
সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ১০৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৫। তোমরা তাদের মত হবে না যারা তাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণ আসার পর বিচ্ছিন্ন হয়েছে ও নিজেদের মাঝে মতভেদ সৃষ্টি করেছে। তাদের জন্য মহাশাস্তি রয়েছে।
সূরাঃ ৪ নিসা, আয়াত নং ১১৫ এর অনুবাদ-
১১৫। কারো নিকট সৎপথ প্রকাশ হওয়ার পর সে যদি রাসুলের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং মু’মিনদের পথ ব্যতিত অন্যপথ অনুসরন করে, তবে সে যে দিকে ফিরে যায় সে দিকেই তাকে ফিরিয়ে দেব এবং জাহান্নামে তাকে দগ্ধ করব, আর উহা কত মন্দ আবাস।
সূরাঃ ২ বাকারা, ২০১ নং আয়াতের অনুবাদ-
২০১। আর তাদের মধ্যে কিছু লোক বলে, হে আমাদের রব! আমাদেরকে ইহকালে কল্যাণ দান করুন এবং পরকালে কল্যাণ দান করুন। আর আমাদেরকে জাহান্নামের আগুন হতে রক্ষা করুন।
* যারা মাতভেদে লিপ্ত তাদের জন্য মহাশাস্তি রয়েছে। আর সেই মহাশাস্তি হলো জাহান্নাম। যারা সঠিক তারা বেঠিকদের সাথে অবিরাম মতভেদ নিরসনের চেষ্টা না করলে আল্লাহ তাদেরকেও জাহান্নামে নিক্ষেপ করতে পারেন। ইহকালেও মতভেদের কারণে মহাশাস্তির মধ্যে পড়তে হতে পারে।
সূরাঃ ২ বাকারা, ২৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৫৩। ঐসব রাসূলদের আমরা তাদের কোন জনের উপর কোন জনকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি। তাদের মধ্যে কোন জনের সঙ্গে আল্লাহ কথা বলেছেন।আর কোন জনকে উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করেছেন। আর আমরা মরিয়ম পুত্র ঈসাকে প্রকাশ্য মুজেযা দান করেছি। আর তাকে পবিত্র আত্মা দ্বারা সাহায্য করেছি।আর আল্লাহ ইচ্ছা করলে নবিগণের পরবর্তী লোকেরা পরস্পরের সঙ্গে যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত হতো না। কিন্তু তারা পরস্পর ইখতিলাফ (মতভেদ) করেছিল।তাতে তাদের কিছু লোক মুমিন এবং কিছু লোক কাফের হয়ে গেল। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তারা পরস্পর যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত হতো না। কিন্তু আল্লাহ যা ইচ্ছা তাই করে থাকেন।
* মতভেদের কারণে সাহাবায়ে কেরাম (রা.)পরস্পরের সঙ্গে যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত হয়ে হাজারে হাজারে নিহত হয়েছেন। তাতে কিছু লোক মুমিন থাকলেও কিছু লোক কাফের হয়ে গেল। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তারা পরস্পর যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত হতেন না। কিন্তু আল্লাহ তাঁদের পরস্পরের সঙ্গে যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত না হওয়ার ইচ্ছা করেননি। কারণ আল্লাহর পছেন্দের একটি কাজ তাঁরা করেননি। কি সেই কাজ?
সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতাম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে তাঁর পথ হতে বিচ্ছিন্ন করবে। এভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিলেন যেন তোমরা সাবধান হও।
সূরা: ৯ তাওবা, ১২২ নং আয়াতের অনুবাদ-
১২২। আর মু’মিনদের এটাও উচিৎ নয় যে (জিহাদের জন্য) সবাই একত্রে বের হয়ে পড়বে। সুতরাং এমন কেন করা হয় না যে, তাদের প্রত্যেক বড় দল হতে এক একটি ছোট দল (জিহাদে) বের হয় যাতে অবশিষ্ট লোক ফিকাহ (দীনের গভীর জ্ঞান) অর্জন করতে থাকে। আর যাতে তারা নিজ কওমকে ভয় প্রদর্শন করে, যাতে তারা সাবধান হয়।
সূরাঃ ৫ মায়িদা, ৬৭ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৭। হে রাসূল! তোমার রবের নিকট থেকে তোমার প্রতি যা নাযিল হয়েছে তা’ প্রচার কর। যদি না কর তবে তো তুমি তাঁর রেসালাত প্রচার করলে না। আল্লাহ তোমাকে মানুষ হতে রক্ষা করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফির সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না।
সূরাঃ ৪ নিসা, ৫৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
৫৯। হে মুমিনগণ! যদি তোমরা আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাস কর তবে তোমরা (ইতায়াত) আনুগত্য কর আল্লাহর, আর (ইতায়াত) আনুগত্য কর রাসুলের, আর যারা তোমাদের মধ্যে আমির।কোন বিষয়ে তোমাদের মধ্যে বিরোধ দেখাদিলে উহা উপস্থাপিত কর আল্লাহ ও রাসুলের নিকট। ওটা উত্তম এবং পরিনামে ভাল।
সূরাঃ ৪৮ ফাতহ, ২৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৯। মোহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল; তাঁর সহচরগণ কাফিরদের প্রতি কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল; আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনায় তুমি তাদেরকে রুকু ও সিজদায় অবনত দেখবে।তাদের লক্ষণ তাদের মুখমন্ডলে সিজদার প্রভাব পরিস্ফুট থাকবে: তওরাতে তাদের বর্ণনা এরূপ এবং ইঞ্জিলেও তাদের বর্ণনা এরূপই। তাদের দৃষ্টান্ত একটি চারা গাছ, যা থেকে নির্গত হয় নতুন পাতা, অতঃপর ইহা শক্ত ও পুষ্ট হয় এবং পরে কান্ডের উপর দাঁড়ায় দৃঢ়ভাবে যা চাষীদের জন্য আনন্দ দায়ক। এভাবে মুমিনদের সমৃদ্ধি দ্বারা আল্লাহ কাফিরদের অন্তর্জালা সৃষ্টি করেন। যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে আল্লাহ তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ক্ষমা ও মহাপুরস্কারের।
