somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কিশোর অপরাধী এবং পরিবার-সমাজ-রাষ্ট্রের ভূমিকা

০৩ রা নভেম্বর, ২০১৬ সকাল ১১:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


লাইফবয় হ্যান্ডওয়াশ একটি বিজ্ঞাপনে ৮/৯ বছরের বাচ্চাদের মুখ থেকে বলাচ্ছে- রিয়ার সঙ্গে লাঞ্চ! মানে হল, রিয়া নামক বান্ধবীর সাথে দুই ছেলে বন্ধুর একত্রে লাঞ্চ একটি বিশেষ কিছু। প্রেমের প্রথম দীক্ষা বুঝি এখানেই।
এর পরেই আসুন কার্টুন চরিত্র ডোরেমন এ। যেখানে সিজুকা নামের মেয়ে বান্ধবীকে দেখে ছেলে বন্ধু নমিতা তো পাগলপ্রায়।
বাংলা সিনেমা এবং নাটকে প্রেম ছাড়া দ্বিতীয় কোন বিষয় যেন নির্মাতাদের মাথায়ই ঢোকে না।
মোবাইল ইন্টারনেটের বিজ্ঞাপন বলছে, নেট মানে চোখ খুলে পাখীটার(!) মুখ......।
বাচ্চা শিশুটিকে নিয়ে যাবেন তাদেরই জন্যে গড়া শিশু পার্কে। সেখানে উঠতি বয়সী যুবক যুবতিদের নির্লজ্জ পনা দেখে দেখে শিশুরা হয়ে পরে বিবশ।
এর সাথে আরও যোগ করুন নেশা দ্রব্যের সহজলভ্যতা এবং অবাধ ব্যবহারের সুযোগ।
আর এভাবেই এই শিশুরা কৈশোরে পদার্পণই করছে রাজ্যের বিস্ময় নিয়ে যার পুরোটাই নারী কেন্দ্রিক। আর একবিংশ শতাব্দীর মহা আশীর্বাদ মোবাইল তো আছেই। কৈশোরেও পৌঁছুতে দেয় না শিশুদের, তার আগেই হাতে উঠে যায় পর্ণ ভিডিও। আপনি 'মা' লিখে ইউটিউবে সার্চ দিন। অবাক হয়ে যাবেন কন্টেট গুলো দেখে। আপনার সন্তান হয়ত এভাবেই ঢুকে যাচ্ছে পর্ন দুনিয়ায়। অবাক বিস্ময়ে সে আসব দেখে। তার কৈশোরের নির্মল আনন্দের জায়গাটার পুরোটাই দখলে নিয়ে নেয় এক ভ্রান্ত উদ্দীপনা। শিশু নারী স্বত্বাকে দেখে আনন্দ উপকরণ হিসেবে। একক সন্তানের পরিবারে তো মা ছাড়া শিশু কোন মেয়ে সান্নিধ্যই পায় না। নারীর যে অন্যরুপ সেটা সে জানার সুযোগই পায় না। এই শিশুদের কাছে স্বাভাবিক ভাবেই নারী মানেই আনন্দ-ভোগ! কে শেখাচ্ছে? তারই অভিভাবক গন এমনকি এই সমাজ এবং রাষ্ট্র নিজেই।

আমরা শিশুর লেখাপড়া, ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করি। শিশুটির সুস্থ বিনোদন নিয়ে একেবারেই ভাবছি না। মা তার সন্তানকে নিয়ে বাসার আরাম আয়েস ছেড়ে সারাটা দিন স্কুলের সামনের ফুটপাতে বসে থাকছেন। অথচ এই সন্তানটির যে নির্মল বিনোদন চাই সেটা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন নন। আমরা শিশুদের অন্দরে একবার তাকাই না। তার ভাবনা, তার ভাল লাগা, তার আনন্দ উপকরণগুলো তার জন্য কতটা ভাল বাঃ সে তার কতটা সুস্থ ব্যবহার করতে পারছে আমরা তাও ভাবছি না। আমরা ভাবছি না সে মানুষ হয়ে উঠতে পারবে কিনা।

