লেখার কোন ইচ্ছা বা প্ল্যান ছিলো না মাথায়, মন টা খারাপ, খারাপ হবার অবশ্য যথেস্ট কারন আছে। প্রথম অনাগত সন্তান ২ মাস ওর আম্মুর পেটে থাকাতেই কাল রাতে আমাদের ছেরে চলে গেছে। বউ কে শান্তনা দিবো না নিজেকে তা ভেবে ভেবে কিভাবে জানি রাত কেটে গেলো।
বউ এর অবস্থাও ভালো না, রক্তপাত হইছে অনেক, ডাক্তার এসে আমাকে চিন্তা করতে মানা করে গেলেও চিন্তা কি আর না হয়। ও সকালে কখন জাগবে সে অপেক্ষা করতেছি। ওর সামনে যেয়ে দাড়াবো কিভাবে তাও বুঝতেছি না, ওকে কি উত্তর দেবো এ নিয়েই চিন্তা, আর পিতা হবার অনুভুতিগুলো কেমন জানি পিছু ছারতেছে না।
ও কাদতেছিলো, একজন মা তার সন্তানের মৃত্যুর খবরে যেভাবে কাদে। কদিন আগে বউ এর বাবা মারা গেছেন, তখন ও এতটা ভেঙ্গে পরতে দেখিনি ওকে, দিব্যি আমাকে রেধে খাওয়ালো, অফিস যাবার সময় মনে করিয়ে দিলো আমি যেনো অফিস থেকে সরাসরি ওর বাবার বাসায় চলে যাই, জামাই হিসেবে আমার কিছু দায়িত্ত আছে।
দায়িত্ত ? আমি কবে দায়িত্তবান ছিলাম? ছিলাম না, নিজের খুব কাছের মানুষ দের ও খেয়াল রাখা হয়ে উঠে নাই। তবে হ্যা, একটা দায়িত্তবোধ চেপে বসে আছে কিভাবে জানি। মোচর দিয়ে উঠতেছে বুকের উপরের দিক টা।
বাবা হচ্ছিলাম আমি, ছেলের নাম , আগে বলি কেনো ছেলের নাম, ওর আম্মু কিভাবে জানি জানতো তার সন্তান ছেলে হবে। আমি যখন বলতাম মেয়ে হলে কি সমস্যা, একটা মা হবে আমাদের, ও বলতো এবার না, এবার একজন বাবাই হবে তোমার, বুঝছো ?
কেন হবে তা নিয়ে আর মাতামাতি করতাম না আমি, এই কাল ও ওর আমার এ নিয়ে ভিষন রকম লেগে গেলো। রেগে গেলে বউ দের সুন্দর দেখায়।
আমি বাবা হচ্ছিলাম, ছেলে হবে শূনে খানিক টা বেশিরকম মাতামাতি শূরু করে দিয়েছিলাম সেই প্রথম দিন। বেশ কটা খেলনা গাড়ি, একটা পুথির লোড পিস্তল কিনে ফেলেছি, দেখে আমার বউ খুশি হতো ? হতো, একরকম মিষ্টি হাসি হাসতো আমার বউ।
পেষায় আমি একজন ওয়েব ডেভেলপার, মাথাতে কম্পিউটার একটা ভালো রকম যায়গা নিয়েই থাকবে এ আর নতুন কি। আমি আমার ছেলেকে প্রোগামার বানাবো, ছেলে শিখবে কম্পিউটারে। ওর নাম হবে শুভ্র। ওর আম্মু আর আমি দুজনেই হুমায়ুন আহমেদে ভিষন রকম ভক্ত কিনা।
আমি শুভ্রের জন্য নেট ঘেটে বাংলা বর্ণমালা শেখার তিনটে সফটওয়্যার নামিয়ে ফেলেছি। এখন ও আর আসবে না।
আমি বাবা হচ্ছি না ? না হচ্ছিনা । ভয়ানক রকম সত্য এটা। আমার নিজেকে বোঝাতে হবে, সাথে বউ কে। আমি একজন পুরুষ তো, আমার "কষ্ট" নামক অনুভুতির সামনে মাথানত করতে নাই। হুম্মম একটা লাইন, হতাশা, দুঃখবোধ যা থেকেই হোক, মাথায় খুব ঘুরতেছে, ইমন জুবায়ের স্যার, আমাকে আপনার কাছে নিয়ে যাবেন ?
(লেখার পরে পড়ে নিজের ই অনেক কষ্ট লাগতেছে, সাথে একটা মন্তব্য দেখে খানিক টা কষ্টবোধ বেড়ে গেলো। এটা একটা কাছ্বের মানুষের গল্প, ভাবি খানিক টা অস্বুস্থ্য মানষিক ভাবে, গত চার বছরে আর মা হবার সুযোগ হয়নি তার)
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই এপ্রিল, ২০১৪ সকাল ৭:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




