১৯৮৯ এর জুলাই আমার প্রথম সন্তান এর স্কুলের বেতন দেই। দুরু দুরু বুকে, কত আশা -দুরাশার দোলাচলে। ছেলে ভাল করবে তো? প্রতিটি পরীক্ষায় প্রথম হবে তো? না হলে কি লজ্জার হবে তা (নিজে যদিও কখোনই হইনি)! আরো কত কি!
আজ আমার কনিষ্ঠ সন্তানের শেষবারের স্কুলের বেতন দিয়ে এলাম। কনিষ্ঠ কি করবে না করবে, আদোই করার কোন প্রয়োজন আছে কিনা তা নিয়ে এখনকার চিন্তাটা দার্শনিক ধাঁচের .....................
১৯৬৭! পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার নিরিবিলি নামে একটা বাসায় সবে উঠেছি। নয় জন সদস্যের বিশাল পরিবার। বাবা বাড়ি মাথায় তুলেছেন। চিলে কোঠার এক চিপায় কে যেন পেন্সিল দিয়ে ছোট্ট একটা দাগ কেটেছে। আমরা সবাই জানি কার অপকর্ম এটি। কিন্তু ভাই বোনেরা হল একদল -নির্যাতিত। বাবা আরেক দলের -নির্যাতক, স্বৈরাচারী। তাই ঘন্টা খানেকের ভয় ভীতি, কঞ্চির বাড়ি কিছুই বের করতে পারলো না কার অপরাধী কে।
১৬ বছর পরের কথা। বাড়ির কনিষ্ঠতম সন্তান সদ্য রঙ করা বসার ঘরের বিশাল দেয়ালের প্রায় পুরোটা জুড়েই আঁকিবুঁকি কেটেছে।
বাড়ির পরিবেশ থমথমে। ভয়, দুঃশ্চিন্তায় সবার অবস্থা যাচ্ছেতাই। বাবা বাসায় ফিরে না জানি কি করে বসেন।
বেশ রাত করে এক বন্ধু সহ বাবা ফিরলেন।
বসার ঘরের দেয়ালের দিকে তাকিয়েই খুশীতে উদ্ভাসিত হলেন তিনি। বন্ধুকে টেনে নিয়ে গিয়ে উত্তেজিত গলায় বললেন- দ্যাখ দ্যাখ, আমার ছেলে কি সুন্দর গরু এঁকেছে।
প্রায় সব বাড়ির, সব বড় সন্তানদের ওপর এমন স্ট্রিম রোলার চলে কেন?
বিধাতার একি বিচার?
_____________________________________________________
স্কুলের সাথে ২৫ বছরের সম্পর্ক চুকিয়ে এলাম।
কেমন কেমন লাগছে যেন। ঠিক বোঝাতে পারছিনা।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা এপ্রিল, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




