somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তুমি আমায় ডেকেছিলে ছুটির নিমন্ত্রণে... (পর্ব - ৪)

০২ রা জুন, ২০০৮ বিকাল ৫:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তৃতীয় পর্বের লিঙ্ক - Click This Link


কাঠমুন্ডুর পথেঃ
ভোর ৪ টায় আমরা রওয়ানা দিলাম কাঠমুন্ডুর পথে। পুরো একটা বাস আমাদের জন্যে তবে পাঠকেরা এতে আহ্লাদিত হবেন না যেন। কেননা এহেন বাসকে মুড়ির টিনের চেয়ে বেশি কিছু বলতে রীতিমত দাতা হাতেম তায়ের মত মহানুভবতার পরিচয় দিতে হয়। আর এই মুড়ির টিনে করে কাঠমুন্ডুর পাহাড়ি পথে লাস্যময়ী নারীর ভালবাসাময় স্পর্শ পান বা না পান; কিন্তু রড, শক্ত কাঠ আর জানালার কাঁচের চুম্বন যে অনুভব করবেন তার গ্যারান্টি আমি দিচ্ছি। যাই হোক রাস্তায় কি কি হল তা বিস্তারিত নাই বা বললাম কেননা ইতিমধ্যেই সবাই আমাকে নতুন করে মহাভারত রচনাকারীর যে উপাধি দিয়েছেন তা দেখে আমি যারপরনাই ভীত ও সন্ত্রশ্ত। তাই ঝটপট দু’ একটা গল্প বলেনি যা না বললেই নয়।


কাঠমুন্ডুর পথে ফারহান স্যার আমাদের গান শোনালেন “মন শুধু মন ছুঁয়েছে... ও সে তো মুখ খোলেনি...” আর আমরা তাতে গলা মেলালাম- ওওওওওওওওও... ওওওও... ওওওও... কিন্তু স্যার তখনও জানতেন না আরও কার কার গলা মেলানো বাকি এ গানে! তাই কিছুক্ষণ পর যখন সামনে গিয়ে নিজের সিটে বসলেন তখন রোমানা ম্যামের সেকি ঝাড়ি তাকে একা একা ফেলে চলে যাওয়ার জন্যে। আর তাতে স্যারের বাংলা পাঁচের মত মুখটা বেশ দেখার মত হয়েছিল। সেই যে বাংলা পাঁচের মত মুখ করে স্যার সামনে বসলেন আর তার উঠার নাম নেই; যতই তাকে আমরা “ডাইলে আরেকটু লবণ দিতে” পেছনে ডাকি! তবে সত্যি বলতে কি এতদিন স্যারদের বকায় আমাদের লম্বা মুখ দেখেছি কিন্তু আজকে পাশার দান বদলাতে দেখে কেন জানি খুব শান্তি শান্তি লাগছিল। হে হে হে... সাধেই কি আর বলে, “ওস্তাদের মাইর শেষ রাইতে!” জয়তু রোমানা ম্যাম!


তারপর পথে দেখা ত্রিশূলী নদীর সাথে। পান্নার মত ঘন সবুজ বর্ণের দেহ তার। আর সেই পাথুরে নদীর বুকে আঁছড়ে পড়ে কি অদ্ভুত শুভ্র নরম ফেনা গড়ছে পান্না সবুজ জল। দেখার মত দৃশ্য বটে। অবশেষে নদীর হাত ধরে চলতে চলতে আমরা যখন কাঠমুন্ডু পৌঁছলাম তখন ঘড়িতে ৮:০০ টা বেজে কিছু বেশি।



যত কান্ড কাঠমুন্ডুঃ
কাঠমুন্ডুর হোটেলে আমাদের জন্যে অপেক্ষা করছিলেন জাবের স্যার আর অথৈ ম্যাম। স্যারের সাথে কথা বলে আমরা যখন হোটেলের কামরায় ঢুকলাম তখন আমাদের লম্ফঝম্ফ দেখে কে! জোসসস। বড় বড় খোলামেলা একেকটা রুম, কার্পেট মোড়ানো, পরিষ্কার বাথরুম, টিভি, হিটার সবমিলিয়ে ঝাক্কাস। কিন্তু আমাদের হাসি ভাগ্যদেবীর বেশিক্ষণ সহ্য হল না। কেননা যখন সবাই রুম থেকে রাতের খাবার খেতে বের হল তখন একেকজনের মুখ দেখা মত- কেননা কারও বাথরুমে পানি নেই তো কারও বাথরুমের ফ্ল্যাশ নষ্ট- সব মিলিয়ে ক্যারাব্যারা দশা। একেই বোধকরি বলে, “উপর দিয়া ফিটফাট, ভিতর দিয়া সদর থুক্কু মুন্ডুঘাট!”


