somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

খোলা চিঠি

২২ শে আগস্ট, ২০১৭ রাত ৮:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,

বাংলাদেশের সমুদ্র সীমান্ত আদায়ে আপনি যে সাফল্য অর্জন করেছেন, তা এদেশের ইতিহাসে সোনার হরফে লেখা থাকবে। সমুদ্র সীমান্ত আদায়ের জন্য আপনি যে শক্তিশালী রাষ্ট্র ভারতের বিরুদ্ধে মামলা করার সাহস দেখিয়েছেন এবং সেই মামলায় জয়লাভ করে মহীসোপানসমেত বিশাল এক সমুদ্র সীমান্ত বাংলাদেশের ভূখণ্ডে যোগ করেছেন, আমি নিশ্চিত তা অনেকেই জানে না! কিংবা জানলেও স্বীকার করবে না।

আপনি বাংলাদেশের শাসনামল বিচারে নিজেকে লৌহমানবী হিসেবে প্রমাণ করেছেন। ভারতের কাছ থেকে ছিটমহল আদায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের ভূ-সীমাকে সমৃদ্ধ করার সাফল্য আপনারই দৃঢ়চেতনার পরিচায়ক! ভূ-সীমা এবং সমুদ্র সীমান্তের এই দুটি বিজয় আনতে যে বুকের পাটা দরকার, তা আর কারও হত কিনা সে বিষয়ে দেশবাসী দলমত নির্বিশেষে সন্দিহান।

আমরা জানি, আপনি নির্ভীক। দেশের স্বার্থ আদায়ে আপনি অবশ্যই পেছাবেন না। এই বন্যা এখন আপনাকে সেই চুড়ান্ত স্বার্থ আদায়েরই তাগাদা দিচ্ছে মাননীয় বঙ্গমাতা! এবারই সময় আপনি ফারাক্কা ও তিস্তা বাঁধের একটি বিহিত এবারই করে ফেলুন!
নিন্দুকেরা বলে, বাঁধ সংক্রান্ত এই জটিলতা এদেশের রাজনীতিবিদেরা ইচ্ছে করেই ঝুলিয়ে রেখেছে যাতে করে দেশে বন্যা হয় প্রতিবছর এবং ত্রাণের নামে তাদের পকেট ভরার একটি সুযোগ আসে নিয়মিত!

মাননীয় নেত্রী, আপনি নিজেই ঘোষণা দিয়েছেন যে, আপনার দল হতেও দুর্নীতিবাজ ছেঁকে বের করা হবে, আপনার চোখের সামনে ত্রাণ নামক এই চাক্ষুষ দুর্নীতি এবার আপনি হতে দেবেন না আশা রাখি।

হে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা, আমরা আশা করি, এই বন্যাই বাংলাদেশে বাঁধজনিত বন্যার শেষ নজির হবে। বঙ্গবন্ধুর তিলের ব্যাপারটি যাঁরা জানে না, তারা হয়ত এটাও জানে না যে, এই তিস্তার নদীচুক্তি বঙ্গবন্ধুর প্রধান স্বপ্নেরই একটি ছিল। বঙ্গবন্ধু ভারতের কাছ থেকে বারবার প্রবঞ্চিত হয়ে জাতিসংঘে পর্যন্তএই বাঁধ নিয়ে বিচার দিয়েছিলেন। প্রিয় মুজিবকন্যা, সেই স্বপ্নকে এবার সফল করার সময় এসেছে।

আন্তর্জাতিক কূটনীতি নিন্দা করে বলে, আপনি ভারতকে অসংখ্য আনুকূল্য তথা সুবিধা ক্ষমতা লাভের পর থেকে দিয়ে এসেছেন, বিনিময়ে কিছুই চাননি কেবল আসন্ন নির্বাচনে ভারতের সহায়তা পাবার আশায়! প্রিয় নেত্রী, ভোট আপনাকে এদেশের মানুষ দেবে, ভারত নয়। আপনি এদেশের মানুষকে তিস্তা ও ফারাক্কা সমস্যা মিটিয়ে দিন, তারপর ভারত সরকার আপনার বিরোধিতাও যদি করে (কথার কথা), তবুও আপনি এদেশের আশিভাগ মানুষের স্বচ্ছ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হবেন -এ আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমি রাজনীতি বুঝি না, কেবল বুঝি, জনগণের সুবিধা করে দেওয়ার মত বড়ো রাজনৈতিক অস্ত্র আর নেই। এটুকু করতে পারলে, মিছিল লাগে না, পোস্টারও লাগে না, জনগণ কৃতজ্ঞতা থেকেই ভোট নিয়ে আপনার দুয়ারে হাজির হবে।

