somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাড়ে আব বাড়ে নাহি রাহে...........!

২৩ শে জুন, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ক্যাবল টিভির কল্যাণে যাঁরা স্টার স্পোর্টস, দেখেন তাঁরা হয়তো সবাই
অ্যাডটা দেখেছেন। ‘বাচ্চে আব বাচ্চে নাহি রাহে’। স্টার স্পোর্টস কর্তৃপক্ষ
হয়তো চেয়েছিল এমন একটা অ্যাড
বানাতে যেটা দেখে আসন্ন ভারত-
বাংলাদেশ সিরিজ দেখতে দর্শকরা
আগ্রহী হয়। বিশেষ করে ভারতীয় দর্শকরা।
তাঁদের হয়তো ধারণা ছিল, ভারতের
মতো ক্রিকেট পরাশক্তির বিপক্ষে
বাংলাদেশের মতো দুর্বল একটি দেশের
ম্যাচ, কেউই দেখতে আগ্রহী হবে না।
তাই অ্যাডের মাধ্যমে বোঝানোর
চেষ্টা—খেলাটা সেয়ানে সেয়ানে
না হলেও দেখা যেতে পারে। সময়টা
একেবারে নষ্ট হবে না।
অ্যাডটা বানাতে গিয়ে হয়তো (?)
অনিচ্ছায় কিংবা সবার যা ধারণা,
ইচ্ছাকৃতভাবেই বাংলাদেশ দলের প্রতি
তাচ্ছিল্য দেখানো হয়। অন্তত
বাংলাদেশি দর্শকদের তাই ধারণা। আর
স্টার স্পোর্টসের বেশির ভাগ দর্শক
যেহেতু ভারতীয়, তাই হয়তো ভারতীয়
দর্শককে উদ্দেশ করেই অ্যাডটা বানানো
হয়েছিল। কিছুদিন আগে বানিয়েছিল
‘মওকা’ অ্যাড। যদিও অ্যাডগুলো তৈরি হয়
দর্শক টানার জন্য, তবে সেখানে এই
তাচ্ছিল্য জরুরি কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন
উঠতে পারে। তবে ‘মওকা’ থেকে শুরু
করে, হালের ‘বাচ্চে’ অ্যাড, একটা
ব্যাপার উসকে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে, ‘মুই
কি হনু রে’। এমনটা করলে সম্ভবত ভারতীয়
দর্শক ভালো খায়। তবে সেটা করার সময়
তাঁরা একবারও বোধহয় ভাবেনি, খেলার
ফলাফল উল্টো হলে কী হবে। অ্যাডগুলো
দিয়ে তাঁরা এক ঢিলে যে দুই পাখি
মারছিল, ভারতীয় জাতীয়তা বোধে
কিছুটা উসকানি দিচ্ছিল, ‘ভারত দারুণ
এক টিম’ আর সঙ্গে ‘বাংলাদেশ
ইদানীং ভালো খেলছে’ টাইপ
সান্ত্বনা, সেই ফর্মুলা যে পুরোটাই
বুমেরাং হয়ে যাবে যদি বাংলাদেশ
জেতে—তা তারা মনে হয় স্বপ্নেও
ভাবেনি।
বিপক্ষ দলকে বিভিন্ন কটাক্ষ করে
রাগিয়ে দেওয়া, কাজটা ক্রিকেটে
একেবারে যে নতুন, তা বলব না।
ক্রিকেটের মাঠে তো ব্যাপারটা
হরহামেশাই হয়। ‘স্লেজিং’ এখন প্রায়
ক্রিকেটের অংশই হয়ে গেছে।
ক্রিকেটাররাও এখন আর আগের মতো,
স্লেজিংয়ে বিভ্রান্ত হন না। স্টিভ
ওয়ার মতো ক্রিকেটাররা তো
স্লেজিংয়ের পরেই উজ্জীবিত হয়ে
ওঠেন। তবে কাজটা এতদিন করত
খেলোয়াড়রা। মাঠে কিংবা মাঠের
বাইরে ‘প্রেস কনফারেন্সে’। হতো
মেন্টাল গেম। অস্ট্রেলিয়া হয়তো বলত,
‘ভারত উপমহাদেশের বাইরে ভালো
খেলে না’ আর ভারতের অধিনায়ক হয়তো
মনে করিয়ে দিত ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজ স্পিনে
কাঁচা, অতএব আমাদের সম্ভাবনা বেশি’।
ইদানীং এই স্লেজিং ব্যাপারটা চলে
গেছে মিডিয়ার দখলে।
মিডিয়ায় শুরু হওয়া এই স্লেজিংয়ের
সমস্যা হচ্ছে, এর ক্ষেত্রে তেমন কোনো
নীতিমালা নেই। যে যা খুশি বানাতে
পারে। ইউটিউব আর ফেসবুকের কল্যাণে,
ব্যাপারটা আর টেলিভিশনের ওপরও
নির্ভর করছে না। দেদার চলছে শেয়ার।
সুরুচিপূর্ণ, কুরুচিপূর্ণ, যৌনতার মিশেল
দেওয়া অ্যাড-কী নেই সেখানে। ‘বাম্বু’
দেওয়া টাইপ অ্যাড নিয়ে যেমন বেশ
সমালোচনাও হলো, তেমনি আবার একদল
এসব অ্যাডকেই যোগ্য প্রত্যুত্তর ভাবলেন।
‘ওরা আমাদের পচাতে পারে আমরা
পারব না কেন’? টাইপ মানসিকতার বেশ
প্রসার ঘটল। ব্যাপারটা আর খেলা না
হয়ে ‘বিদ্বেষ’ বা ‘ঘৃণা’র জায়গা হতে শুরু
করল। অবস্থা যা হয়েছে, মনে হয় না
ব্যাপারটা অচিরেই থামবে। আর
ব্যাপারটায় বাধা দিতে গেলে,
যেমনটা হয়, নিষিদ্ধ যেকোনো কিছুর
প্রতিই যেমন আগ্রহ বাড়ে, তেমনভাবে
কাজগুলোর জনপ্রিয়তা তখন হয়তো মাত্রা
ছাড়াবে।
একটা উপায় হতে পারে যদি আমাদের
অ্যাডমেকাররা অশ্লীলতা বাদ দিয়ে,
নান্দনিক কোনো অ্যাড উপহার দেন আর
সেটা সবাই পছন্দ করে। তখন হয়তো অশ্লীল
অ্যাড প্রস্তুতকারীরা দ্বিতীয়বার
ভেবে দেখবেন, ‘বাম্বু’-জাতীয় অ্যাড
বানিয়ে ভারতের ‘মওকা’ লাইনেই
উসকানি দেওয়ার পথে যাব, না
নান্দনিক কিছু বানিয়ে দেশবাসীকে
উৎসাহ দেওয়া টাইপ কিছু উপহার দেব।
যৌনতার মিশেল না দিয়েও
প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করা যায়।
প্রতিপক্ষকে পরাজিত করার জন্য তাঁদের
দেখানো ফর্মুলার কপি করা তো জরুরি
না। সব সময় তো গায়ের জোরে জেতা
যায় না। ক্রিকেটে তো না-ই। ক্রিকেট
তো দক্ষতার চেয়ে অনেক বেশি
মনস্তাত্ত্বিক খেলা। মুস্তাফিজ তো
গায়ের জোরে বল করেননি। বল করেছেন
বুদ্ধি খাটিয়ে। দুই মাচে ১১ উইকেটের
মধ্যে সাতটিই পেয়েছেন ‘স্লোয়ার’
বলে।
ক্রিয়েটিভ ফিল্ডে যাঁরা আছেন,
তাঁরা ব্যাপারটা হয়তো ভেবে
দেখবেন। সিরিজ জয়ের পরে যখন ‘বাচ্চে
আব বাচ্চে নাহি রাহে’ অ্যাডটা আবার
দেখাচ্ছিল, তখন পাশে বসা ১০ বছরের
ছেলেটি বলে উঠল, ‘বাড়ে আব বাড়ে
নাহি রাহে, বাড়ে আব বাচ্চে হো
গ্যায়ে’। কেবল টিভির দৌরাত্ম্যে
ছানাপানারা হিন্দি খারাপ বলে না,
অনেক অ্যাডের ট্যাগলাইনও ওদের মুখস্থ।
তবে মনে হলেঅ, এই পিচ্চিগুলো, যারা
এখনো যৌনতার মিশেল দেওয়া
কথাবার্তা বলতে শেখেনি তাদের
কাছ থেকে আমাদের অ্যাড মেকাররা
অনেক আইডিয়া নিতে পারেন। খেলার
ছলে, গুরুত্ব না বুঝেও এরা আমাদের অ্যাড
মেকারদের চেয়ে ভালো ভালো উত্তর
তৈরি করছে।
আজকে ছেলেটি স্কুল থেকে ফিরে
এসে আরেকটি মজার গল্প শোনাল।
-আব্বু জানো, মাশরাফি মুস্তাফিজুর
রহমানকে কী জিজ্ঞেস করেছিল?
জানতে চাইলাম, ‘কী?’
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জুন, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:৩২
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সর্বজনীন পেনশন: সুবিধা বাড়ছে, ভবিষ্যৎ কতটা নিশ্চিত ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৪৪


