
মাল্টিলেভেল মার্কেটিং কোম্পানি ডেসটিনির মতো আরও একটি কোম্পানি ‘এইমওয়ে’ নাম দিয়ে ইতিমধ্যেই গ্রাহকদের ৩ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার পাঁয়তারা শুরু করেছে। বহু বিতর্কিত ডেসটিনি ও ইউনিপেটুইউসহ কয়েকটি হায় হায় কোম্পানির কর্মকর্তা মিলে এ এইমওয়ে গঠন করে ৬ মাসে টাকা দ্বিগুণ করার কথা বলে সাড়ে ৭ লাখ গ্রাহকের কাজ থেকে পুঁজি সংগ্রহ করেছে। যে মুহূর্তে ডেসটিনি ইউনিপেটুইউ ও যুবকসহ এমএলএম নামের প্রতারক কোম্পানিগুলোর অবৈধ কর্মকাণ্ড তদন্তে সরকারের ১২টি মন্ত্রণালয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) তদন্তে মাঠে নেমেছে, সেই সময় পুরনোদের নতুন নামের এই কোম্পানির অবৈধ ব্যাংকিং পর্যবেক্ষণ করে মানি লন্ডারিং আইনে তাদের সব ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই প্রতিষ্ঠানের অবৈধ ব্যাংকিং, দ্বিগুণ মুনাফা ও অন্যান্য বেআইনি কার্যক্রম সম্পর্কে তাদের চেয়ারম্যানের বক্তব্যের রেকর্ড যুগান্তরের হাতে রয়েছে। তারা ঘোষণা দিয়েছে, আগামী দুই মাস কোম্পানি থেকে কোন টাকা/কমিশন কোন গ্রাহককে ফেরত দেয়া হবে না। বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এ সময়ের মধ্যেই তারা তপ্লিতল্পা গুটিয়ে পালিয়ে যেতে পারে। ডেসটিনির পুরানা লোকজনদের নতুন কৌশলে গড়ে তোলা এইমওয়ে নামের এই এমএলএম কোম্পানির কার্যক্রম নিয়ে যুগান্তরের সরেজমিন ও অনুসন্ধানী এই প্রতিবেদন তৈরি হয়েছে।
ডেসটিনির মতো অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকায় এপ্রিলের প্রথমদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক এ প্রতিষ্ঠানটির সব ব্যাংক হিসাব জব্দ করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে চিঠি দিয়েছে। ফলে লেনদেন করার ক্ষেত্রে অসুবিধা সৃষ্টির পর গ্রাহকদের কমিশন না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে এ প্রতিষ্ঠানটি মানুষকে নানাভাবে বোকা বানিয়ে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, এ কো¤পানিটি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির অনুমোদন নিয়ে অবৈধ ব্যাংকিং করছে। পাশাপাশি তারা পণ্য হিসেবে কবরস্থান বিক্রি, রিহ্যাব বা রাজউকের অনুমোদন না থাকলেও রিয়েল এস্টেট বিজনেস করছে, বিএসটিআইর অনুমোদন ছাড়া নিুমানের কসমেটিকস ও হারবাল পণ্য বাজারজাত করছে এবং সর্বশেষ চরমোনাই পীর সাহেবের নাম বিক্রি করে হাজার হাজার কোটি টাকা গ্রাহক থেকে সংগ্রহ করছে। গত বছরের ৭ জুলাই এইমওয়ে কর্পোরেশন জয়েন্ট স্টক কো¤পানি হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছে। তবে কো¤পানির পরিশোধিত মূলধন কত তা কোথাও বলা হয়নি। এইমওয়ে তাদের গ্রাহকদের কাছ থেকে আমানত নিয়ে অনেকগুলো প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছে। এগুলোর মধ্যে এইমওয়ে মাল্টিপারপাস, এইমওয়ে কবরস্থান, এইমওয়ে হেলিকপ্টার এভিয়েশন সার্ভিস, এইমওয়ে কসমেটিক্স অ্যান্ড ফুড সাপ্লিমেন্ট ইন্ডাস্ট্রিজ, এইমওয়ে মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিকেশন্স, এইমওয়ে ব্যাংক, এইমওয়ে ইন্স্যুরেন্স, এইমওয়ে সুপার শপ, এইমওয়ে মিনারেল ওয়াটার, এইমওয়ে