somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

শৈলী

১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ৯:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষার পর থেকে শিলাকে প্রাইভেট পড়াচ্ছে নিরো । মেয়েটি ক্লাশ ফোরে পড়ে । নিরোদের বিল্ডিংএই থাকে ওরা । উপর তলায় ।

একটি মেয়েকে নতুন দেখা যাচ্ছে শিলাদের বাসায় । বেড়াতে এসেছে বোঝা যাচ্ছে । মেয়েটি কে শিলাও বলেনা নিরোও জানতে চায়না ।

সেদিন পড়ন্ত দুপুরে  বিছানায় শুয়ে রেষ্ট নিচ্ছিল নিরো । শিলা এলো । নিরো জিজ্ঞেস করল,’ কি ব্যাপার শিলা ?’

‘আমার ছোট খালা বলেছে গল্পের বই দিতে ।‘ মেয়েটি তাহলে ওর খালা । তাক থেকে বই বের করে দিল নিরো । বংকিমের কৃষ্ণকান্তের উইল । কিছুক্ষণ পর শিলা ফিরে এল ।‘ ভাইয়া এটা খালার পড়া ।‘ বলল শিলা । নিরো বইটা নিয়ে রেখে দিল । একটা ঈদ সংখ্যা বিচিত্রা খুঁজে বের করে দিল । একটু পর আবার এলো শিলা । বলল,‘ ভাইয়া  বইএর ভেতর খালার একটা কাগজ ভুলে চলে এসেছে । নিরো শোয়া থেকে উঠে বসল । কিসের কাগজ ? তাকের কাছে গিয়ে বইটা হাতে নিয়ে দেখল । তাইতো ভেতরে একটা ভাঁজ করা কাগজ । কিসের কাগজ জানতে ইচ্ছে করল তার । শিলাকে বলল,’ শোন শিলা, আমি খুঁজে দেখব । পেলে সন্ধায় পড়াতে যাবার সময় নিয়ে যাব ।‘ শিলা চলে যেতেই ও কাগজটার ভাঁজ খুলল । একটা নাম সম্বোধনবিহীন চিঠি । রুদ্ধশ্বাসে ওটা পড়ে ফেলল নিরো ।

‘ একটা ছেলের প্রেমে পড়েছি । প্রথম দেখায় প্রেম । বেড়াতে গেলে দূর্ঘটনায় কারো প্রানহানী হয় , আমার হয়েছে হৃদয়হানী । দোয়া করিস ।‘ দুনম্বরী খাতার একটা পুরো পাতায় শুধু এটুকুই লেখা  । শিলা আবার এল । জিজ্ঞেস করল,’ ভাইয়া পেয়েছেন ?’

‘হ্যাঁ পেয়েছি , তোমার খালা এত অস্থির হল কেন ?’

শিলা কিছু না বলে সামান্য হেসে কাগজটা নিল ।‘ কি নাম তোমার খালার ? কি করে ও ?’ নিরো জানতে চাইল ।

‘শৈলী । ঢাকার কলেজ থেকে পরীক্ষা দিয়েছে । আপনার সাথেই ।‘

মেয়েটি পোশাক আশাকে বেশ স্মার্ট । দেখতে তেমন সুন্দর না । গায়ের রঙও কালোর দিকেই । নিরোর তেমন আগ্রহ জন্মাল না ।

দুদিন পর বিচিত্রাটা দিয়ে গেল শিলা । ও চলে যেতে নিরো পাতা উল্টাল । হ্যাঁ ঠিকই ভাঁজ করা কাগজ ।

‘ তোকে বলেছিলাম না ছেলেটার কথা ? ওর সাথে রোজ দেখা হয় । কিন্তু কথা বলার সাহস পাচ্ছিনা । কি করি বলতো ?’ ব্যাপারটা এবার বুঝল নিরো । আসলে মেয়েটি ওকে গাঁথতে চাচ্ছে । নিরো চিন্তিত হল । সে কি টোপ গিলবে ? শিলা এল । ধ্যাত্তোর ! সেই একই কথা,’ ভাইয়া, খালার ---‘

‘ ভুলে চিঠি চলে এসেছে, এইতো ? বল গিয়ে চিঠি এলেও দেয়া যাবেনা ।‘ শিলা চলে গেল । নিরো মহা বিরক্ত হল । কি আজব মেয়েরে বাবা ! বিকেলে ছাদে গেল নিরো ।  প্যারাপেট ওয়াল ঘেঁসে দাঁড়াল । কিছুক্ষণ পর পেছনে খস খস শব্দে ফিরে তাকাল । শৈলী এসে দাঁড়িয়েছে ।  ওর দিকে চেয়ে বলল,’ আমার চিঠিটা দয়া করে দিন ।‘

‘কিসের চিঠি ?’