পুনশ্চ:-

১. অনেকেই হয়ত জানেন না, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার তিস্তা সমস্যায় বাংলাদেশের পক্ষে রায় দিয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশ যাতে প্রাপ্য পানি পায় তার সপক্ষে রায় দিয়েছে, কেবল পশ্চিম বঙ্গের প্রাদেশিক সরকারের নোংরা কুটিলতার কারণেই আমরা সুবিধাটা পাচ্ছি না। এমনকি পশ্চিম বঙ্গ ও সিকিমের সাধারণ মানুষও পানি বণ্টনের বিচারে বাংলাদেশেরই পক্ষে। এমতাবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর অধিকার আদায় কঠিন হবার কথা নয়।

২. আমরা পদ্মাসেতু যদি নিজেরাই করতে পারি, তবে বন্যা ঠেকাতে সীমান্তে আরেকটি বাঁধ কেন তৈরি করি না? ত্রাণের পয়সা পকেটে নেবার আশায় আর কত বছর এদেশের মানুষকে বন্যার কবলে নিঃস্ব করতে হবে?
যাইহোক, রাজনৈতিক আলোচনা সমালোচনা আমার উদ্দেশ্য নয়, আমি কথা বলি দেশের স্বার্থে।
একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে ঘুমুতে গেলাম।
শুভ রাত্রি।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ রাত ৯:২৬
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ দহনবেলার কহন কথা

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৭:১৫




বুকের অভিমান, ক্ষত লুকিয়েছি মনে


নিঝুম রাতের সঙ্গী তারা গভীর গোপনে।


অচেনা নক্ষত্র জ্বলে নেভে দুরে একাকী 


বিচ্ছিন্নতার উপমা হিসেবে নিজেকেই রাখি। 


আসমুদ্রহিমাচল জ্বালা বুকে তবু দায়িত্ববান 


হাজার দহনে পুড়ে খাঁটি শিখা অনির্বাণ।


© রফিকুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০০১ সালেও বিএনপিকে ডোবানোর দায়িত্ব নিয়েছিল টুকু!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৫১


ভয়াবহ লোডশেডিং। মধ্যরাতে ঢাকবাসীর হাঁসফাঁস। হঠাৎ করে এতো লোডশেডিং হওয়ার কোন কারণ নেই অথচ মধ্যরাতে ভয়াবহ লোডশেডিং। গ্রামে বিদ্যুৎ থাকেনা বললেই চলে। গ্রামে বিদ্যুৎ যাওয়ার সময় আছে কিন্তু আসার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে বাষ্ট্রপতি নির্বাচন নাকি রাষ্ট্রীয় খরচে তামাশা!!!

লিখেছেন শাহিন-৯৯, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


বাংলাদেশে সম্মানিত রাষ্ট্রপতি (হবু)


নির্বাচন, এই শব্দটি শুনা মাত্র যে বিষয়টি আমাদের মাথায় আসে তা হচ্ছে ভোট প্রদানের যোগ্য ভোটারদের স্বাধীন ভোটের মাধ্যমে একজন যোগ্য ব্যাক্তিকে দায়িত্ব অর্পণের জন্য নির্বাচিত করা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

গজব পরিস্থিতি দেশের: বিদ্যুৎ নেই বিল ডাবল

লিখেছেন অর্ক, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৭



হাহাকার পড়ে গেছে দেশে। গ্যাস, বিদ্যুৎ সংকট চরম আকার নিয়েছে, নিচ্ছে। একদিকে বিদ্যুৎ নেই, অপরদিকে ভূতুড়ে বিল। অদ্ভুত ব্যাপার। বিদ্যুৎ নেই, নিয়মিত লোডশেডিং হচ্ছে, স্বাভাবিকভাবেই বিল কম হওয়ার কথা; সেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ ভাড়াটে কান্নাকারী

লিখেছেন রাজসোহান, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



লোকে ভাবে আমরা কান্না বিক্রি করি। আমরা কান্না বিক্রি করি না। আমরা শব্দ বিক্রি করি।

শোকসভায় সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো নীরবতা। বক্তা বক্তৃতা শেষ করে বসে পড়লেন, পরের বক্তা এখনো মাইকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×