আমরা বলছি শিশু কিন্তু বিভিন্ন ভাবে মেয়ে শিশুদের আলাদা ভাবে চিহ্নিত করে দিচ্ছি। একটি ছেলের যেমন বাবা-ভাই-বন্ধু-অভিভাবক অনেকগুলো চরিত্র হতে পারে তেমনি একটি মেয়েরও মা-বোন-বন্ধু-অভিভাবক এ সবগুলো চরিত্রেই দেখতে পাওয়া যায়। মানুষ শব্দটার মাঝে নারী-পুরুষ একাকার। আপনি কি কখনো এটা আপনার সন্তানকে শিখিয়েছেন? অধিকার কিংবা দাবী উভয়েরই সমান। এ পৃথিবীর সকলে অর্জনে নারী-পুরুষ উভয়ের অবদান সমান, শিখিয়েছেন আপনার সন্তানকে? শেখান নি। শেখানো যে উচিৎ সেটাই হয়ত মাথায় আসেনি।
আমরা ঐশীকে দেখেছি। দেখেছি এমন অজস্র কিশোরকে যারা প্রতিনিয়ত বখে যাচ্ছে। আমরা কাকে দায়ী করি নিজের দিকে একটিবার ফিরে তাকাচ্ছি না। আপনি যখন একটি অঙ্গুলি অন্যের দিকে নির্দেশ করছেন তখন আপনার বাকি চারটি অঙ্গুলি কিন্তু আপনার দিকেই ফিরে আসছে। সে অঙ্গুলি আবার আপনাকেই ব্যঙ্গ করছে না তো?
কি অদ্ভুত! এত কিছুর পরেও এ রাষ্ট্র এ সমাজ শিশু-কিশোরদের কাছ থেকে সুস্থ আচরণ আসা করে।
আমরা কিশোর অপরাধ নিয়ে কথা বলছি। যগ সূত্র গুলো খুঁজি না, কিভাবে এক একটি শিশু অপরাধী হয়েই কৈশোরে পা বাড়াচ্ছে। কারা তাকে অপরাধী হিসেবে তৈরি করছে সেটা ভাবছি না। আমরা সুস্থ তো?

[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা নভেম্বর, ২০১৬ দুপুর ২:১৫
৫টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একান্ত ভাবনা

লিখেছেন মেহেদি হাসান শান্ত, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪০

একবার রিয়েক্টর ফিজিক্স ক্লাসে আমাদের একজন শিক্ষক বলেছিলেন, "এই দেশে আসলে সবাই সবার সঙ্গে বাটপারি করে।" কথাটা শুনে প্রথমে একটু অবাক হয়েছিলাম। কিন্তু যতদিন গেছে, চারপাশটা যতটুকু দেখেছি, ততই মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুর্ভিক্ষের আওয়াজ কি আমরা বাংলাদেশিরা শুনতে পাচ্ছি?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৪৩

মুচলেকা দিয়ে, গোপন সমঝোতা করে মীর জাফর কিংবা মীর কাসিমের মতো “কথিত ক্ষমতার” সিংহাসনে বসা যায় ঠিকই কিন্তু বসে বসে জনগণের সর্বনাশ দেখা ছাড়া তাদের বিশেষ কিছু করার থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সম্ভাবনার বন্দি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:১৮



বান্দরবান জেলা কারাগারের চারপাশে পনেরো ফুট উঁচু পাথর ও কংক্রিটের নিরেট প্রাচীর। তারও ওপরে পেঁচানো ধারালো কাঁটাতারের জাল।

বর্ষার কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে ৩ নম্বর ব্লকের সংকীর্ণ সেলে শান্ত হয়ে বসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১০

মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?
মাজার বিদ্বেষ, বাউলগান বিদ্বেষ, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আপত্তি- এরপর কিছুদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় কলেমা লেখা পতাকা টানানো; আর এখন সিলেটের বিয়ানীবাজারে ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে ঐতিহ্যবাহী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাবিতে "মব সায়েন্স" পড়তে হলে কী কী যোগ্যতা লাগে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:১৮



- রাজনৈতিক সুবিধার জন্য তৌহিদী জনতার ব্যবহার করা জানতে হবে।

- রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী চোখের সামনে থাকা সত্ত্বেও মবকে থামাতে না পারলে সেটাকে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা না বলে "জনতার শক্তি" বলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×