‘ ম্যাগাজিনের ভেতরে ছিল ।‘

‘ আপনি বইয়ের ভেতর চিঠি পাঠান কেন ?’

‘ ইচ্ছে করে পাঠাইনি । ভুলে চলে গেছে ।‘

‘ বার বার একই ভুল হয় ?’

মেয়েটি চুপ থাকল । নিরো পাশ কাটিয়ে যেতে যেতে বলল,’ শিলাকে পাঠাবেন । দিয়ে দেব ।‘

কয়েকদিন পর বইএর ভেতরে আরেকটা চিঠি এল । ওতে লেখা ‘ বুঝলাম , মনের চেয়ে চেহারার মূল্যই বেশি । আমি দেখতে সুন্দর নইতো ! আসলে বামুন হয়ে চাঁদের দিকে হাত বাড়ান ঠিক হয়নি ।’ এবার চিঠি ফেরত নিতে শিলা এল না । অনেকদিন কেটে গেল ।

সেদিন ওদের কলোনীতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান । যে যা পারে কবিতা গান চলছে । হারমোনিয়াম বাজানোর লোক আর তবলচি শহর থেকে এসেছে । হঠাৎ ঘোষনা শোনা গেল –প্রিয় দর্শক শ্রোতা , এখন গান শোনাবেন অতিথি শিল্পী শৈলী । বলে কি ! নিরো অবাক হয়ে স্টেজের দিকে তাকাল । শৈলী হারমোনিয়ামের কাছে গিয়ে তবলচিকে কি যেন বলল । গান শুরু হল । ‘ হয়ত কিছুই নাহি পাব তবুও তোমায় আমি দূর হতে ভালবেসে যাব----‘ সুরের মূর্চ্ছনায় বিহ্বল পুরো হল রুম । দর্শকশ্রোতা মন্ত্র মুগ্ধ । দারুন গায়তো শৈলী ! দর্শকের অনুরোধ ধ্বনিত হল-ওয়ান মোর । এবার গাইল- জীবনে যদি দীপ জ্বালাতে নাহি পার সমাধি পরে মোর জ্বেলে দিও—‘

শৈলীর মেসেজ এবার স্পর্শ করল নিরোকে । বুকে ভালবাসার চিনচিনে যন্ত্রনা শুরু হল । অঝোর বারিধারায়  সিক্ত হল হৃদয়ের শুষ্ক মৃত্তিকা ।

 
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছবি ব্লগ -৯ নিশীথে ফুটেছে ফুল

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৪

বাইরের জানালার পাশে গভীর রাতে ফুটে ওঠা ফুলের সৌন্দর্য রহস্যময়, আকর্ষণীয় মনে হলো বলেই থমকে দাঁড়ালাম। ক্যামেরায় ধরলাম। ফুল আর কলি যেন কথা বলে উঠলো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

"বন্ধ দুয়ার"

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৪


"বন্ধ দুয়ার"

ক্লান্ত এ সপ্তাহে শুনি, আজ কারো কাজ নাই,
বন্ধ কারখানায় তালা, কোথা যাব তবে ভাই?
ছুটা বুয়া হয়ে খাটা, সে সুযোগও মেলা ভার,
তরুণী দেখিয়া মোরে, কেহ খোলে না যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্যালটের চিঠি: মাননীয় ট্রাম্প, আপনার বাকি বন্ধ

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩

ব্যালটের চিঠি: মাননীয় ট্রাম্প, আপনার বাকি বন্ধ

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

"আমেরিকাকে আবার মহান করব" বলে এসে যিনি দুনিয়ার সবাইকে বিরক্ত করলেন, ভোটাররা তাঁকে জানিয়ে দিলেন: হুমকি ধমকি আর উম্মাতাল আঁতলামির... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×