somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সাইকো

০৮ ই মে, ২০১৮ রাত ১০:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মাঠে তাজা বাতাস, হাতে সিগারেট...ভালই লাগছে৷
নাহ, সবই আগের মতই আছে৷ কিছুদিন আগে সাদিয়ার সাথে দেখা করে আসলাম৷ মেয়েটা অনেক ভাল৷ মিশুক৷
কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে ওর অনেক পরিবর্তন দেখছি৷ এটা আমার ভাল লাগে নি৷ সাদিয়ার সাথে আবার দেখা
করতে হবে৷
কিন্তু......

সাদিয়াকে কে যেন খুন করেছে৷ ইসস..কি নির্মম৷
সাদিয়ার সবচেয়ে আকর্ষনীয় ছিল ওর চোখ৷ সব ছেলে ওর চোখের প্রেমে পরত৷ আমিও পরেছিলাম৷
ওর ডান চোখে সুই দিয়ে অনেক্ষন খোচানো হয়েছিল৷ রক্ত পরছিল, কিন্তু খোচানো বন্ধ হয় নি৷ খুচিয়ে খুচিয়ে ডান
চোখটা বের করে ফেলল৷ চোখটা ঝুলে রইল৷ চোখটার এমন অবস্থা হয়েছিল, কেউ বলতে পারবে না, এটা কোন
এক ললনার চোখ৷ এরপর বাম চোখের দিকে হাত বাড়ালো৷ সাদিয়া তখন অনেক চিৎকার করছিল৷ কি যেন মনে
হল, চোখ থেকে হাত সরিয়ে নিল৷
সাদিয়া অবশ্য পরে বুঝেছিল, পরে কি হবে সেটা দেখানোর জন্য ওর বাম চোখটা কিছু করেনি৷ সাদিয়ার
চিৎকারটা কেন যেন অসহ্য লাগছিল৷ খুনি পকেট থেকে জং ধরা একটা ব্লেড বের করল৷ জিব টান দিয়ে বের
করল৷ জিব বের করতে অনেক কষ্ট হচ্ছিল৷ জিব বের করে ব্লেড দিয়ে কাটল৷ এই ব্লেড দিয়ে কাটা যাচ্ছিল না৷
সাদিয়া অনেক কষ্ট পাচ্ছিল৷ আর খুনিটাও অনেক নির্মমভাবে জিব কাটছিল৷ যেন আরও বেশি কষ্ট পায়৷
খুনিটার মখে এক চিলতে নির্মম হাসি৷
সাদিয়া উ..উ..উ ছাড়া কোন শব্দ করতে পারছে না৷
খুনিটা...সেই কখন থেকে খুনি খুনি করছি৷ খুনি শব্দটা কেমন যেন৷ খুনিরও তো একটা নাম আছে৷ নামটা যেন
কি....
ওহ, মনে পরেছে৷ অরণ্য।
অরণ্যের কাছে সাদিয়ার হাসিটা অনেক ভাল লাগত৷ মনে হয় মুক্ত ঝরছে৷ ব্যাগ থেকে নতুন কেনা প্লাস বের করল৷
প্লাস দিয়ে একটা একটা দাত তোলা শুরু করল৷ একটু পরেই সাদিয়া নিশ্চুপ হয়ে গেল৷ কোন শব্দ করছে না,
নিথর হয়ে পরে আছে৷ অজ্ঞান হয়ে গেছে৷ পানির ছিটা দিয়ে জ্ঞান ফিরাল৷ সাদিয়া সব কিছু ঝাপসা দেখছে৷
চোখ, মুখ অনেক ব্যাথা করছে৷ চোখ দিয়ে এখন রক্ত পরছে না৷ অরণ্য ব্যান্ডেজ করে দিয়েছে৷ সাদিয়া কিছু বলার
চেষ্টা করছে, কিন্তু কিছু বলতে পারছে না৷ অরণ্য কাছে আসল৷ হাতে সেই জং ধরা ব্লেড৷ সাদিয়ার সামনে হাটু গেড়ে
বসে পরল৷ হাতটা শক্ত করে ধরল৷ ব্লেড দিয়ে হাতের নখ গুলো কাটা শুরু করল৷ একটু কেটে আস্তে আস্তে টান
দিয়ে তুলে ফেলে৷ একে একে সব গুলো নখ তুলে ফেলল৷ অঝোরে রক্ত ঝরছে৷ হঠাৎ কানের দিকে নজর পড়ল৷
হীরের দুল৷ চিক চিক করছে৷ এটা ওখানে মানায় না৷ দুল ধরে টান দিল৷ দুল হাতে এসে পরল৷ এবার প্লাস দিয়ে
কান টেনে টেনে ছিড়ল৷ অনেক ছটফট করছে৷ দেখে মনে হচ্ছে অনেক চিৎকার করছে৷ বাম চোখ দিয়ে পানি
পড়ছে৷ অরণ্যের সহ্য হচ্ছে না৷ চোখের ভিতর আঙ্গুল ঢুকিয়ে দিয়ে বাম চোখটাও বের করে ফেলল৷ সাদিয়ার মধ্যমা
আঙ্গুলে আংটি ছিল৷ বের করার জন্য অনেক চেষ্টা করল৷ শক্ত হয়ে লেগে আছে৷ এবার আঙ্গুল কাটা শুরু করল৷
একটা আঙ্গুল কাটার পর মনে হল বেমানান লাগছে৷ সব গুলা কাটা দরকার৷ হাতে পায়ে একটা আঙ্গুল রাখল না৷

