যদি কাউকে প্রশ্ন করা হয় দেশ আগে না ধর্ম আগে তবে আমার বিশ্বাস বেশির ভাগ মানুষ বলবে দেশ আগে। কিন্তু একবার ও ভেবে দেখবেনা সীমানার বেড়াজালে এই দেশভাগ হওয়া শুরু হয় ১৯২৪ সালের পরে।
তাছাড়া আজ যেটা স্বদেশ সময়ের ব্যবধানে ক্ষমতা আর রাজনৈতিক মারপ্যাচে একটু পরে বিদেশ, খুব বেশি সময় নেয় না। ৪৭ এর পর একই ভাষাভাষী হবারপরও আমাদের পার্শবর্তী কলকাতা হয়ে গেল বিদেশ আর ভিন্ন ভাষা সংস্কৃতির দূর করাচি হয়ে গেলে বিদেশ। ৭১ এর পর করাচি কলকতা দুটাই বিদেশ। এছাড়া বিশ্বে বহুদেশ একদেশের থেকে অন্য দেশের মিলন আবার বিছিন্ন হতে সংগ্রাম ও দেখেছি। সুদান যেমন ভাগ হয়েছে তেমনি মিল হয়েছে জার্মানি। তাইওয়ান, কিউবা, ইউক্রেনের কথা নাইবা বললাম।
.
কিন্তু এই দেশ নিয়ে আমাদের মাতামাতির শেষ নেই। পবিত্র রমযান মাসেও দেশের খেলার অযুহাতে রোজা নামায বাদ দিতেও পিছপা হয়নি। দোয়া কবুলের যে মাসে আল্লাহ গুনাহ মাফ করার জন্য উত্সাহিত করেছেন। সেখানে আমরা অপব্যবহার করছি গুনাহে লিপ্ত কাজে জয় লাভ করার জন্য।
.
কয়েকদিন যাবত ফেসবুক মেতে আছে খেলোয়ার নাসির ফেসবুক পেজে তার আপলোড কৃত বোনের ছবিতে কিছু অতিভদ্র মানুষের উচ্চমাত্রার কমেন্ট নিয়ে। অনেক গুলো কমেন্ট পড়ার সুযোগ আমার আগেই হয়েছিল পরে স্কিনশর্ট পড়লাম। আমার ব্যক্তিগত ভাবে কোন মত নেই তবে একযোগে সবার জেগে ওঠা অনুপ্রানিত করছে। ভাল লেগেছে পুলিশের কথা, যারা টিএসসির প্রকাশ্য ঘটনাকে দুষ্টামি বলারা ফেসবুকে ঘটনায় ব্যবস্হা নেয়ার কথা বলেছেন। আর সব থেকে মজার ব্যাপর হলো কয়েদিন আগেও যারা মেয়েদের পচিয়ে পচিয়ে স্ট্যাটাস দিতো অল্প সময়ে তারা গিরগিটির মত রঙ পাল্টিয়ে তারাও নাসিরের পক্ষে অবস্হান নিয়ে দেশ প্রেমিক হতে ভূমিকা রেখেছে।
সে যে মানসিকতার যে মানুষই হোক না কেন, মৌসুমে ভাবে ভাল কাজ করলেও নেহাত মন্দ না। কিন্তু খেলা নিয়ে উজ্জিবিত জনতা যখন ধর্মের ব্যাপারে একদম নিশ্চুপ ভূমিকা রাখে তখন তাদের উচ্চ মানসিকতা আমায় ভাবিয়ে তোলে। ভাবিয়ে তোলে অস্পষ্ট গালির পক্ষে জাগ্রত ব্যক্তিত্বের নোংরামিতে চুপ থাকায়।
.