সরকারের মনোভাব সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা কঠিন। ফ্যাসিস্ট আমলের বিতর্কিত 'সর্বজনীন পেনশন' প্রকল্পটি বাতিল না করে বর্তমান সরকার উল্টো নতুন নতুন স্কিম চালু করছে এবং এর সুযোগ-সুবিধা দিন দিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ এর পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে পাকিস্তান কি বাংলাদেশে জঙ্গি নেটওয়ার্ক গড়ছে?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫৪


পাকিস্তানের জঙ্গি গোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈয়বার সহযোগী সংগঠন জামাত-উদ-দাওয়ার কয়েকজন নেতা দাবি করেন, হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পেছনে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এই জঙ্গি সংগঠনটির নেতা সাইফুল্লাহ কাসুরি বলেন, তারা ১৯৭১ সালে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৫১

অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !



পাথর বা গ্রানাইটে বেঁধো না তো আমার শেষ শয্যা,
নাম খোদাই করে রেখো না আমায়, দিতে একা থাকার লজ্জা।
চাই না উপাধি, চাই না তারিখ, ধূসর... ...বাকিটুকু পড়ুন

নৈতিক অবক্ষয়ের দায় কার?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৫২

ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের দায় কার?

সমাজে যখন অপরাধ বাড়ে, পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হয়, সন্তান বাবা-মাকে সম্মান করে না, মানুষ মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারায়, দুর্নীতি-প্রতারণা-সহিংসতা স্বাভাবিক হয়ে ওঠে- তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কাতুকুতু'র কাহিনীনামা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭

কাতুর সাথে কুতু দিয়ে হচ্ছো পগারপাড়,
ফের যদি আসো কাছে বলবো- 'খবরদার!'
একটু হেসে, কাছে এসে, দিচ্ছো বুঝি কাশি,
ঝুলিয়ে দাড়ি, যাচ্ছো বাড়ি, যেথায় আছেন মাসি।

তোমার সাথে, দুধে-ভাতে, গপ্প করছি কত,
তবু কেন, ঘন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×