somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রথম ভালবাসা

১৯ শে মার্চ, ২০১৬ রাত ১:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সাদিয়ার সাথে পরিচয়টা ফেসবুক নামক ভার্চুয়াল জগত থেকেই। একটা কমেন্ট নিয়ে আমাদের ঝগড়া হয়। কমেন্ট বক্সে চলতে থাকে আমাদের তুমুল আকারের ঝগড়া। এরপর ইনবক্সে শুরু হয় আমাদের ঝগড়া। আমাদের ঝগড়াটা দেখলে মনে হবে চার নাম্বার বিশ্বজুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। রাত ১২/১ টা পর্যন্ত ঝগড়া চলত। তারপর সে রাতের জন্য বিরতি। পরদিন সন্ধ্যা থেকে আবার শুরু হত। এভাবে চলল, ৪ দিন। এরপর ওর কোন খোঁজ নেই। প্রথমে ভাবলাম মেয়েটা হার মেনে নিয়েছে। ৩-৪ দিন পাড় হয়ে গেল, ওর কোন খোঁজ নেই। কেন যেন চিন্তা হতে লাগল। মেয়েটার কিছু হল না তো আবার? ৯ দিন পর মেয়েটাকে অনলাইনে পেলাম। আমিই প্রথমে ম্যাসেজ দিলাম, " কি ব্যাপার? কই ছিলা এতদিন? দেখলাম না যে? " কোন রিপ্লাই নাই। ১৭ মিনিট পর রিপ্লাই আসল। " আমি ইকটু অসুস্থ ছিলাম, তাই আসতে পারি নি। " এভাবেই শুরু হল আমাদের কথা। ঝগড়া থেকে আমাদের ফ্রেন্ডশিপ হয়ে গেল। শুরু হল আমদের কথাবার্তা। আমরা যেই ফেসবুকে আসি না কেন, ম্যাসেজ দিয়ে রাখতাম। তারপর চলত আমাদের আড্ডা। সাধারণত আমাদের আড্ডা শুরু হত সন্ধ্যার পর থেকে। রাত জেগে কথা চলত আমাদের। এভাবে প্রায় ৪মাস কেটে গেল।
একদিন বিকেলে মনে হল সাদিয়ার কাছে ওর ফোন নাম্বারটা চাই। কতদিন আর ফেসবুকে কথা বলব? এখন একটু ফোনে কথা বলে দেখি! জানি, ও না করবে না। কারন ততদিনে আমাদের বন্ধুত্বটা অনেক গভীর হয়ে গেছে। তবুও কেন যেন ভয় করতে লাগল। তবুও ভয়ে ভয়ে নাম্বারটা চাইলাম। ও আর না করল না। নাম্বার দিয়ে দিল।


সন্ধ্যার দিকে ফোন দিলাম। ৩ মিনিট ৩৭ সেকেন্ড কথা বললাম। আরও কথা বলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আর কি বলব খুঁজে পেলাম না। সেদিনের মত কথা শেষ দিলাম। কথা শেষ হবার পর মনের ভিতর একটা ভাল লাগা কাজ করতে লাগল।

রাত তখন ১১ টা ছুই ছুই করছে। আমার ফোনে একটা ম্যাসেজ। সাদিয়ার ম্যাসেজ। রিপ্লাই দিলাম। চলতে লাগল আমাদের ম্যাসেজ ম্যাসেজ খেলা। এরপর থেকে আমাদের মাঝে ফোনে কথা কম হত, ম্যাসেজ চলত বেশি। আর এই ম্যাসেজের কোন নির্দিষ্ট সময় ছিল না। সকাল থেকে আমাদের ম্যাসেজ শুরু হত, আর শেষ হত অনেক রাতে। আমরা সব কথা শেয়ার করতাম। আমাদের মাঝে মনে হয় কোন কথাই লুকায়িত ছিল না। অনেক সময় দিনে কথা হত না আমাদের। কিন্তু রাতে কথা হতই। সারাদিন কি কি করলাম, কিভাবে কাটালাম, এসব শেয়ার করতাম রাতে। আর করতাম ইচ্ছে মত ঝগড়া। মনে হত আমাদের ঝগড়াটা কনদিন শেষ হবে না। সারাজীবন এভাবেই চলবে। আমরা ভাল বন্ধু হয়ে গিয়েছিলাম। এভাবেই চলছিল আমদের দিন। বলতে গেলে খুব ভালই কাটছিল আমার দিনগুলি।

