somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুখের সৌন্দর্য এবং আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

১৪ ই মার্চ, ২০১৫ রাত ১১:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(এই প্রবন্ধে সৌন্দর্য বলতে প্রত্যেকবার নারী পুরুষ উভয়ের প্রতিই নির্দেশ করা হচ্ছে। ব্যাপারটি বিশেষভাবে বিবেচনায় রাখতে বলা হল।)

সৌন্দর্য জিনিসটা বেশ অপেক্ষিক, তবে চিরন্তন। প্রাকৃতিকভাবেই মানুষ সৌন্দর্যের পূজারী, এবং এ কারণেই প্রকৃতি তার প্রতিটি পরতে পরতে লোভাতুর করে সাজিয়ে রেখেছে সৌন্দর্যের পসরা। গাছের ফুল পর্যন্ত সৌন্দর্য নামক কলাটির আশ্রয় নেয় ভ্রমরকে আকৃষ্ট করতে। আমরা আলোচনাটা এখান থেকেই শুরু করতে পারি।

ফুল ভ্রমরকে আকৃষ্ট করতে সৌন্দর্যের আশ্রয় নেয় দুইভাবে, এক. তার বাহ্যিক রূপ, দুই, তার ঘ্রাণ। যে ফুলে ঘ্রাণ অল্প, বা ঘ্রাণ নেই তাদের প্রকৃতি চমৎকার রূপ দান করে, আর রূপহীন ফুলকে সাধারণত দেয় মোহনীয় ঘ্রাণ। কিছু ফুল দুইটিই একসাথে পায়, আর কিছুই পায় না এমন ফুলের সংখ্যাও কম নয়। কিন্তু তাই বলে তাদের বংশবিস্তার থেমে থাকে না, পৃথিবীতে তাদের প্রয়োজনও শেষ হয় না।

মানুষের ব্যাপারটাও একই রকম। যার রূপ নেই, স্রষ্টা তাকে দেন গুণ, গুণ না থাকলে অন্তত রূপ। আরো বড়ো কথা, প্রতিটি মানুষকেই সৃষ্টি করা হয় কিছু না কিছু চমৎকারিত্ব বা অসাধারণত্ব দিয়ে। আমাদেরকে আগে এই অসাধারণত্বের ব্যাপারে সচেতন হতে হবে, নিজের অবস্থান, সম্মান ও প্রয়োজনীয়তাকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তবেই মানুষ আমাদের প্রাপ্য সম্মান দেবে।

কেউ কালো বলে যদি মন খারাপ করে, কিংবা কেউ যদি তার রূপ নিয়ে বড়াই করে, তবে তাকে আমি ধিক্কার জানাই। ধিক্কার জানাই এই জন্যে যে, সে কেবল নিজেকে একটা নিছক শরীর বিবেচনা করছে। একটা মাংসপিণ্ডই শুধু!
আমার কোন একটি ইংরেজি কবিতায় এক নারী উচ্চারণ করেছিল (Boldly), I am a woman, more than a body!

আপনাকে অবশ্যই শরীর সর্বস্ব হলে চলবে না। তারচেয়েও বেশি কিছু, বড় কিছু হতে হবে। আর এই পরামর্শ কেবল নারীদের প্রতি নয়, সৌন্দর্য নিয়ে উৎকণ্ঠা নারী পুরুষ সবারই আছে।

ফাউস্ট নাটকের ইংরেজি অনুবাদ খ্রিস্টোফার মারলো'র ডক্টর ফস্টাস নাটকটিতে একটি চমৎকার কথা আছে, উদ্ধৃতি হুবহু মনে নেই, বোধহয় এমন ছিল, We know, heaven is beautiful, and heaven is made for man. So man must be more beautiful than the heaven!

এই কথার পর আর লাগে কী?

সমাজের দৃষ্টিভঙ্গীর কথা বলেন? সমাজকে আপনার পায়ে এনে ফেলতে পারেন না আপনার যোগ্যতা দিয়ে? রেশমী ঘোষ নামের মডেলটা কি খুবই রূপবতী কেউ? কিংবা বিশ্বনন্দিত মরগ্যান ফ্রিম্যান?

