somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সাম্প্রতিক দুইটা বিষয় ভাইরাল হতে দেখলাম।

২৯ শে এপ্রিল, ২০২৪ রাত ৯:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সাম্প্রতিক দুইটা বিষয় ভাইরাল হতে দেখলাম।
১. এফডিসিতে মারামারি
২. ঘরোয়া ক্রিকেটে নারী আম্পায়ারের আম্পায়ারিং নিয়ে বিতর্ক

১. বাংলা সিনেমাকে আমরা সাধারণ দর্শকরা এখন কার্টুনের মতন ট্রিট করি। মাহিয়া মাহির বিয়ের সংবাদেও লোকে হাহা রিয়েক্ট করে, ডিভোর্স হয়ে কান্নাকাটির ঘটনাতেও তাই। সে বেচারি মাথায় ঘোমটা দিয়ে নির্বাচনী স্টান্ট করলেও লোকে সিরিয়াসলি নেয়না, সেখানেও হাহা রিয়েক্ট। শাকিব খানকে নিয়ে তার দুই বৌয়ের ছ্যাচড়ামিতো আরও এপিক পর্যায়ের কমেডি। দুই মহিলা নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতায় নেমেছে কে কার চেয়ে কতটা সস্তা প্রমান করতে পারে। ইদানিং শুনছি শাকিব খান পরিবারের পছন্দে আরেকটা বিয়ে করতে বসছে। তাই ওর আগের দুই বৌয়ের ঘরে প্রবেশ নিষেধ। আগে দুই বৌয়ে কামড়াকামড়ি করতো, এখন তিন বৌয়ে করবে। শাকিব খান তখন চতুর্থ কোন নায়িকাকে প্রেগন্যান্ট করার মিশনে ব্যস্ত থাকবে। আমাদের হাহা রিয়েক্ট সংখ্যার ভবিষ্যৎ অনেক উজ্জ্বল।
তা বাংলা সিনেমার আরেক কার্টুন ইভেন্ট হচ্ছে শিল্পী সমিতির নির্বাচন। মার্টিন স্করসিসি, স্টিভেন স্পিলবার্গ, ক্রিস্টোফার নোলান, জ্যাক নিকোলসন, রবার্ট ডি নিরো, টম হ্যাংকস, ডেনজেল ওয়াশিংটন - এরা বিশ্ব সিনেমার বাঁক বদলে ভূমিকা রাখলেও এদের কাউকে কখনও দেখলাম না শিল্পী সমিতির পদ নিয়ে কামড়াকামড়ি করতে। আমাদের জায়েদ খান, নিপুন, ইলিয়াস কাঞ্চন, ডিপজল, মিশা সওদাগর, আলেকজান্ডার বো নিজেদের সমস্ত প্রতিভা(!?!?!?!) আর সময় (যার কোন মূল্যই নেই ওদের কাছে) নির্বাচনের পেছনেই ব্যয় করে ফেলে - তারপরে আলাদা আলাদা সিন্ডিকেট তৈরী করে শিল্পের বারোটা বাজিয়ে দেয়। শিক্ষাঙ্গনের মতন রাজনীতি আমাদের দেশের সিনেমাকেও খেয়ে ফেলেছে। এরা কিভাবে সামনে এগোবে?
তা এইবার শিল্পী সমিতির নির্বাচনে মারামারি হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে, এবং এ নিয়ে যথারীতি পাবলিক হাহা রিয়েক্ট দিয়েছে। এর আগেও আমাদের শিল্পীরা ক্রিকেট খেলতে গিয়ে এমন কমেডির জন্ম দিয়েছিল। ভেবেছিলাম এইবারও হয়তো সেটাই ঘটেছে। পরে শুনি না। এককালের অশ্লীল সিনেমার নায়িকা ময়ূরীর মেয়েকে এক সাংবাদিক ওর মায়ের সিনেমা দেখে কিনা, এবং এর অনুভূতি কি সেটা জানতে চাইলে শিল্পীরা সেই সাংবাদিককে খানিকটা আদব কায়দা শিখিয়েছে।
আমাদের দেশে এখন সবচেয়ে বড় মহামারীর নাম সাংবাদিকতা। করোনার সময়ে এতটা করোনা রোগী পাওয়া যায়নি যতটা সাংবাদিক এখন আমাদের দেশে ঘুরে বেড়াচ্ছে। প্রতিটা অলিতে গলিতে সাংবাদিক কিলবিল করছে। সবার হাতে মোবাইল ফোন আছে, সবার নিজের নিজের ইউটিউব চ্যানেল আছে, ফেসবুক পেজ আছে, যেকেউ এখন ভাইরাল হওয়ার ধান্দায় সাংবাদিক হয়ে রাস্তায় নেমেছে। ভিউ এবং ট্রেন্ডে থাকাটাই এদের মূল লক্ষ্য। সংবাদে মশলা মিশালো নাকি মশলায় সংবাদ, এদের কিচ্ছু যায় আসেনা। মেইন স্ট্রিম মিডিয়ায় খবর পৌঁছাবার আগেই দেখবেন এরা সোশ্যাল মিডিয়ায় মিডিয়া ট্রায়াল শুরু করে দিয়েছে।
মাঝে মাঝে এদেরকে এদের অবস্থান জানান দিতেও অমন চেয়ার তুলে পেটানোর প্রয়োজন আছে। সাধারণ শিষ্টাচার, ভদ্রতা, রুচীবোধ ইত্যাদি যখন বাড়ি থেকে শিখে আসেনা, তখন বাইরের লোকেই শেখাক।

