"কতবার ভেবেছিনু আপনা ভুলিয়া
তোমার চরণে দিব হৃদয় খুলিয়া।
চরণে ধরিয়া তব কহিব প্রকাশি
গোপনে তোমারে, সখা, কত ভালোবাসি।
ভেবেছিনু কোথা তুমি স্বর্গের দেবতা,
কেমনে তোমারে কব প্রণয়ের কথা।
ভেবেছিনু মনে মনে দূরে দূরে থাকি
চিরজন্ম সঙ্গোপনে পূজিব একাকী--
কেহ জানিবে না মোর গভীর প্রণয়,
কেহ দেখিবে না মোর অশ্রুবারিচয়।
আপনি আজিকে যবে শুধাইছ আসি,
কেমনে প্রকাশি কব কত ভালোবাসি।"
প্রায়শঃই অবাক বিস্ময় আর নিবিড় পুলকে বিমুগ্ধ হইয়া ভাবি পূজা ও প্রণয়ের কি গভীর, চিরন্তন আর সুরসুধাময় প্রকাশই না রবীন্দ্রনাথ করিয়া গিয়াছেন তাঁহার পূজা, প্রেম ও প্রকৃতি পর্বের গান সমুহে। রবীন্দ্র-সাহিত্যের সামিগ্রকতার যে বিপুলতা তাহার বহিরাঙ্গেও কেবল এক গীতবিতানের পাতায় পাতায়, প্রতি ছত্রে যে অসীমের সন্ধান রহিয়াছে তাহার এক সামান্য অংশের স্বরূপ দর্শনেই আমার মত এক নগন্য পাঠকের ক্ষীন হৃদয় প্রবল আবেগে সিক্ত হইয়া ওঠে, "হৃদয়ের একুল-ওকুল, দু'কুল" জুড়ে কি এক অজানা হাহাকার উথলিয়া ওঠে।
জীবন যখন শুকায়ে যায় করুনাধারায় এসো।
সকল মাধুরী লুকায়ে যায়, গীতসুধারসে এসো।।
কর্ম যখন প্রবল-আকার গরজি উঠিয়া ঢাকে চারি ধার
হৃদয়প্রান্তে, হে জীবননাথ, শান্ত চরণে এসো।।
আপনারে যবে করিয়া কৃপন কোণে পড়ে থাকে দীনহীন মন
দুয়ার খুলিয়া, হে উদার নাথ, রাজসমারোহে এসো।
বাসনা যখন বিপুল ধুলায় অন্ধ করিয়া অবোধে ভুলায়,
ওহে পবিত্র, ওহে অনিদ্র, রুদ্র আলোকে এসো।।
'সকল মাধুরী লুকায়ে' যাওয়া কর্ম-কাতর অবোধ জীবনে রবীন্দ্রনাথ ভিন্ন আর কে কবে পারিয়াছে প্রেম ও পুজার গীতসুধারসের সুশীতল প্রবাহ আনিতে।
কেন জানি, আমি কোন প্রকারেই ভাবিতে পারিনা রবীন্দ্রনাথ আর তাঁহার এই বিপুল সাহিত্য সমারোহ না থাকিলে আমরা কোন পথে খুঁজিতাম 'আনন্দলোকে, মঙ্গলালোকে' বিরাজিত 'সত্যসুন্দর'।
রবীন্দ্রনাথ আমার নিকট সেই শান্তসুধারস, সেই করুনাধারা.........
ক্ষুদ্র আমি, আমার দীনহীন লেখনীতে 'কেমনে প্রকাশি কব' 'তারে কত ভালোবাসি '...............
পল্লবী/২১.০৬.২০০৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