কি মনে করে যেন চোখ, আঙ্গুল, কান আর জিব একটা কাচের বাক্সে আলাদা করে রেখে দিল৷
সাদিয়া ধীরে ধীরে নিস্তেজ হচ্ছে৷ অরণ্য ওঠে দাড়াল৷ মুখে কয়েকটা ঘুষি৷ বলতে লাগল, " প্লিজ সাদিয়া, ঘুমাবা না
তুমি৷ এখনো তোমাকে অনেক কিছু দেখানোর বাকি
এরপর মুখের উপর আরও কয়েকটা ঘুষি৷
নাহ, কিছুই হল না৷ অরণ্য এবার রেগে গেল৷ ব্যাগ থেকে ছুড়ি বের করল৷ চালিয়ে দিল সাদিয়ার গলায়৷ দুইবার নড়ে
ওঠল৷ এরপর আবার নিস্তেজ৷ শ্বাস চলছে না৷ তার মানে মরে গেছে!!! কিন্তু ওকে তো মারতে চায় নি৷ সবাই জেনে
গেলে কেলেংকারি হয়ে যাবে৷ লাশটা কে গুম করতে হবে৷
লাশটা কে পিছ পিছ করা শুরু করল৷ এখন আর কেউ বুঝতে পারবে না৷ এটা কে! লাশটা পিছ পিছ করা হলে
একটা ব্যাগে ভরে রেখে চলে যায়৷
ছেলেটা আসলেই একটা সাইকো৷

সাদিয়া নেই তো কি হয়েছে৷ রেহান তো আছে৷ ওর সাথে কথা বলে আসি৷ রেহান সেই ভাগ্যবান ছেলে, যার বন্ধুত্ব
আমার সাথে৷ আর আমিই রেহানের সাথে সাদিয়ার রিলেশন করিয়ে দিয়েছিলাম৷
আর এটা ছাড়া কি করব৷
সাদিয়াকে প্রথম আমি প্রপোজ করছিলাম৷ অনেকদিন ঘুড়িয়েছিল আমাকে৷ তারপর রিজেক্ট করে দিল৷
এরপর শুনি রেহান সাদিয়াকে পছন্দ করে৷ অনেক রাগ হয়েছিল ওর কথা শুনে৷ ওর কথা ফেলতে পারি নি৷
হাজার হলেও বন্ধু আমার৷

রুমে গিয়ে দেখি রেহান ঘুমাচ্ছে৷ ওকে আর জাগালাম না৷ ওর সামনে একটা কালো রঙের ব্যাগ, আর একটা
কাচের বাক্স রাখলাম৷
এখন রেহানের পালা.......
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মে, ২০১৮ রাত ১০:৫১
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"বন্যরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে"-.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৪০




"বন্যরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে"- বাংলা সাহিত্যের এই বহুল পরিচিত পঙ্‌ক্তির মর্মার্থ আমরা সবাই জানি। তবে মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা, বিশেষ করে শিশুদের প্রতি স্বতঃস্ফূর্ত স্নেহ ও আন্তরিকতারও... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিথ্যে বলতে পারি না

লিখেছেন স্প্যানকড, ২৮ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


ছবি নেট


মিথ্যে বলতে পারি না,
আজও আমি স্পষ্ট দেখি
ঘরের মেঝেতে এক টুকরো রোদ
জানি না কী করে যেতে হয় ভুলে
পুরনো সব রোগ
সেই ভালো হতো যদি মিশে যেতাম স্রোতে।

মিথ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেন নিজে নিজে এআই দিয়ে, নেট ঘেটে ডাঃ জাহাঙ্গীর কবির স্যারের সব সত্যতা পাচ্ছে...!

লিখেছেন লিংকন বাবু০০৭, ২৮ শে জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৬

বারডেম সহ সকল ডাক্তারদের উচিত নন কমিউনিকেবল ডিজিজ গুলো বেশি বেশি ঔষধ দিয়ে, ছয় বেলার জায়গায় দরকার হলে আরো কয়য়েক বেলা মুড়ি, বিস্কুট, খই এর সাথে আরো কিছু যোগ করে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেবদাস, কালজয়ী উপন্যাস এবং চিত্রনাট্যের পটভূমি

লিখেছেন মেহবুবা, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:২৮


প্রথম ১৯২৮ সনে নির্বাক "দেবদাস" মুক্তি পায় ফনী বর্মা এবং তারকবালা অভিনীত ছিল সেটি। এরপর প্রমথেশ বড়ুয়া এবং যমুনা বড়ুয়া অভিনীত সবাক দেবদাস মুক্তি পায় ১৯৩৫ সনে। তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে হৃদয় বিলিয়ে দেয়, বিশ্ব চরাচরে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:৪৩




যে হৃদয় বিলিয়ে দেয়, বিশ্ব চরাচরে
শান্ত গৌরবে, সেই আত্মারা কোথায় বেঁচে রয়।
দয়ার প্রতিটি বীজ সর্ন্তপণে বপন করা হয়,
সপ্তাকাশে উজ্জ্বল ফসল তবে অবধারিত রয়।

সাত আকাশের চরাচরে , ছায়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

×