
ব্যবসায়ীর ব্যবসা নেই, মাথার উপর দায়!
চাকুরী জীবীর চাকুরী নেই, মাথার উপর সংসারের বোঝা!
শ্রমিকের কাজ নেই, হাতে টাকা নেই।
চারিদিকে করোনা আতঙ্ক কখন যেন আক্রান্ত হয়ে পরি!
সারাক্ষণ ঘরে থেকে থেকে এক ঘেয়েমীতে পেয়ে বসেছে।
সব মিলিয়ে এই মুহূর্তে আসলে আমরা কেউই ভাল নেই। আর এই যে ভাল নেই এর ফলে সংসারে অশান্তি চরম আকার ধরন করেছে, টেনশনে উচ্চ রক্ত চাপ সহ নানাবিধ শারীরিক জটিলতা দেখা দিচ্ছে। এক কথায় বলতে গেলে আমরা খারাপ একটা সময়ের সাথে এগোচ্ছি খুব খারাপ এক সময়ের দিকে। কিন্ত এরই মধ্যে গুটি কয় লোককে দেখতে পাই ইর্ষনীয় সুখে আছেন তারা। এই একই সমস্যা গুলোয় জর্জরিত থেকেও তারা দারুণ নির্লিপ্ত-নির্ভার জীবন যাপন করছেন। কি করে সম্ভব! তাদের এই সুখে থাকার সুত্রটাই বা কি?
ভীষণ সোজা, আর তা হল। স্রষ্টার দিকে ফিরে যাওয়া। আমরা দুনিয়া নিয়ে এত বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম যে, এ জীবনটা যে একেবারেই ঠুনকো তা ভুলেই গিয়েছিলাম। আমরা ভুলেই গিয়েছিলাম আসলে মানুষের ক্ষমতা ভীষণ সীমিত। একটা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অণুজীবের কাছে তাবৎ পৃথিবীর মানুষকে অসহায় করে দিয়ে মহান আল্লাহ মানুষকে আরেকবার একদিকে তার ক্ষমতার ব্যাপ্তি বুঝিয়ে দিলেন অন্যদিকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন মানুষ কত নগন্য। কত সীমিত তার ক্ষমতা।
মহান আল্লাহ সুরা সাজ দাহ'র একুশ নম্বর আয়াতে বলেন “কঠিন শাস্তির পূর্বে আমি তাদেরকে হালকা শাস্তি আস্বাদন করাবো, যাতে তারা প্রত্যাবর্তন করে।” হ্যাঁ এই প্রত্যাবর্তনই আমার আলোচ্য বিষয়। যারা এই আয়াতের মর্মার্থ উপলব্ধি করতে সক্ষম হন তারাই এই বিপদে ধৈর্য ধারণে সক্ষম হন; আর তারাই নির্ভার থাকেন।
আমরা বিশ্বাস করি মৃত্যু নির্ধারিত। নির্ধারিত তার নির্দিষ্ট সময়, নির্দিষ্ট স্থান এবং নির্দিষ্ট ক্ষণ অতএব মৃত্যু ভয়ে ভিত না হয়ে আমাদের ভিত হওযা উচিত মৃত্যু পরবর্তী সময়ের জবাবদিহিতা নিয়ে। যা আমাদের নিয়ে যাবে ইবাদত গৃহে। সকল ভুল, সকল অন্যায় থেকে আমাদের দূরে সরিয়ে নিবে। একই সাথে আমাদের মন শান্ত হবে,আমরা দুশ্চিন্তা মুক্ত হতে পারব।
আমরা সর্বোচ্চ সাবধানতা অবলম্বন করব সুস্থ থাকার, তারপরে তাওয়াককুল করব একমাত্র স্রষ্টার উপর।
আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব ভাল থাকার, তারপরে তাওয়াককুল করব একমাত্র স্রষ্টার উপর।
আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব ইবাদত বন্দেগীতে রত থাকার, তারপরে তাওয়াককুল করব একমাত্র স্রষ্টার উপর।
আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস থাকতে হবে যে, আমাদের সুস্থতা আমাদের হাতে নেই, আমাদের রেজেক আমাদের হাতে নেই, আমাদের ভাল থাকাও আমাদের হাতে নেই। এর সবটাই মহান আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত। তিনি চাইলে আমরা সুস্থ থাকব, ভাল থাকব, শান্তিতে থাকব। মহান আল্লাহ তার বান্দাদের বলেছেন, সর্বোচ্চ চেষ্টা করে তার উপরে তাওয়াককুল করতে। আমরা সেটাই করব। একমাত্র এই বোধোদয়ই পারে আমাদের নির্ভার থাকতে।
করোনা ভাইরাসের এই সময়ে পৃথিবীর অসংখ্য মানুষ হেদায়েত প্রাপ্ত হয়েছে। মহান আল্লাহ সেই সব হেদায়েত প্রাপ্তদের সাথে আমাদেরকেও হেদায়েত দান করুন এবং হেদায়েতের উপরেই রাখুন। শেরকমুক্ত ইমান নিয়ে মৃত্যু দান করুন। শেরকমুক্ত ইমান নিয়ে মৃত্যু একজন মানুষের জন্য সবথেকে বড় প্রাপ্তি। মহান আল্লাহ আমাদের তার অনুগ্রহ প্রাপ্ত বান্দাদের সাথে শামীল করুন, আমীন।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জুন, ২০২০ রাত ৯:৪৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


