
(এক)
দশম শ্রেণির ছেলে সাদমান সারাদিন ফোনে ডুবে থাকত। বাবা-মা বকাঝকা করলে প্রায়ই অভিমান করে ভাত খেতো না। একদিন রাতে ঘরের দরজা বন্ধ। ভোরে দরজা ভেঙে সবাই স্তব্ধ। খবরের কাগজে লেখা হলো “কিশোরের আত্মহত্যা”..!!!
(দুই)
মেয়েটা প্রতিদিন কোচিংয়ে যেত একা একাই। বড় হওয়ার স্বপ্ন আছে তার দুই চোখে। বাড়ি ফিরতে পথে ইভ টিজিংয়ের শিকার হয় ইদানিং। গতকাল থানায় অভিযোগ দিয়ে আসার পর বাবার মনে ভয় এসে বাসা বেধেছে। মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে উৎকন্ঠা আর শংকা বেড়েই চলছে....!!
(তিন)
দুই বন্ধুর ঝগড়া শুরু হয়েছিল তুচ্ছ কথায়। তারপর পাড়ার চায়ের দোকানে তর্ক বাড়তে থাকে। একসময় ছুরি বের হয়। এক বন্ধু মাটিতে পড়ে থাকে রক্তাক্ত হয়ে। খবরের কাগজে শিরোনাম “কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাতে জনমনে অসন্তোষ....!!!
(চার)
কলেজ থেকা ছেলের ফিরতে দেরি হওয়ায় মায়ের মনে উৎকন্ঠা বেড়েই চলছে । ওদিকে ছেলে তার প্রেয়সীর প্রত্যাখান সইতে না পেরে ভেবেছিলো জীবনটা শেষ। সন্ধ্যায় রেললাইনের পাশে ভিড় জমে। পকেটে পাওয়া যায় চিরকুট। পরদিন সংবাদ “ অজ্ঞাত কিশোরের লাশ উদ্ধার......!!!
(পাঁচ)
খলিল মিয়া একসময় স্কুলের শিক্ষক ছিলো। স্ত্রী তিন মাস আগে গত হয়েছেন। এখন তার দেখভাল করার মতো আর কেউ নেই। একটা মাত্র ছেলে। সে গতকাল ছেলে ফোনে জানিয়ে দিয়েছে শহরে তার বাসাটা খুব ছোট। মাষ্টার সাহেব নিজেই বৃদ্ধাশ্রমে নাম লিখিয়ে এসেছে। খবরের কাগজে এসব খবর ছাপা হয় না......!!
(ছয়)
শহরের উচু উচু বিল্ডিংয়ে ঝুলে ঝুলে রংয়ের কাজ করত জসিম। দেখলেই হাত-পা শিরশির করে উঠতো অনেকের। গ্রামে থাকা বৌয়ের মুঠোফোনে একদিন খবর এলো নির্মাণ সাইটে রশি ছিড়ে থেকে পড়ে গেছে জসিম। তারপর দিনে লাশ ফিরল কাঠের বাক্সে...!!!
(সাত)
জমিজমা নিয়ে ভাইদের ঝগড়া নতুন নয়। গ্রামের সবাই জানতো। একদিন দুপুরে ছোট ভাইয়ের হাতে হঠাৎ দা উঠলো। রক্ত শুকিয়ে যাওয়ার পরই নীরব হলো উঠোন। সম্পর্কের জায়গাটা এখন নিয়ে নিয়েছে কোট-কাছারির মামলা....!!!
(আট)
শহরের অন্ধকার গলিতে ছিনতাই হয় প্রায়ই। সেদিন ফিরছিল এক অফিসকর্মী। মোবাইল দিতে দেরি হয়েছিল তার। ছুরির আঘাতে পড়ে যায় রাস্তায়। আমি খবর পেয়ে ফেজবুকে পোষ্ট দিয়েছি “ মুমুর্ষ রোগীর জন্য এক ব্যাগ বি নেগেটিভ রক্তের প্রয়োজন.....।!!!
ঢাকা, রবিবার।
২৯ মার্চ, ২০২৬ খ্রীস্টাব্দ।
ছবিঃ অন্তর্জাল।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:১১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



