এই পৃথিবীতে কত্ত হাজার রঙের মুখোশ পরা মানুষ আছে, সেটা এক মাত্র স্রস্টাই ভালো জানেন।।
মূল ঘটনায় আসা যাক,,,,
বাসে করে কুমিল্লা থেকে বাসায় ফিরতে ছিলাম, কিছু দূর আসার পর বাসের হেলফার আইসা আমার কাছে ভাড়া চাইল। তো আমি গাড়ি ভাড়া দেওয়ার জন্য বেক পকেটের মানিব্যাগটা বাহির কইরা দেখি, ৫০০ টাকার দুইটা নোট।
একটা খুচরা টাকা ও নেই। (কি আজব ব্যপার, এরকম পরিস্থিতিতে আমি কখনোই পরি নাই আগে)
তাই বাধ্য হয়েই তাকে ৫০০ টাকার নোটটা দিলাম,
-কি ব্যাপার ভাই? ৬০ টাকার ভাড়ার জন্য আপনি ৫০০ টাকার নোট দিচ্ছেন কেন?
-আরে ভাই, খুচরা থাকলে ত খুচরাই দিতাম, খুচরা এক আনা ও নাই, এই দেখো...
এই বলে আমি আমার মানিব্যাগটা দেখালাম।
এরপর সে আর কোনো কথা না বলেই টাকাটা নিল, আর বল্লঃ টাকাটা ভাংতি হলেই আপনার বাকি টাকাটা আপনাকে দিয়ে দিব।
আমি তখন শুধুই হ্যাঁ সূচক মাথাই নাড়ালাম।
গড়ি চলছে....
আর আমি ও হেডফোনে গান শুনতেছি...
আর পথে কত্ত মানুষ উঠানামা করতেছে, তাদের দেখছি...
এরপর প্রায় ঘন্টা খানেক পর, যখন আমি আমার গন্তব্যের বেশ কাছাকাছি চলে আসছি তখন হেলফারকে বল্লামঃ -ভাই আমার টাকাটা?
কোনো উত্তর নাই, মনে হয় শুনে নাই,
তাই আবার বল্লামঃ -ভাই আমার বাকি টাকাটা দেও!
দেখলাম ছেলেটা রিতিমত টাস্কি খাইয়া আমার দিকে হা কইরা তাকাই আছে,, আর বল্লঃ
-কিসের টাকা আপনার?
-মানে কি? ভাঙানোর জন্যে যে ৫০০ টাকা দিলাম সেটা?
-ওও আচ্ছা, মনে পড়েছে। সেটা আপনি ছিলেন না?
-কে কোনটা আমি? তোমারে ও কি ভূতে পইল নাকি?
-না ভাই, আমি শেষ! আমি আপনি মনে করে আরেক জনকে আপনার ৫০০ টাকা ভাংতি দিয়া দিছি।
এরপর দেখলাম বলতে বলতে ছেলেটা কেঁদেদিলো,
ভালো কইরা খেয়াল কইরা দেখলাম, তার পরনে একটা ছিঁড়া পেন্ট আর ছিঁড়া জুতা, দেখেই মায়া হলো।
এরপর ছেলেটা বল্লঃ ভাই আমার ৩ দিনের বেতন/ পরিশ্রম সব শেষ। এরপর আমার মালিকে শুনলে আমার চাকরিটা ও শেষ করে দিবে , দয়াকরে বইলেন না ভাই।
আমি আর কি বলব! ও দেখতেছি আমাকে ৪৪০ টাকা ফিরত দিচ্ছে, তা থেকে আমি ভাংতি ৪০ টাকা নিয়ে, বাকিটা তাকে দিয়ে বল্লামঃ
-এটা দিয়ে দুদিন চলবে তোর! রেখে দে....
ছেলেটা টাকাটা নিয়ে অশ্রুসিক্ত নয়নে আমার দিকে হা করে তাকিয়েই থাকল, শুধু.....
এরপর গাড়ি থামালে আমি নেমে পড়ি,
বাসায় আসার পর থেকে শুধু একটা কথাই ভাবতেছি,,
ছেলেটা যাকে ভুলে এত্তগুলো টাকা দিয়ে দিলো, সে কি আসলে মানুষ ছিল? নাকি কোন মুখোশ পরা জানোয়ার।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