কাঠমুন্ডু যাব আর ক্যাসিনো বা ডান্সবারে যাব না এত রীতিমত কাশী যেয়ে গঙ্গাস্নান না করে ফিরে আসার মত। কথায় আছে “শুভস্য শীঘ্রম”! তাই সেই রাতেই আমরা বেড়িয়ে পড়লাম খোঁজ নিতে। জানা গেল কাঠমুন্ডুতে দু’ধরনের ক্লাব আছে। ডান্সবার যা “ফ্রি ফর অল!” এবং ডিস্কোবার- যেখানে প্রবেশ মূল্য এবং সঙ্গী বা সঙ্গিনীকে বগলদাবা করে ঢুকতে হয়। হে হে হে... আকালমান্দকে লিয়ে ইশারাই কাফি... নিশ্চয় বুঝতেই পারছেন যে আমরা ডান্সবারের পথই ধরলাম। কিন্তু বাঁধ সাধল আমাদের পুরুষমহল। তাদের একটাই কথা আগে তারা সরেজমিনে দেখে আসবে হালচাল তারপর আমাদের ব্যাপারে বিবেচনা করা হবে (কত বড় অপমান!)। পাঠক আশা করি এবারও বুঝতে পারছেন যে সে দফায় আমাদের আর ডান্সবারে যাওয়া হয়নি কেননা আমাদের ছেলেরাই কোনমতে জান বাঁচিয়ে পালিয়ে এসেছিল। বারের ওয়েট্রেসগুলো নাকি রীতিমত গায়ে উঠে আসে (একে তো আমাদের যেতে দিল না তার উপর এমনতর কথা শুনে আমরা না বলে পারিনি, “তোরা তো মামু খুশিই হইছস!!! আবার ভাব খাস!!! ভরংবাজ সবদি!!! গররর...”)। আমাদের সবচেয়ে লক্ষ্মী ছেলে হিসেবে খ্যাত নাঈমের নাকি প্রায় কোলে চড়ে বসেছিল এক লাস্যময়ী নারী। হি হি হি... তারপর কি হয়েছিল তা আজও এক ইতিহাস! তবে এ ঘটনা নিয়ে এখনও আমাদের মুখে মুখে ফেরে একটাই অনুকাব্যঃ
“কাঠমুন্ডুর ডান্সক্লাবে খায়নি নাঈম বিয়ার,
তারপরেও হইল কাইত শুইনা ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’!”

তবে কাঠমুন্ডুর প্রথম রাতের সবচেয়ে জটিল ঘটনাটা ছিল ফারহার স্যারকে নিয়ে। আমরা তখন স্যারকে সিল দিয়ে ফিরছি হোটেলে। স্যাররা আগে আগে আর আমরা পিছনে। হঠাৎ এক মাতাল এসে স্যারকে প্রায় জড়িয়ে ধরে বলল, “কাম উইথ মি! লেটস ডান্স!” আমরা তো টাস্কি! স্যার দেখলাম বেশ গম্ভীর মুখে জবাব দিলেন, “আই এম নট দ্যাট কান্ডা পারসান। আই এম উইথ মাই ওয়াইফ!” হা হা হা... সেই দফায় ম্যামকে দেখিয়ে স্যার বাঁচলেও আমাদের ত্যাঁড়ছা হাসি থেকে বাঁচতে পেরেছিলেন কিনা তা প্রশ্ন সাপেক্ষ! হে হে হে...

রাত তখন ক্রমশ বাড়ছে। আর তার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে কাঠমুন্ডুর ডান্স বারগুলোতে তারুণ্যের জোয়ার। উচ্চস্বরের হাসাহাসি আর মিউজিকের শব্দ তখন রাস্তা পর্যন্ত এসে পোঁছেছে। আমরা একদল হতাশ তরুণ- তরুণীর দল তখন ক্লান্ত পায়ে হোটেলের কামরায় ফিরছি আর দূরে কোথায় হয়ত বাজছে...

"You can dance- every dance with the guy
Who gives you the eye, let him hold you tight
You can smile- every smile for the man
Who held your hand ‘neath the pale moon light
But don't forget who's takin' you home
And in whose arms you're gonna be
So darlin' save the last dance for me.”
৬৩টি মন্তব্য ২৫টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=মন বাগানে ফুটে আছে রঙবাহারী ফুল=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:০৫



তুমি তো আর করলে না যাচাই, মন আমার মন্দ কী ভালো,
প্রেম কথনে ভরালে না মন, ভালোবেসে করলে না মনঘর আলো;
মনের শাখে শাখে ঝুলে আছে মধু মঞ্জুরী ফুল,
কী মুগ্ধতা ছড়িয়ে পাপড়ির... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেলে আসা শৈশবের দিনগুলি!

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:২১


চট্টগ্রামে আমার ছোটবেলা কেটেছে নানুর বাড়িতে। চট্টগ্রাম হলো সুফি আর অলি-আউলিয়াদের পবিত্র ভূমি। বেরলভী মাওলানাদের জনপ্রিয়তা বেশি এখানে। ওয়াহাবি কিংবা সালাফিদের কালচার যখন আমি চট্টগ্রামে ছিলাম তেমন চোখে পড়েনি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

“Epstein “ বুঝতে পারেন ! কিন্তু রাজাকার,আলবদর,আলশামস আর আজকের Extension লালবদর বুঝতে পারেন না ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৬:০৮

মূলত এটি একটি ছবি ব্লগ। এক একটি ছবি একটি করে ইতিহাস। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কস্টের অধ্যায়।

এপস্টেইন ফাইল দেখে আপনারা যারা বিচলিত, জেনে রাখুন ভয়াবহ আরেক বর্বরতা ঘটেছিলো ৭১এ এদেশেই, আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শুধু উপবাস নয়, আত্মশুদ্ধি অর্জনই রোজার মূল উদ্দেশ্য

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:০১

শুধু উপবাস নয়, আত্মশুদ্ধি অর্জনই রোজার মূল উদ্দেশ্য

ছবি, সংগৃহিত।

সারসংক্ষেপ

রমজানের রোজা ইসলামের অন্যতম মৌলিক ইবাদত। সাধারণ মুসলিম সমাজে রোজা ভঙ্গের ধারণা প্রধানত পানাহার ও যৌন সংসর্গের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অথচ কুরআন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

Will you remember me in ten years!

লিখেছেন করুণাধারা, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৫৫



উপরের ছবিটি ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে একজন ব্লগার তার এক পোস্টে দিয়েছিলেন। জানতে চেয়েছিলেন দশ বছর পর কেউ তাকে মনে রাখবে কিনা!! গতমাসে এই পোস্ট যখন আমার নজরে এলো, হিসাব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×