গার্মেন্টস, এইমওয়ে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, এইমওয়ে রিয়েল এস্টেট, এইমওয়ে মেগাসিটি, এইমওয়ে পর্যটন সিটি, এইমওয়ে ট্রান্সপোর্ট, এইমওয়ে ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট, এইমওয়ে অ্যাম্বুলেন্স ও এইমওয়ে টেলিভিশন। এদিকে মানি লন্ডারিংসহ অবৈধ লেনদেনের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির সব ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ এক কর্মকর্তা (সংশ্লিষ্ট বিভাগের নির্বাহী পরিচালক) যুগান্তরকে বলেন, মানি লন্ডারিংসহ বিভিন্ন কারণে এপ্রিল মাসের প্রথমদিকে এইমওয়ে কর্পোরেশনের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। আগামী ৬ মাস পর্যন্ত এদের ব্যাংক হিসাবে লেনদেন করতে পারবে না। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক এইমওয়ে কর্পোরেশনের সব ব্যাংক হিসাব খুলে দিয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান দাবি করেছে শুনে তিনি বলেন, এটা তাদের প্রতারণার আরেক কৌশল। আগামী ৬ মাস পর্যন্ত তাদের হিসাব বন্ধ থাকবে।
ডেসটিনির সঙ্গে এ প্রতিষ্ঠানটির মৌলিক কোন পার্থক্য নেই। এ কারণে তারা তাদের নতুন একটি স্লোগান তৈরি করেছে। ডেসটিনি থেকে বের হয়ে আসা লোকজনই ডেসটিনির বিকল্প এমএলএম কোম্পানি হিসেবে এইমওয়ে কর্পোরেশন লি. গড়ে তুলেছেন। শুধু পার্থক্য এখানে বিনিয়োগ করলে ছয় মাসে দ্বিগুণ লাভ দেয়ার কথা বলা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রশান্ত মজুমদার নামের একজন গ্রাহক যুগান্তরকে বলেন, আমরা চরমোনাই পীরের কথার ওপর বিশ্বাস করে এইমওয়েতে বিনিয়োগ করেছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করে এপ্রিল থেকে আমাদের আর কোন কমিশন দেয়া হচ্ছে না। এমনকি পুঁজি ফিরে পাবেন কিনা তা নিয়েও তিনি সংশয় প্রকাশ করেন।
গতবছরের জুলাই মাস থেকে ছয় মাসে টাকা দ্বিগুণ করার প্রতিশ্র“তি দিয়ে তারা টাকা সংগ্রহ করতে থাকে। ডেসটিনি থেকে বের হয়ে আসা ও ইউনিপেটুসহ দেশের অন্যান্য কয়েকটি এমএলএম কো¤পানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কো¤পানিগুলোর সদস্যরা এইমওয়েতে ভিড় জমায়। গত নয় মাসে এইমওয়ে সাড়ে সাত লাখ গ্রাহকের কাছ থেকে ৩ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। পাঁচ মাসের মাথায় এসে কো¤পানি ঘোষণা দিয়েছিল ছয় মাসে দ্বিগুণ টাকা দিলে কো¤পানি টিকবে না তাই তারা ১২ মাসে দ্বিগুণ দেবে। তাদের এ কার্যক্রম কয়েকদিন চালিয়ে যখন তারা দেখল কো¤পানিতে ইনভেস্ট কম হচ্ছে তখন তারা আবার আগের নিয়ম চালু করে। এখানেও তারা চালাকি হিসেবে সব সময় বলত আগামী এক সপ্তাহের জন্য এই অফার দেয়া হয়েছে, এরপর আর এ অফার থাকবে না। তখন মানুষ ছয় মাসে দ্বিগুণ পাওয়ার আশায় বেশি করে ইনভেস্ট করতে থাকে। অফার শেষ হওয়ার দিন আবার তারা বলত আপনাদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে আরও এক সপ্তাহ সময় বৃদ্ধি করা হল। এভাবেই কো¤পানি কর্তৃপক্ষ বারবার মানসিক চাপ দিয়ে এখানে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করত। সর্বশেষ ৭ এপ্রিল পর্যন্ত এ অফার বর্ধিত করা হয়েছিল। শেষ সময়ে গড়ে প্রতিদিন ৩ থেকে ৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে