somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আওয়ামীলীগ যেন এবার নিজেদের গায়ে অঘোষিত শত্রুর তকমাটা না লাগিয়ে ফেলে!

১৭ ই নভেম্বর, ২০১৬ দুপুর ১:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আওয়ামী লীগের এবং তাদের সমর্থকদের মোটা দাগে একটা ধারনা আছে যারা বিএনপির সমর্থক তাঁরা সবাই জামাতি ধ্যান ধারনার মানুষ। এমনকি তাদের মধ্যে কোন ভাল মনের মানুষই নেই। ধারনাটা একেবারেই সঠিক নয়।
আওয়ামীলীগের প্রতি বিতৃষ্ণার অনেক কারণই আছে যা থেকে একজন মানুষ বিএনপি সমর্থক হয়ে উঠতেই পারেন। এমন কি স্থানীয় নেতৃত্বেও আসতে পারেন এটা পৃথিবীর অষ্টম আশ্চর্য কেন হবে? আমি ছাড়া দুনিয়ার সব খারাপ বরং এই ধারনাটাই তোঁ সৃষ্টি ছাড়া।
তাদের এখান থেকে বেড়িয়ে আসতে হবে। বাংলাদেশ আওয়ামী লিগ বিএনপি দুই শিবির থেকে ক্রমশ দুই জাতীতে বিভক্ত হয়ে যাচ্ছে। এটা না দেশের জন্য, না দুই দলের জন্য কারো জন্যেই মঙ্গল বয়ে আনবে না।

এখন আমি যদি বলি আওয়ামীলীগ সামান্য মূল্যে তাঁর সমর্থনের সনদ বিক্রি শুরু করেছে জামাতিদের কাছে, একদিন যার চড়া মূল্য দিতে হবে এ দেশের মানুষকেই। তাঁরা কি অস্বিকার করতে পারবেন? ঝালকাঠি তাঁর অন্যতম উদাহরণ। যেখানে প্রকৃত আওয়ামীলীগের চেয়ারম্যানকে হটিয়ে নতুন আওয়ামী চেয়ারম্যানকে মনোনয়ন দেয়া হল। আর তাঁর প্রথম কাজটিই ছিল পূর্বের চেয়ারম্যান কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত শহরের একমাত্র বিনোদন কেন্দ্রটিতে লাগানো বঙ্গবন্ধুর মুড়ালটি ভেঙ্গে ফেলা। অযত্ন অবহেলায় পার্কটিকে ব্যবহার অনুপযোগী করে তোলা।
আর আজ এতদিন পরে এসে দেখলাম ২৫০ বছরের পূড়াতন কালি মন্দিরে প্রতিমা ভাংচুরের ঘটনা। আরেকটি উদাহরণ দেই, বরিশাল থেকে ঝালকাঠি যাবার পথে একটি স্থানের নাম ছিল শ্রীরামপুর। সেই স্থানে নতুন সব সাইন বোর্ড উঠেছে যেখানে জায়গাটির নতুন নামকরণ করা হয়েছে ইসলামপুর। কাজটি নিশ্চয়ই ঘোষিত বিএনপি-জামাত করেনি। করেছে অঘোষিত আওয়ামী জামায়াত। অথচ এই ঝালকাঠি ছিল অসাম্প্রদায়িকতার এক অনন্য উদাহরণ স্বরূপ। এর দায় কি আওয়ামীলীগকে নিতে হবে না? সমস্যার মুলে যাবার চেষ্টা করুন। নির্মোহ হন।
জামায়াতের জীবাণু বিএনপিকে শেষ করে দিয়েছে এখন তাঁরা আওয়ামীলীগের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বাসা বেধেছে। আর তাঁরা ইতিমধ্যেই তাদের কর্মকাণ্ডও শুরু করে দিয়েছে। নিজের বিরুদ্ধে লড়ে যাওয়ার ক্ষমতা আওয়ামীলীগ এখনো অর্জন করতে সক্ষম হয়নি। আদৌ কোনদিন তাঁরা সে কাজটা করতে পারবে বলেও তো মনে হচ্ছে না। এমন কোন উদাহরণ তাঁরা এখনো দেখাতে পারেনি। কাজেই সামনের সময়টা দুর্যোগের!
মানুষ তো আর অমর নয়, আমরা যতই কামনা করি এটাই দুর্ভাগ্যজনক সত্যি যে, জীবন চক্রের অমোঘ নিয়মে এক সময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকেও থামতে হবে। আর শেখ হাসিনা পরবর্তী সে সময়ের বাংলাদেশ যে সিরিয়া পরিস্থিতির স্বীকার হবে না তারই বা নিশ্চয়তা কি? সে পরিস্থিতি রোধের একমাত্র উপায় হল আওয়ামীলীগ ও তার সকল অঙ্গ সংগঠনকে শতভাগ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আদর্শে চলা। যা কখনোই শুদ্ধিকরণ ছারা সম্ভব নয়।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কি দলের মধ্যে শুদ্ধি অভিযান চালাবেন নাকি তাঁর পরবর্তী সময়ের জন্য একটি অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশ রেখে যাবেন সেটা তাঁর সিদ্ধান্ত। তবে আমরা সাধারণ মানুষ ভয়াবহ এক সময়ের আশঙ্কায় আতঙ্কিত!
আমাদের এটা ভুলে গেলে চলবে না যে, অসাম্প্রদায়িকতাই বাঙ্গালী জাতিসত্তার একমাত্র রক্ষাকবচ। সাম্প্রদায়িকতার সাথে বাংগালীয়ানা বেমানান। আপনি সাম্প্রদায়িক হবেন না বাঙ্গালী রবেন সেটা আপনার বিবেচ্য। তবে এটাও মনে রাখবেন সাম্প্রদায়িকতার দ্বিতীয় ধাপ ভ্রাতৃঘাতি হওয়া আর শেষ ধাপ কিন্তু আত্মঘাতী হওয়া। সে পথ থেকে এখনই ফিরে আসুন নয়ত সাধারন মানুষই আপনাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে। বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারকে ভালোবাসি তাঁর মানে এই নয় আওয়ামি জামায়াতকেও সমর্থন দেব। প্রশ্নই আসে না।
ঘোষিত শত্রুর থেকে অঘোষিত শত্রু অনেক বেশি ভয়ংকর সেটা আমরা জানি। আপনারা সেই অঘোষিত শত্রুর তকমাটা লাগাবেন না দয়া করে। পালানোর পথও খুজে পাবেন না।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই নভেম্বর, ২০১৬ দুপুর ১:৫১
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন থেকে যারা আওয়ামী লীগকে ভালোবাসেন এখন তাদেরকে আওয়ামী লীগের প্রয়োজন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০