আব্দুল লতিফ সিদ্দিকি ! হজ্জ, তাবলিগ আর প্রান প্রিয় হযরত মুহাম্মাদ সাঃ কে কটুক্তি করে ছিল দম্ভভরে। ইসলামপন্হীদের আন্দোলন আলটিমেটামে অনেক নাটকীয়তার পর আত্মসমার্পন করেছিল লতিফ সিদ্দিকি। নিন্দুকেরে অবশ্য বলে তার এই আত্মসমর্পন গ্রেফতার নাটক আর অস্পষ্ট যে শাস্তির বিধান করে কয়েকমাস যে জেলে রাখা হয়েছিল তা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার জন্যনয় বরং জয় বাবাজীকে নিয়ে যতটুকু বলছিল তার ফলস্বরূপ। তারপরও মানলাম না নিন্দুকের কথা, ধরে নিলাম সরকার তাওহীদি জনতার পক্ষে নিয়ে আটক রেখে ছিল কাজ্জাব লতিফ সিদ্দিকিকে। কিন্তু আমার বুঝে আসে না কিভাবে একসাথে সাত সাতটি মামলায় জামিন মেলে। অস্বাভাবিকতাকেও না হয় মেনে নিলাম স্বাভাবিকভাবে যে জামিন হতে পারে। কিন্তু স্হগিত করা হল কিসের উপর ভিত্তি করে ? আমরা জানি যে বিচার বিভাগ নিরপেক্ষ নয় বরং সরকারের পক্ষে। তারপরও রায় প্রশ্নবিদ্ধ করে আমাদের বারবার বোঝানোর কি দরকার ? আবার শুনছি বাদীদের নাকি খুজে পাওয়া যাচ্ছে না । আমার ভয় সুখরন্জন বালি আর ইলিয়াস আলীর মতো তাদেরকেও আবার গুম করে রাখা হয়নি তো !
.
লতিফ সিদ্দিকির বিরুদ্ধে মামলা ছিল প্রায় ২২টা তার ভিতর ৭টা মামলা স্হগিত করলেও বাকী থাকে ১৫টা কিন্তু তা স্বত্তেও জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। পবিত্র রমজান মাস মুসলিমদের ফরয ইবাদতের অন্যতম আর এই মাসেই আরেকটি ফরয ইবাদতকে কটুক্তিকারী কাজ্জাবকে মুক্তি দেয়া হলো। এটা সরকারের নতুন কোন দাবার চাল তা স্পষ্ট। তারপরও আমাদের কি কিছু করার নেই ? আমরা ধরেই নিয়েছি সব দায় ইসলামপন্হী শফী সাহেবের মতো হুজুরের। তারা প্রতিবাদ করবে আর আমরা তাদের পর্যালোচনা করবো। নাসিরের এবং তার বোন পক্ষে গালির বিরুদ্ধে স্ট্যাটাস দেয়া ছেলেটিও কাজ্জাব কাফেরের গালির শাস্তি চাওয়া তার মুক্তির বিপক্ষে কথা বলতে ভয় পায়। যদি তাকেও নিক্ষেপ হতে হয় কারাগারের চার দেয়ালের ভিতর অন্য ভাইদের মতো। কিন্তু কেন এতো ভয় ভাই ?
তোমরা কি ভেবেই নিয়েছো যে এমনি এমনি জান্নাত পেয়ে যাবে আর আল্লাহ তোমাদের পরীক্ষা গ্রহন করবে না ? তোমরা কি দেখছো না সকালে নিজের ভিতর বিবাদকারী ইসলাম বিদ্বেষীরা রাতে এক টেবিলে জোটবদ্ধ। তাদের এই জোট দেখেও কি তোমাদের হুশ ফিরবে না ? আর কত কাল চুপ থাকবে ?
ফেসবুক পেজে কটুক্তিকারীদের বিচারের দাবীতে যদি প্রতিবাদের ঝড় তুলতে পারো তবে কাজ্জাব লতিফ সিদ্দিকিতে নিশ্চুপ কেন ? তোমাদের কি লতিফ সিদ্দিকির অপরাধ কম মনে হয় ?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


