somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কলামিস্ট রামচন্দ্র গূহর শেখ হাসিনার ''দ্রুত পতনের'' পদ্ধতিদ্বয়ের বিশ্লেষণ

০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত ৩ ডিসেম্বর কলকাতার দৈনিক টেলিগ্রাফ পত্রিকায় ভারতীয় ঐতিহাসিক রামচন্দ্র গুহ বাংলাদেশের বর্তমান ও ভবিষ্যত নিয়ে
নিবন্ধে উল্লেখ করেন শেখ ‍হাসিনা সাম্রাজ্যের পতন দু ভাবে হতে পারে।

১।'' বিরুদ্ধ মতবাদের দরজা বন্ধ থেকে ইসলামী গ্রুপের উত্থান থেকে''
২। '''অথবা আর্মি নতুন করে ক্ষমতা দখল করে নিতে পারে''


'' বিরুদ্ধ মতবাদের দরজা বন্ধ থেকে ইসলামী গ্রুপের উত্থান থেকে''- ইসলামি গ্রুপের উত্থানের ভিত্তি ধার্মিক জনগোষ্ঠি বাংলাদেশে নেই। বঙ্গালী ধর্মপ্রাণ হলেও ধার্মিক নয়।ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জরিপ মতে ৯০ ভাগের উপর বাংলাদেশী নিয়মিত ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন না।কোন জনগোষ্ঠির রাতারাতি ধার্মিক হওয়া হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা দ্বারাও সম্ভব না।আর, তার উপর বাংলাদেশের প্রধান ইসলামি দল হল জামাতে ইসলামী।তাদের বর্তমান জনসমর্থন মাত্র ৫ ভাগ।আর বর্তমানে তারা বৃহত্তর সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন।৭১ সাল নিয়ে তাদের বাচ্চাসুলভ লুকোচুরি অব্যাহত আছে।পাকিস্তান জামাতের আমির সিরাজুল হ্বক প্রকাশ্যে তৎকালীন জামাতের অবস্থান স্বিকার করলেও বাংলাদেশের জামাত ১৮০ ডিগ্রি উল্টিয়ে অস্বিকার করে।জামাতের ''ইসলামি আন্দোলনের উপর বাতিলের আঘাত'' তত্ত্ব দিয়ে শাক দিয়ে আর মাছ ঢাকা যাচ্ছেনা।বাংলাদেশের জনতা যতই আ লীগ বিরোধী বা রাতারাতি ধার্মিক হলেও ৭১ ইস্যুতে জামাতের সাথে সুরাহা না করে এককভাবে জামাতকে যেতে দিবেনা এটা দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট।

এরপর আসে, দেওবন্দী ধারার কওমি মাদ্রাসা ভিত্তিক বহুধা বিভক্ত রাজনৈতিক প্লাটফর্মের আম্ব্রেলা অর্গানাইজেশন হেফাজতে ইসলাম। কওমি মাদ্রাসা ভিত্তিক রাজনীতির সূচনা মরহূম হাফেজ্জী হুজুরের মাধ্যমে নব্বইয়ের দশকে শুরু হয়।তাদের মধ্যে প্রযুক্তি,নব্য কলা-কৌশল বিরোধী লোকও রয়েছেন।তাদের সরকার দর্শন বাংলাদেশের জনতার কাছে পরিষ্কার নয়।তাদের মধ্যে এমনও ব্যাক্তি রয়েছেন যারা আফগাণে সোভিয়েত রাশিয়ার বিরুদ্ধে জিহাদের পর বাংলাদেশে ফিরে এসে ''আমরা সবাই তালেবান,বাংলা হবে আফগাণ'' স্লোগান দিতেন।

সমতল ভূমির ঘনবসতিপুর্ণ বাংলাদেশে আল কায়েদা,তালেবান,আই এসের মত সশ্বস্ত্র বিদ্রোহ করার মত জিও-স্রাটেজিক অবস্থান নেই,যেমনটা পাক-আফগাণ সিমান্তের দুর্গম বৃস্তিত পাহাড় অঞ্চল বা লোকশূন্য মধ্যপ্রাচ্যের মরভুমিগুলো লড়াইরত পক্ষগুলোর বাফারজোন হিসেবে কাজ করে।পার্বত্য চট্টগ্রাম অমুসলিম অধ্যুষিত।বাংলাদেশের সিংহভাগ সীমানা ভারত বেশিষ্ট হওয়ায় ''র'' এর মদত ছাড়া বি এস এফের কড়া নজরদারী ফাঁকি দিয়ে বর্ডার ক্রস করে পিছু হটে ঘাঁটি গড়ার যায়গা নেই।রোহিঙ্গা মুসলিম নির্মূলে প্রতিশ্রূতিবদ্ধ নব্য-নাজি বৌদ্ধ ভিক্ষুদের চারণভূমি মিয়ানমারে প্রশ্নই উঠেনা।