হ্যাঁ, বিশ্বকে জয় করতে বা নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে গায়ের রং কখনই জরুরি কিছু নয়। জরুরি হচ্ছে আপনার কর্ম যোগ্যতা, আপনার ব্যক্তিত্ব। আপনি আমি কেই ফেলনা নই পৃথিবীতে। নিজের অসাধারণত্বকে খুঁজে বের করুন এবং প্রতিষ্ঠা করুন।

যাইহোক, কথাগুলো হয়ত আপনাদের কানে ডেল কার্নেগির উপদেশের মতো কেতাবি মনে হচ্ছে, শুনতে ভালো লাগে, প্রেরণা লাগে, কিন্তু বাস্তবতার সাথে মিল পাওয়া যায় না, তাই তো?
এটা কেবলই আপনার উপলব্ধির অভাব। উপরে যা বলেছি সেটাই একমাত্র সত্য।

তারপরও আপনাদের খুশি করার জন্য বলি, সৌন্দর্য হয় কীসে? কোন জিনস আচমকা একটা মানুষের প্রতি আপনার নজর কেড়ে নেয়? ভেবে বলুন তো!

উত্তর হচ্ছে পোশাক। ভীড়ের মধ্যে ওই মানুষটাকেই আমাদের সবার আগে চোখে পড়ে, যে আকর্ষণীয় বা উজ্জ্বল পোশাক পরে আছে। আপনি অন্যমনষ্ক হয়ে হাঁটছেন, পাশ দিয়ে চমৎকার পরিপাটি পোশাকের কেউ হেঁটে যাচ্ছে, আপনি চোখ না ফিরিয়ে পারবেন না। ধ্যান আপনার ভাঙবেই! নিজেকে আকর্ষণীয় করতে এজন্যই ফ্যাশান ডিজাইনিংয়ে কালারকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়। আপনি যত সুদর্শনই হন, আপনার পোশাক যদি মানানসই না হয় বা অপরিপাটি হয় তবে আপনার দিকে কারো চোখ সহসা যাবে না। এটাই বাস্তবতা।

পোশাকে আকৃষ্ট হয়েই আমরা সাধারণত একটা মানুষের মুখের দিকে তাকাই। তখন গুরুত্ব পায় মানুষটার মুখের সৌন্দর্য।

এবার আরেকটু রহস্য করি, বলুন তো মুখের সৌন্দর্যের ভিত্তি কী?

উত্তর হচ্ছে, চোখ। ব্যাখ্যা করার সময় পাব না হয়ত, সংক্ষেপে বলি, কোন ভাস্কর্য, কোন চিত্রই পূর্ণতা পায় না চোখের অবস্থান ছাড়া। চোখ খুবই গুরুত্পূর্ণ। চোখের চাহনির ব্যাপারে সচেতন হোন।

ফিরে আসি মুখের সৌন্দর্যে, এই সৌন্দর্যের মানদণ্ড কী? চামড়ার রঙ? মেলানিন?
মোটেই না। মুখের সৌন্দর্য নির্ভর করে চামড়ার সতেজতার উপর। আপনার রঙ যাই হোক, চামড়া যদি খসখসে হয়, প্রাণবন্ত না হয় তবে আপনাকে দেখতে বিরক্তিই লাগবে। চামড়ার অভ্যন্তরে জল কণার পর্যাপ্ততা আছে কিনা, চামড়া চকচকে টসটসে কিনা সেটা খেয়াল করুন, সৌন্দর্যের রহস্য এখানেই। স্নো- ক্রিম নয়। একবার চর্চা করেই দেখুন।

এরপরে ভূমিকা রাখে চিবুক তথা মুখের পেশীর সঞ্চালন এবং গ্রীবার সঞ্চালন। সৌন্দর্য কিছু নয়, ব্যাপারটা হচ্ছে স্মার্টনেস। আর স্মার্টনেস নির্ভর করে পায়ের পাতার উপর। আপনি কিভাবে পা ফেলছেন, পায়ে ভর দিয়ে কিভাবে দাঁড়াচ্ছেন তার উপর। যার পায়ের স্টেপ যতটা সাবলীল ও সচেতন, সে ততটাই স্মার্ট।