এই সূত্র ধরেই দুই নম্বর পয়েন্টে আসা যাক।

২. যে খবরটা ভাইরাল হয়েছে তা হচ্ছে, দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে এক নারী আম্পায়ার ম্যাচ পরিচালনা করতে গেলে ক্রিকেটাররা এবং টিম ম্যানেজমেন্ট নাকি বিচার দিয়েছে কোন নারী আম্পায়ারের অধীনে ওরা খেলবে না।
খবরটা ফেসবুকে কোন এক উজবুক প্রকাশ করতেই পাবলিক এতে আজকের যুগের সবচেয়ে ভাইরাল টপিক পেয়ে গেল, সেটা হচ্ছে "নারীবাদ" - এবং আর পায় কোথায়? সবাই ভাইরাল হওয়ার ধান্দায় সত্য মিথ্যা যাচাই বাছাই না করেই ঝাঁপিয়ে পড়লো।
পরে জানা গেল এমন কোন ঘটনাই ঘটেনি। ক্রিকেটাররা নাকি কোন আপত্তিই করেন নাই। ম্যানেজমেন্ট থেকে করলেও করে থাকতে পারে - সেটাও আম্পায়ারের লিঙ্গ নিয়ে নয়, রবং এত বড় ম্যাচে একজন আম্পায়ারের আনকোরা আম্পায়ারের অভিষেক ঘটনাকে নিয়ে। ইন্ডিয়া-পাকিস্তান ম্যাচে আপনি আমি আম্পায়ার দাঁড়িয়ে গেলে আমাদের বিরুদ্ধে শুধু ক্রিকেটাররাই না, দর্শকরাও আপত্তি জানাবে। এখানেও ঘটনা একই। অথচ, ফেসবুক জুড়ে জাতীয় ক্রিকেটারদের গুষ্ঠি উদ্ধার শেষ।
আচ্ছা, এই যে কান কথায় লাফানো পাবলিকরা যখন জানতে পারে ওরা বেহুদাই লাফালাফি করেছে, মূল ঘটনা জানার পরে ওদের কি একটুও লজ্জাবোধ হয় না? সাবধান হয় না যে পরেরবার ভাল মতন খোঁজখবর নিয়ে তারপরে নামবে?
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৪ রাত ৯:৪১
১১টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ব্লগার ভাবনা: ব্লগ জমছেনা কেন? এর পেছনে কারণ গুলো কি কি? ব্লগাররা কি ভাবছেন।

লিখেছেন লেখার খাতা, ১৩ ই জুন, ২০২৪ রাত ৮:৩৫


সুপ্রিয় ব্লগারবৃন্দ,
আম পাকা বৈশাখে বৈশাখী শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করছি। কাঠফাটা রোদ্দুরে তপ্ত বাতাস যেমন জনপ্রাণে একটু স্বস্তির সঞ্চার করে, ঠিক তেমনি প্রাণহীন ব্লগ জমে উঠলে অপার আনন্দ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাকার ২৭ নম্বর সমুদ্রবন্দর থেকে

লিখেছেন অপু তানভীর, ১৩ ই জুন, ২০২৪ রাত ১১:০০

চারটার দিকে বাসায় ফেরার কথা ছিল । তবে বৃষ্টির কারণে ঘন্টা খানেক পরেই রওয়ানা দিতে হল । যদিও তখনও বৃষ্টি বেশ ভালই পড়ছিল । আমি অন্য দিন ব্যাগে করে রেইনকোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুক্তিযুদ্ধা কোটা ব্যাবস্থা কাউকে বঞ্চিত করছে না।

লিখেছেন হাসান কালবৈশাখী, ১৪ ই জুন, ২০২৪ রাত ৩:৩২

কোটা ব্যাবস্থা কাউকে বঞ্চিত করছে না।
সকল যোগ্যতা জিপিএ-্র প্রমান দিয়ে, এরপর প্রিলিমিনারি পরীক্ষা, সেকেন্ডারি।
এরপর ভাইবা দিয়ে ৬ লাখ চাকুরি প্রার্থি থেকে বাছাই হয়ে ১০০ জন প্রাথমিক নির্বাচিত।

ধরুন ১০০... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিউ জার্সিতে নেমন্তন্ন খেতে গিয়ে পেয়ে গেলাম একজন পুরনো ব্লগারের বই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৪ ই জুন, ২০২৪ দুপুর ১২:৩৭

জাকিউল ইসলাম ফারূকী (Zakiul Faruque) ওরফে সাকী আমার দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধুর ঘনিষ্ঠ বন্ধু; ডাঃ আনিসুর রহমান, এনডক্রিনোলজিস্ট আর ডাঃ শরীফ হাসান, প্লাস্টিক সার্জন এর। ওরা তিনজনই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের একই... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেনজীর তার মেয়েদের চোখে কীভাবে চোখ রাখে?

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ১৪ ই জুন, ২০২৪ বিকাল ৩:০৬


১. আমি সবসময় ভাবি দুর্নীতিবাজ, ঘুষখোর যারা মিডিয়ায় আসার আগ পর্যন্ত পরিবারের কাছে সৎ ব্যক্তি হিসেবে থাকে, কিন্তু যখন সবার কাছে জানাজানি হয়ে যায় তখন তারা কীভাবে তাদের স্ত্রী,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×