somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিধাতা মোরে ক্ষমা করো

২৩ শে জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ১২:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঘটনা-১
তখন নবম কি দশম শ্রেনীতে পড়ি। টিফিনের সময় ৮/৯ জন স্কুলের দোতালার বারান্দায় বসে আড্ডা মারছি। এমন সময় একজন হুজুর নিচ দিয়ে হেটে যাচ্ছিলেন। আমি জোরে চিৎকার করে বলে উঠলাম, দেখ, দেখ কাঠ মুল্লা যায়! পাশের জন বলে উঠলো, নির্ঘাত শালার টুপির তলে ৭০ টা শয়তান ! আর এক জন বলে উঠলো, না না ! টুপির চেয়ে বেশি শয়তান দাঁ‌ড়িতে ঝুলতেছে ! হুজুর আমাদের দিকে তাকালেন, কি করুন ! কি তিব্র সেই চাহনি !

ঘটনা-২
কলেজের প্রথম দিন প্রথম ক্লাস, তাই ভাব নিয়ে প্রথম বেন্চের কোনায় বসলাম। একটু পরে এসে দেখি, আমার খাতা বই পাশে সরিয়ে এক হুজুর আমার পাশে বসেছে। আমি উঠে গিয়ে পার্টির বড় ভাইদের কাছে নালিশ দিলাম যে, "এক হুজুর আমাকে সরিয়ে আমার জায়গায় নিজে বসেছে।" সাথে সাথে একজন বড় ভাই এসে হুজুরের খাতা বই সব ছুড়ে ফেলে দিয়ে বললো, এর জন্য এই জায়গা আজীবন বরাদ্দ, আর তুই আজীবন এই বেন্চের ২ বেন্চ পিছনে বসবি। আমার ভিতরের পশু আমিটি তখন বিজয়ের আনন্দে হেসে উঠেছিলো, আর হুজুরের চোখ টলটল করে উঠেছিলো কিনা তা আজ আর মনে নেই।

ঘটনা-৩
কলেজের দ্বিতীয় বছর, ৫/৬ টা গ্রুপ কলেজ বিল্ডিং এর দোতালায় শিড়ির পাশে কোনার একটা কক্ষে বসে তাস্‌ পিটাচ্ছে, আর আমরা ৪ জন বাহিরে বসে পাহারা দিচ্ছি। একটু পর একটা গ্রুপ উঠে আসবে আর আমরা খেলতে যাব। এভাবেই পর্যায় ক্রমে চলতো। এমন সময় দেখলাম, একটি বোরখা পরা মেয়ে ( শুধু চোখ দেখা যাচ্ছিলো ) শিড়ি দিয়ে উঠে আসছে। আমাদের মধ্যে একজন বলল, দোস্ত একটা মজা দেখ। মেয়েটা শিড়ি দিয়ে উঠে পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় সে হঠাৎ তার সামনে গিয়ে দাড়ালো এবং একটা বিকট চিৎকার দিয়ে লাফ দিয়ে সামনে থেকে সরে যাবার অভিনয় করে বলে উঠলো, নিন্‌জা, নিন্‌জা মাইরা ফালাইলোরেরেরেরে
আর আমরা হো হো হো করে হাসে উঠলাম। মেয়েটি শুধু একবার চোখ তুলে তাকালো আমাদের দিকে তারপর চোখ নামিয়ে মাথা উচু করে হেটে চলে গেল !

ঘটনা-৪
কুয়েটের রশিদ হলে থাকি। নাস্তিকতাবাদ তখন তুঙ্গে। তর্কের খাতিরে ধর্মের চোদ্দ গুষ্টি উদ্ধার করি, ঘন্টার পর ঘন্টার কেটে যার। আহ্‌ কি সুখ, কি আনন্দ ! যা হওক, প্রতিসপ্তাহে একদিন তবলিগের ভাইরা রুমে রুমে গিয়ে দাওয়াত দিত। প্রথম প্রথম বিরক্ত হলও কিছু বলতাম না। কিছুদিন পর একটা বুদ্ধি বের করলাম। উনারা রুমে আসলেই একজন উঠে গিয়ে জোরে পর্নো মুভি চালিয়ে দিতাম, এতে উনারা আর কিছু না বলে উঠে চলে যেতেন।
কত সহস্রবার যে উনাদের ভন্ড বলে গালি দিয়েছি তা গুনে শেষ করা যাবেনা।