* আল্লাহর পছন্দের কাজটি ছিল অভিন্ন ফিকাহের যথাযথ শিক্ষার ব্যবস্থা। রেসালাতের পর এটি বেলায়াত, খেলাফত, ইমামাত ও ইমারাতের দায়িত্ব ছিল। কোন পক্ষ থেকে কাজটি করা হয়নি বিধায় সাহাবায়ে কেরামের (রা.) বেলায়াত, খেলাফত, ইমামাত ও ইমারাতের দায়িত্বপ্রাপ্তগণকে আল্লাহ আল্লাহ মানুষ রক্ষা করেননি। প্রথম খলিফা ফিতনার সাথে যুদ্ধ করে জীবন পার করেছেন এবং অন্য সবাই ফিতনার হাতে নিহত হয়েছেন। হযরত মুয়াবিয়া (রা.) মোয়াল্লাফাতে কুলুবের আওতাভূক্ত থাকায় তিনি রক্ষা পেয়েছেন।এমতাবস্থায় কুফুরী বেড়ে যাওয়ায় কারবালায় সাহাবায়ে কেরামের (রা.) শেষ ইমাম হযরত ইমাম হোসেন (রা.) তাঁর প্রতিপক্ষে কোন মুমিন খুঁজে পাননি। তারা তাদের ইমামের মাথাকেটে ইয়াজিদকে উপহার দেয়।
সূরাঃ ৬২ জুমুআ, ২ নং থেকে ৪ নং আয়াতের অনুবাদ।
২। তিনিই উম্মীদের মধ্যে একজন রাসুল পাঠিয়েছেন তাদের মধ্য হতে, যে তাদের নিকট আবৃত করে তাঁর আয়াত সমূহ; তাদেরকে পবিত্র করে এবং শিক্ষা দেয় কিতাব ও হিকমাত; এর আগে তো এরা ছিল ঘোর বিভ্রান্তিতে।
৩। আর তাদের আখারিনের (অন্যান্য) জন্যও যারা এখনো তাদের সহিত মিলিত হয়নি। আল্লাহ পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়।
৪। ওটা আল্লাহরই অনুগ্রহ, যাকে ইচ্ছা তিনি ওটা দান করেন। আর আল্লাহ তো মহা অনুগ্রহশীল।
সূরাঃ ৪২ শূরা, ৩৮ নং আয়াতের অনুবাদ-
৩৮।যারা তাদের রবের ডাকে সাড়া দেয়। সালাত কায়েম করে। নিজেদের মধ্যে শুরার (পরামর্শের) মাধ্যমে নিজেদের কাজ সম্পাদন করে। আর আমরা তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি তা’ হতে ব্যয় করে।
সূরাঃ ২ বাকারা, ১২৪ নং আয়াতের অনুবাদ-
১২৪। আর যখন তোমার প্রতিপালক ইব্রাহীমকে কয়েকটি বাক্য (কালিমাত) দ্বারা পরীক্ষা করেছিলেন, পরে সে তা পূর্ণ করেছিল; তিনি বললেন নিশ্চয়ই আমি তোমাকে মানব জাতির ইমাম বানাব; সে বলেছিল আমার বংশধরগণ হতেও; তিনি বলেছিলেন, আমার প্রতিশ্রুতি জালেমদের প্রতি প্রযোজ্য হবে না।
সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ১০৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৩। তোমরা একত্রে আল্লাহর রজ্জু দৃঢ়ভাবে ধর! আর বিচ্ছিন্ন হবে না। তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ কর।যখন তোমরা শত্রু ছিলে তখন তিনি তোমাদের অন্তরে প্রীতি সঞ্চার করেছেন, ফলে তাঁর দয়ায় তোমরা পরস্পর ভাই হয়ে গেলে।তোমরাতো অগ্নি কুন্ডের প্রান্তে ছিলে, আল্লাহ উহা হতে তোমাদেরকে রক্ষা করেছেন। এভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্য তাঁর নিদর্শনসমূহ স্পষ্টভাবে বিবৃতকরেন যাতে তোমরা সৎপথ পেতে পার।
সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ১ নং আয়াতের অনুবাদ-
১।প্রশংসা আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর, যিনি বার্তাবাহক করেন মালাইকাকে (ফেরেশতা) যারা দুই-দুই, তিন-তিন অথবা চার-চার পাখা বিশিষ্ট। তিনি তাঁর সৃষ্টিতে যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন। আল্লাহ সর্ব বিষয়ে সর্ব শক্তিমান।