সৌন্দর্য সম্পর্কে বিশেষ আর কিছু বলার নেই। এবার সমাজের প্রতিবন্ধকতা নিয়ে একটু বলা যেতে পারে। বিয়ের জন্য পাত্র পাত্রীর গায়ের রঙ এখনও গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবার প্রবণতা সমাজে ইতোমধ্যেই তৈরি হয়েছে। বৌ সুন্দর হলে যে ছেলেমেয়েও সুন্দর হবে এই ধারণা মিথ্যা। আইনস্টাইনের চেহারা অসুন্দর ছিল আপনারা জানেন। তাঁকে একবার এক রূপসী প্রস্তাব করেছিল, আমাকে বিয়ে কর, তাহলে আমাদের সন্তান আমার মতো সুন্দর হবে এবং তোমার মতো বুদ্ধিমান হবে।
আইনস্টাইন ভ্রু কুঁচকে বলেছিলেন, উল্টোটাও তো হতে পারে।

সন্তান কেমন হবে সে নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারে না। কেবল মা নয়, বাবা মা দুজনেরই যে ভূমিকা আছে, এটা তো আমাদের সবারই জানা আছে। আমি অনেক পরিবারই দেখেছি মা কুৎসিত অথচ ছেলেমেয়েগুলো পুতুলের মতো! অসুন্দর সন্তান আজকাল কয়টা দেখা যায়?
আর সুন্দরী স্ত্রীর রূপ নিয়ে যে বাতুলতা সে বাতুলতা বিয়ের পর বড়োজোর দুই বছর থাকে। এরপরে সুন্দরী রমণীর রূপের আকর্ষণ কেবল পরপুরুষের কাছেই থাকে, স্বামীর কাছে আর তার কদর থাকেও না। এ প্রসঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্ক নিয়ে একটি প্রবন্ধে বিস্তারিত আলোচনা হবে। আজ এ পর্যন্তই।

পরিশেষে বলি, সমাজ এক দিনে বদলায় না। তবে বদলাচ্ছে। আমরাই সম্মিলিতভাবে এই বদলকে আরো বেগবান করতে পারি।

পুনশ্চ:-
পৃথিবীর সব বস্তুর মধ্যেই সৌন্দর্য নিহিত আছে। প্রেম, মায়া কিংববা পবিত্র মন নিয়ে যার প্রতিই তাকাবেন, সেই আপনার চোখে সুন্দর হয়ে ধরা দেবে।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই মার্চ, ২০১৫ রাত ১২:০৮
৫টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিএনপি একটি বেঈমান আর গাদ্দারদের দল।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫০

‘বিএনপি ৭৫এর যোদ্ধাদের রক্ষা করেনি, ২৪ এর যোদ্ধাদেরও রক্ষা করবে না।’ ...বাকিটুকু পড়ুন

এলপিজি কার্ডে সংকট কমবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:১৬


অনেক হতাশার মধ্যেও মাঝেমধ্যে সরকারের কোনো ভালো উদ্যোগের খবর দেখলে ভালো লাগে। অন্তত মনে হয়, সাধারণ মানুষের কষ্টের জায়গাগুলো নিয়ে সরকার কিছুটা হলেও ভাবতে শুরু করেছে। তেমনই একটি খবর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আত্মহনন ও পক্ষপাতিত্ব

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৮


রবীন্দ্রনাথ কি বাংলাদেশের নাগরিক ??!! শুধুমাত্র জাতীয় সংগীতের রচয়িতা এবং বাংলাদেশে কিছু সুশীলদের (ভালো নাপিত) তাকে নিয়ে নানা রকমের কলহ-বিবাদ-বিভক্তি তৈরী ব্যতিত; বাংলাদেশে তার আর অবদান কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারা ভারতের এই সফট টুলস রবীন্দ্রনাথকে রক্ষা করবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩


কয়েকদিন আগে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জাতীর পিতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলা হলো, সেখানে তো গ্রেপ্তার দেখলাম না! সেখানে কি পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবণতির শঙ্কা ছিলো না? পাকিস্তানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

এআই মন্তব্যের পর ব্লগারগণের পোষ্ঠ ভালো বুঝে আসে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২০



চাঁদগাজী/সোনাগাজী বলতেন অনেক ব্লগার গরুর রচনা এবং অনেক ব্লগার গার্বেজ লেখেন। তাঁর এমন মন্তব্যের কারণে তাঁর বিরোধী ব্লগার সংখ্যা বেড়ে যায়। ফলে তিনি বার বার ব্যানের শিকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×