকালে এসে চরম হঠকারিতার পরিচয় দিলেন তখন তারা শেষ আশ্রয় হিসেবে বেছে নিয়েছেন জোবায়দা রহমানকে। কারণ একটাই বেগম জিয়ার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে এখন পর্যন্ত কেবল এই একজনকেই ক্লিন ইমেজের পাওয়া যায়। যদিও কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ ছারা কাউকেই সঠিক মূল্যায়ন করা যায় না তথাপিও যেহেতু তিনি এখনো পরিচ্ছন্ন পরিচয়েই আছেন কাজেই তিনিই শেষ ভরসা।

আর সে কারণেই ইদানীং একদল বেগম জিয়া-তারেক জিয়াকে রেখে জোবায়দা রহমানের বন্দনায় নেমেছেন। তা তারা নামতেই পারেন তবে এতে করে যে বিএনপির আসল দেউলিয়া পনাই ফুটে উঠছে, বোধ করি সেটি তারা অনুধাবন করতে পারছেন না।

[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ২:৫০
৫টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]

“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"

২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×