ফেসবুকে, সাদিয়া ওর ফ্রেন্ডদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। হুমমম...ও খুব ফ্রি মাইন্ডের মেয়ে ছিল। হয়ত এই কারনে ওর সাথে কথা বলতে আমার ভাল লাগত।

হুমায়ুন স্যার বলেছিলেন, "একটা ছেলে আর আর একটা মেয়ে কখনোই ভাল বন্ধু হতে পারে না। আর যদি ভাল বন্ধু হয়েও যায়, তাহলে সেটা প্রেমে পরিনত হবে।"
মনে হয় কথাটা আমার উপর প্রযোজ্য। আমাদের কথাটা এতই বেড়ে গিয়েছিল যে, ধীরে ধীরে ওর উপর দুর্বল হয়ে পড়ি।

( চলবে......... )



[ এই ব্লগে এটাই আমার প্রথম ব্লগ। ভাল লাগলে অবশ্যই জানাবেন। পরবর্তীতে যেন লেখতে পাড়ি। ]




সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে মার্চ, ২০১৬ রাত ১:৪১
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শুধু টুথপেস্ট নয়—মোড়ক ছেঁড়ার মুহূর্তেই ছড়াচ্ছে মাইক্রোপ্লাস্টিক

লিখেছেন মুনতাসির, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩০

টুথপেস্ট নিয়ে আলোচনা সবে শুরু হয়েছে, কিন্তু বাস্তবতা আরও অনেক বড়। আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রায় প্রতিটি সিন্থেটিক পণ্যই এখন মাইক্রো বা ন্যানোপ্লাস্টিক তৈরি করতে পারে—এমনকি একটি চিপসের প্যাকেট ছেঁড়ার মুহূর্তেও,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কারো নামে মিথ্যা অপবাদ কাম্য নয় তবে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩৯


ঘটনাটি মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের এবং তার সঙ্গে থাকা এক সাংবাদিক বন্ধুকে ঘিরে। পরিবাগ ওভারব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় ট্রান্সজেন্ডার বা হিজড়া জনগোষ্ঠীর কয়েকজনের সঙ্গে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কী-বোর্ড কাহিনী: ডেল কেবি২১৬

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:০০


আমি ১৯৯৬ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কী-বোর্ড ব্যবহার করছি। দেশে থাকতে কী-বোর্ড তেমন প্রয়োজন পড়েনি। মাঝে মধ্যে কেনা হতো। একবার বাংলা লিখার জন্য "বিজয়" সফটওয়্যারের প্রলোভনে, বিজয় এর... ...বাকিটুকু পড়ুন

নদী হত্যায় সম্ভবত আপনিও জড়িত

লিখেছেন অপলক , ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:০৪

আপনি আমি প্রত্যাক্ষ পরোক্ষ ভাবে নদীকে হত্যা করি। হয় রাতারাতি বা তিলে তিলে। কিন্তু কিভাবে, সেটাই দেখাবো।



সবার আগে জানা দরকার কোন জলাশয় বা জলাধারকে নদী বলব?

দুনিয়ার বিভিন্ন... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘সবচেয়ে কঠিন’

লিখেছেন আবু সিদ, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:১৫


আমি সাদ। আমার বয়স ১৭ বছর। আমি ক্লাস টেনের ছাত্র। আমার ক্লাসের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর বয়স ১৫ বা তার আশপাশে। আমারও ১৫ বছর বয়সে ক্লাস টেনে থাকার কথা ছিল। কিন্তু আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×