ঘটনা-৫
পাশ করে ঢাকায় একটা software Company তে programmer হিসাবে চাকুরি জীবন শুরু করলাম। কিছুদিন চাকুরি করার পর আব্বু বলল, তোমার চাকুরি করার দরকার নেই, তুমি Masters শেষ কর। দিলাম চাকুরি ছেড়ে। তারপর দেশের বাহিরে Masters এর জন্য চেষ্টা শুরু করে দিলাম। হাতে অফুরন্ত সময়। কি করি কি করি ভাবতে ভাবতে হটাৎ মাথায় চিন্তা আসলো যে, এত দিন তো শুধু না জেনেই সব ধর্মের চোদ্দগুষ্টি উদ্ধার করেছি এবার একটু জেনে উদ্ধার করি। যেই ভাবা সেই কাজ। কুর'আন শরীফ কিনে আনলাম, internet থেকে হাদিসের বই গুলো download করলাম। সাথে সাথে কিছু comparative religion, Science and religion -এর উপর কিছু বিখ্যাত বই জোগাড় করলাম। ৭/৮ মাস শুধু এই সবের উপর পড়াশুনা করলাম। যতই পড়ছিলাম ততই অবাক হচ্ছিলাম। কি করেছি আমি সারা টি জীবন ? মনে হচ্ছিলো, সারা জীবন অন্ধকার টানেলের মধ্যে থেকে শেষ সময়ে এসে টানেলের মাথায় আলোর দেখা পেলাম !

তারপর হটাৎ একদিন যোহরের ওয়াক্ত থেকে নামাজ শুরু করলাম এখনো চালিয়ে যাচ্ছি, আল্‌হামদুলিল্লাহ। প্রথম নামাজ পড়ে উঠার পর দেখি দু'চোখ বেয়ে পানি ঝরছে ! কিছুতেই থামাতে পারছিলাম না এই অস্রুধারা !

এ কান্না তো আনন্দের কান্না, অন্ধকার থেকে আলোতে আসার কান্না! স্বাধীনতা পাওয়ার সুখে কান্না !! পুনর্জনমের কান্না !!!

বিধাতা মোরে ক্ষমা করো । কিন্তু ক্ষমা কি পাব সেই নাম না জানা হুজুরের কাছ থেকে ? ক্ষমা কি পাব সেই হুজুর সহপাঠীর কাছ থেকে ? ক্ষমা কি পাব সেই নাম না জানা বোরকা ওয়ালীর কাছ থেকে ? ক্ষমা কি পাব সেই নাম ভুলে যাওয়া তবলিগের ভাইদের কাছ থেকে ?
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ১২:০৭
৪০টি মন্তব্য ২২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনঃ কেন আমি বিএনপিকে ভোট দিবো?

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:২৯



আসছে ১২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এ ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সরকারপক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই নির্বাচন হবে বিতর্কমুক্ত এবং উৎসবমুখর পরিবেশে। আমার অবশ্য এই দুই ব্যপারেই দ্বিমত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামিলীগ আবার মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:১৫



চাঁদগাজী বলেছিলেন,
"যেসব মানুষের ভাবনায় লজিক ও এনালাইটিক্যাল জ্ঞান না থাকে, তারা চারিপাশের বিশ্বকে সঠিকভাবে বুঝতে পারে না, কোন বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। সমাজে তাদের অবদান... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘বাঙালি মুসলমানের মন’ - আবারও পড়লাম!

লিখেছেন জাহিদ অনিক, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আহমদ ছফা'র ‘বাঙালি মুসলমানের মন’ বইটা আরাম করে পড়ার মতো না। এটা এমন এক আয়না, যেটা সামনে ধরলে মুখ সুন্দর দেখাবে- এমন আশা নিয়ে গেলে হতাশ হবেন। ছফা এখানে প্রশংসা... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাতানো নির্বাচনে বিএনপিকে কিভাবে ক্ষমতায় বসানো হল-(১) অথচ দীর্ঘ ফ্যাসিস্ট শাসনের পর চাওয়া ছিল একটি সুষ্ঠ নির্বাচন।

লিখেছেন তানভির জুমার, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:২১

১/ ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের ভিতরে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ। অর্থাৎ মানুষকে ফোন বাসায় রেখে আসতে হবে। কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসার পক্ষপাতিত্ব করলে কেউ রেকর্ডও করতে পারবে না। কেন্দ্রে কোন অনিয়ম, জালভোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

কলেজ ও ভার্সিটির তরুণরা কেন ধর্মের দিকে ঝুঁকছে? করনীয় পথ নকশাটাই বা কী?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৩৬


ধর্মের দিকে ঝোঁকার মানচিত্র

অচেনা পথে হাঁটে আজ তরুণের দল
পরিচয়ের কুয়াশায় ঢেকে গেছে কাল
শিক্ষা, কর্ম, সম্পর্ক সবই আজ প্রশ্নবিদ্ধ
কোথায় জীবনের মানে মন দ্বিধাবদ্ধ।

এই দোলাচলে ধর্ম দেয় দৃঢ় পরিচয়
উদ্দেশ্য, শৃঙ্খলা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×