ক্ষমতায় গেলে কোন দল যাদেরকে মনে রাখে না ক্ষমতায় গেলে তাদেরকেই তারা সবচেয়ে বেশী মিস করে। সেই নিখাঁদ দল প্রেমিকদেরকে এখন আওয়ামী লীগ খুঁজছে। তারা লগি বৈঠা নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

একুশটি বার মৃত্যুর মুখোমুখি: এক অবিনশ্বর সংগ্রামের নাম শেখ হাসিনা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩২


একুশটি বার মৃত্যুর মুখোমুখি: এক অবিনশ্বর সংগ্রামের নাম শেখ হাসিনা
শুধু ২১ আগস্টের সেই ভয়াল গ্রেনেড হামলাই নয- বঙ্গবন্ধুকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে ১৯৮৮ সাল থেকে আজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন লা-মাযহাবিকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার কারণ কী ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৩২


আজকে নতুন চারটি মুখ মন্ত্রিসভায় যুক্ত হলো। এর মধ্যে একজনকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে । বলছি ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকনের কথা। তিনি একজন লা মাযহাবি বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুর্ভিক্ষের আওয়াজ কি আমরা বাংলাদেশিরা শুনতে পাচ্ছি?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৪৩

মুচলেকা দিয়ে, গোপন সমঝোতা করে মীর জাফর কিংবা মীর কাসিমের মতো “কথিত ক্ষমতার” সিংহাসনে বসা যায় ঠিকই কিন্তু বসে বসে জনগণের সর্বনাশ দেখা ছাড়া তাদের বিশেষ কিছু করার থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×