সকালে মোবাইলে টাকা রিচার্জ করতে গেলে দোকানি বলল, ৫৮ টাকা রিচার্জ করলে আপনি ৫৮ টাকা অতিরিক্ত কথা বলতে পারবেন জিপি টু জিপি। আমি বললাম, দিন। টাকা রিচার্জ করে যথারীতি ভাষায় ফিরে আসি এবং ব্যালেন্স দেখতে থাকি। টাকা আসে না। কাস্টমার কেয়ারে ফোন দেই। কাস্টমার কেয়ারের লোকজনের ভাষা আগের মধুর থাকলে এখন দিন দিন কর্কষ হয়ে যাচ্ছে। একজন কাস্টমার কেয়ারের সাথে বিষয়টি বললে, তিনি বললেন, পেয়ে যাবেন। *৫৬৬*৮# ডায়াল করুন পেয়ে যাবেন।মনে মনে ভাবলাম জি স্যার আপনার দয়া। না পেয়ে আবার ফোন দিলাম। অনেক চেষ্টার পর আমার ঈশ্বর যিনি সব প্রশ্রের উত্তর জানেন। অতিশয় বিনয়ের সাথে বললাম আমার বোনাসটা পাচ্ছি না। তিনি আমাকে লাইনে রেখে (অনেকটা চেয়ারম্যান সাহেব ঘুমিয়ে আছেন ঘুম থেকে উঠলে তারপর.............দর্শনার্থীকে বসার ঘরে বসিয়ে রেখে যেভাবে অপেক্ষার পালা) অনেক খুজাখুজি করে দেখলেন কোন এককালে গ্রামীণ ফোণ আমার কাছে ১০ টাকা পেত যা আমি এতদিন পরিশোধ করিনি। তা কায়দা পেয়ে আমাকে কানে ধরে ৫৮ টাকা থেকে ১০ টাকা কেটে নিয়ে আমাকে বোনাস থেকে বঞ্চিত করেছে। আমি বললমা, আমি কিভাবে তবে বোনাস পাবো। আমি ৬৮ টাকা রিচার্জ করলে তো তখন রিচার্জ এমাউন্টের সাথে না মিলার কারণে পেতাম না। আর কিছু বলতে চাইলে তিনি ফোন খান রেখে দিলেন।
তখন আমার একটা কথা মনে পড়ল। এক ছাত্র একবার প্রকৃতির ডাখে সাড়া দিতে গিয়ে তার কলেজের টয়লেটে যায়। যথারীতি আরাম করে কাজ সারতে গিয়ে দেখে টয়লেটের দরজায় লেখা বামে তাকান। সে বামে তাকাল, সেখানে লেখা ডানে তাকান। সে ডানে তাকাল, ডানে লেখা পিছনে তাকান। সেখানে লেখা উপরে তাকান। সে অনেক কষ্ট করে গাড় ঘুরিয়ে উপরে তাকাল সেখানে লেখা- 'ঐ শালা পায়খানা করতে বসে কেউ এত নড়াছড়া করে'
তেমনি মোবাইল কোম্পানীগুলো আমাদের শালা পেয়েছে। তারা আমাদের দুলাভাই। যখন তখন মোবাইলে অপ্রযোজনী কল আসতে থাকে। আপনি কোন কাজে ব্যস্ত তখন কল আসল। আমি আপনার দুলাভাই আমার সাথে কথা বলতে এক চাপুন....................। আর ম্যাসেজ বিড়ম্বনা তো সারাদিন আছেই। মোবাইলের ইনবক্স কয়েকদিনেই ভরে যায়। সারাদিন তাদের সার্ভিস সেন্টার থেকে বিভিন্ন অপারের এত ফ্রি ম্যাসেজ আসে যে এগুলো পড়া এবং মুছে ফেলার জন্য অতিরিক্ত লোক দরকার। আর আপনি কোন একটা অপার এক্টিভেট করেছেন তো প্রতিদিন সেই অপারটা আপনার একাউন্ট থেকে টাকা কেটে নিয়ে অটো রিনিউড হতে থাকবে। আপনি বন্ধ করার অপশন জানেন না। আমার কাছে প্রায় বলে (যারা মোবাইল ফাংশন গুলো কম বুঝেন) যে মোবাইলে টাকা রিচার্জ করলে কোথায় যে চলে যায়।
বিআরটিএ তো নাকে তেল দিয়ে ঘুমায়। তারা জানেও না যে এই মোবাইল কোম্পানীগুলো আমাদের খেটে খাওয়া মানুষগুলোর কষ্টের টাকা এরা কিভাবে নিয়ে যাচ্ছে। মোবাইল কোম্পানীগুলোর উপর আরো জবাব দিহিতা বাড়ানো উচিত। তারাতো বাংলাদেশকে বাটপারি করার স্বর্গরাজ্য মনে করছে।
দরুন আপনি একদিনের জন্য তাদের আনলিমিটেড ইন্টারনেট প্যাক কিনলেন। দেখা গেল সেদিন তাদের সার্ভার ডাউন। কোন ভাবে কাজ করছে। তাদের এই টেকনিক্যাল সমস্যার জন্য আপনি আপনার প্যাকটা ব্যবহার করতেই পারেন নাই। হিসাব মতে তাদের সার্ভার আপ হলে আপনাকে মেয়াদা বাড়িয়ে দিয়ে ব্যবহার করতে দেয়া। কিন্ত তা করতে দিচ্ছে না। এরকম অনেক ভাবে তারা গ্রাহককে ঠকাচ্ছে। আমি শুধু ঠকাচ্ছে বলছি না তারা উপকারও করছে কিন্থ সরকারের কাছে তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা উচিত। তারা এখন বলতে গেলে সরকারের তেমন জবাববদিহিতায় নেই। থাকলেও তা কিছু টাকা দিলে ঠিক হয়ে যায়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