* ইমাম আবু হানিফার (র.) নেতেৃত্বে আখারিনের শুরায় অভিন্ন ফিকাহ সংকলিত হয়। ইব্রাহীম (আ.) বংশিয় আমির আব্বাসীয় খলিফা হারুনুর রশিদের শুরায় আখারিন সংকলিত ফিকাহ পরিশোধীত হয়ে হানাফী মাযহাব নামে অনুমোদীত হলে দুই তৃতীয়াংশ মুসলিম এর অনুসারী হয়। তাদের প্রতি আল্লাহর ক্রোধ কমে টানা এগারশ বছর তারা মুসলিম বিশ্ব শাসন করে।তাদের সাথে মতভেদকারী কোন দল মুসলিম বিশ্ব শাসক হয়নি। এখন তাদের মুসলিম বিশ্ব শাসন থামলেও মুসলিমদের অধীকাংশ অঞ্চল, দেশ ও জনসংখ্যা তাদের। মুসলিমদের মধ্যে একমাত্র তারাই বিশ্ববিস্তৃত। তাদের কারণেই ইসলাম বিশ্ব ধর্ম। মুসলিমদের মধ্যে একমাত্র তাদের নিকট পরমাণূ অস্ত্র রয়েছে। তবে তারাও অভিন্ন ফিকাহ শিক্ষার যথাযথ ব্যবস্থা করেনি এবং চালু করেনি অন্যদের সাথে তাদের মতভেদ নিরসন কেন্দ্র।একই নামাজের জামায়াতে কেউ বুকে হাত বাঁধে, কেউ নাভির নীচে হাত বাধে এবং কেউ হাত বাধে না। এসব করে তারা আল্লাহর ঐক্যবদ্ধ থাকার আদেশের সাথে তামাসা করে।আল্লাহ আমাকে স্বপ্নে বলেছেন যারা তাঁর সাথে তামাসা করে তিনিও পরকালে তাদের সাথে তামাসা করবেন। সেই তামাসা হবে আল্লাহর কঠিন শাস্তি। আল্লাহর এ কঠিন শাস্তি হতে বাঁচতে হলে মুসলিমদেরকে মতভেদ নিরসন কেন্দ্র চালু করতে হবে। তাদেরকে মতভেদ নিরসনের চেষ্টা করতে হবে। তারা যদি মতভেদ নিরসনের চেষ্টাই না করে তবে তাদের মতভেদ নিরসন হবে কেমন করে? আল্লাহর সাথে আমার তিনবার স্বপ্নে কথা হয়েছে এবং একরার আমার সাথে আমি তাঁর আচরণ দেখে বুঝেছি তিনিন আমার উপর সন্তুষ্ট। আর রাসূলকে (সা.) আমি চার বার স্বপ্নে দেখেছি। একবার আমি তাঁর খেদমত করেছি যাতে তাঁকে আমার প্রতি সন্তুষ্ট দেখেছি। মুসলমানদের ইবাদতের মতভেদে আল্লাহ মহাঅসুন্তষ্ট। বিশেষ করে তাঁর সবচেয়ে পছন্দের ইবাদত নামাজ বিষয়ে মতভেদ দেখে তিনি সবচেয়ে বেশী কষ্ট পান। গাজার লোক, ইরানের লোক হানাফীদের সাথে মতভেদ করে। তাদের পক্ষে ফেরেশতা যুদ্ধ করলে তারা রক্ষা পেত। কিন্তু আল্লাহ তাদেরকে মানুষ থেকে রক্ষা করছেন না। হানাফীদের মধ্যেও অনেক সমস্যা। পাকিস্তান-বাংলাদেশ যুদ্ধ করেছে একাত্তর সালে। পাকিস্তান-আফগানিস্তান যুদ্ধ করছে ২০২৬ সালে। এসব আল্লাহর মহাবিরক্তিকর বিষয়। এ অঞ্চলে হিন্দুরা মুসলিম গণহত্যা শুরু করবে। তখন গযওয়ায়ে হিন্দ সংগঠিত হয়ে হানাফীরা জয়ী হবে। আর গযওয়ায়ে হিন্দের যুদ্ধে জয়ীদেরকে রাসূল (সা.) নাজাতপ্রাপ্ত বলেছেন।সুতরাং নাজাতপ্রাপ্ত হানাফীদের সাথে অন্যদের মতভেদ মহা অপরাধ। হানাফী নাজাতপ্রাপ্ত হলেও তাদের নিজেদের ও অন্যদের সাথে তাদের মতভেদ নিরসনে কাজ করতে হবে। মতভেদ নিরসন কাজে যারা যুক্ত হবে না তাদের পরকাল অনিশ্চিত।আব্বসীর মত অন্যকে কাফের বলে চিৎকার দিলেই হবে না কুফুরী নিরসনে অবিরাম পরিশ্রম করতে হবে। হানাফী মাযহাবের অনুসারী না হলে জাকির নায়েকেরও নিস্তার নাই। অবশ্য যারা ভালো কাজ করে জাহান্নামে তাদের শাস্তি কম হবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