'''অথবা আর্মি নতুন করে ক্ষমতা দখল করে নিতে পারে''- ৭৫রের আর্মি ছিল পাকিস্তান আর্মির উত্তারিধিকারি।ট্রেনিঙ্গ হয় দ্বি-জাতি তত্বের ভিত্তিতে। পাকিস্তান আর্মি নিজেদের রাষ্ট্র পরিচালনার অঙ্গ মনেকরে এবং প্রয়োজন মনে করলে ক্ষমতা গ্রহনে দ্বিধা করেনা।প্রতিরক্ষার পাশাপাশি পাকিস্তানের পররাষ্ট্র এবং কাশ্মিরনিতী আজও পাকিস্তান আর্মির অধীন।

অপরদিকে,আজকের বাংলাদেশ আর্মি মিশরের আর্মির মত জায়ান্ট কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান। আ লীগ সরকার বাংলাদেশ আর্মিকে ব্যপকভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহনের সুযোগ করে দিয়েছে।মিশরের আর্মি মিশরের ইতিহাসে নির্বাচিত প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মুরসিকে ক্ষমতাচুত্য করে মিশরের অর্থনিতীতে অধিপত্য হারানোর আশংকায়।বাংলাদেশে ভিন্ন কোন সরকার আসলে আর্মির এই সুযোগ রদ করার সম্ভাবনা প্রবল। তাই শেখ হাসিনাকে উৎখাতের মাধ্যমে আম-ছালা দুটোই হারানোর ঝুঁকি কোন অর্থনৈতিক কর্পোরশন নিবেনা।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:৪৩
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আম্রকাননের আগুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:২১


আম্রকাননের আগুন

এপ্রিলের এক দুপুর।
বাতাসে বারুদের গন্ধ, আকাশে অনিশ্চয়তার মেঘ।
মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় আমগাছের ছায়ায় এসে দাঁড়ালেন কয়েকজন মানুষ।
দূরে চুয়াডাঙ্গা জ্বলছে, তবু এখানে শপথ।
একটি আমবাগান সেদিন হয়ে উঠল একটি দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৮ ভগ্ন শাখা- ভগ্ন জীবন

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

জীবনের ভগ্নদশা অনেকটা এমন এক বৃক্ষের মতো, যার ডালপালা একে একে বিলুপ্ত হয়েছে।

একসময় যে শাখাগুলোতে স্বপ্ন, সম্পর্ক ও সম্ভাবনার পাতা দুলত, আজ সেখানে শূন্যতা ও নীরবতা। তবু কাণ্ডটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

/স্বাধীনতা বিরোধীদের safe home আগে ছিলো লিবিয়া আর এখন হলো তুরস্ক।

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১২

/স্বাধীনতা বিরোধীদের safe home আগে ছিলো লিবিয়া আর এখন হলো তুরস্ক।

/শুধু তাই না, তারা খোলাখুলি ভাবেই আমাদের স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াতের সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। ৭১ এর মানবতাবিরোধী অপরাধের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসা ও জঙ্গী আতঙ্কের অর্থনীতিতে এক নির্বোধজীবি আত্মভোলা জাতির আয়না

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩

এক

বুদ্ধিজীবিরা নাকি জাতির বিবেক! তা সে তো ভালো কথা। কিন্তু সাধারণত যা ভালো তা যখন খারাপ তখন সাধারণত তা খুবই খারাপ। একটা জাতির সবচেয়ে মজার কিন্তু করুণতম দৃশ্য হলো তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্র ব্যর্থদের দায়িত্ব নেয় নাকি ব্যর্থতার সংজ্ঞাই রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত হয়???

লিখেছেন সুব্রত দত্ত, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪

আমাকে যারা চেনেন অথবা আমার অন্যান্য লেখা যাদের পড়া আছে তারা জানেন আমি একজন নিহিলিস্ট। একজন নিহিলিস্ট ‘রাষ্ট্রধারণা’য় বিশ্বাসী নয়। রাষ্ট্র সম্পর্কে সে উদাসীন। আমি নিজেও রাষ্ট্র সম্পর্কে উদাসীন। কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×