বলে কো¤পানির পরিচালক অপারেশন মোঃ মামুনুর রশীদ খান জানিয়েছেন। এইমওয়ে দুই মাসের জন্য টাকা দেয়া বন্ধ ঘোষণার পর থেকে গ্রাহকরা ফুঁসে উঠেছেন। তাদের হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা আছে বলে তারা শক্ত অভিযোগ করতেও ভয় পান। তারা কারণ হিসেবে বলেন, আমরা যদি কিছু বলি তাহলে কো¤পানি আমার বিজনেস সেন্টার বন্ধ করে দিলে আমাদের কিছুই করার থাকবে না। তাই এখন কিছু বলছি না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিলেট থেকে আসা এক সদস্য বলেন, এর আগের সবগুলো কো¤পানি ঠিক একই পদ্ধতিতে টাকা পরে দেবে বলে ঘোষণা করে বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক কো¤পানিতে কাজ করে ধরা খেয়ে এখানে হুজুরের কো¤পানি দেখে রিকভারি করতে এসেছিলাম কিন্তু এখানেও যদি আমাদের টাকা নিয়ে কো¤পানি পালিয়ে যায় তাহলে আমার আÍহত্যা করা ছাড়া বিকল্প কোন পথ থাকবে না।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এইমওয়ে কর্পোরেশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান সৈয়দ মাওলানা রেদওয়ান বিন ইসহাক ছয় মাসে টাকা দ্বিগুণ করার প্রতিশ্র“তি দিয়ে মাত্র এক বছরের মধ্যেই কয়েক হাজার কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। প্রতারণার কৌশল হিসেবে তিনি গ্রাহকদের সব সময় বলতেন, আমি ছোট থেকেই টাকা দেখে বড় হয়েছি, আমরা ধর্মীয় লোক বলে আমাদের টাকা-পয়সার কোন অভাব বা লোভ নেই। অথচ তিনি এই কো¤পানি খোলার সময়ও রিকশায় চলাচল করতেন। আর এখন তিনি কো¤পানির টাকায় চলছেন কোটি টাকা দামের প্রাডো গাড়িতে। পরিচালকরা কেউ এখান থেকে বেতন নেয় না বলে দাবি করলেও গত সাত মাসে সামান্য সময়ের মধ্যেই তিনি ৫০/১ পুরানা পল্টন এলাকায় এইমওয়ে সেন্টার নামের এক বিশাল বাণিজ্যিক ভবন কিনে নিয়েছেন। জানা গেছে, ৯২ কোটি টাকার বেশি মূল্য দিয়ে কেনা এ ভবনের মালিক খোদ সৈয়দ মাওলানা রেদওয়ান বিন ইসহাক। ২০০১ সালে মক্কা-মদিনা হজ নামীয় একটি প্রতারক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে সৈয়দ রেদওয়ান বিন ইসহাক এবং তার বড় ভাই সৈয়দ কাউসার বিন ইসহাক শত শত হজযাত্রীকে প্রতারিত করার পর দু’জনই গ্রেফতার হয়ে জেল খাটেন। পরবর্তীকালে সৈয়দ রেদওয়ান বিন ইসহাক ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেডের সঙ্গে যুক্ত হন এবং এর পরিচালক গোফরানুল হকের সঙ্গে বিশেষ স¤পর্ক গড়ে তোলেন। পরে গোফরানের পরামর্শ এবং সহযোগিতায় রেদওয়ান বিন ইসহাক এইমওয়ে প্রতিষ্ঠা করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পরিচালকের সহকারী জানান, গত ৬ ও ৭ এপ্রিল রাতে কো¤পানির পরিচালনা পর্ষদ এক জরুরি বৈঠকে বসে। সেখানে তারা দীর্ঘ সময় আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেন, ছয় মাসে দ্বিগুণ টাকা ফেরত দেয়া যাবে না বলে তারা বিশেষ পদ্ধতিতে কো¤পানিটি বন্ধ করে দেবেন। তারই ধারাবাহিকতায় ৮ এপ্রিল কো¤পানির ৫০/১ পুরানা পল্টন অফিসে প্রধান প্রধান সদস্যদের ডেকে নিয়ে আসা হয়। সন্ধ্যার ওই মিটিংয়ে কো¤পানির প্রায় চারশ’ টপআর্নার ও প্রধান সদস্যদের মোটিভেশন দিয়ে বিশেষ পদ্ধতিটি বাতলে দেয়া হয়। মিটিং শুরুর আগে কো¤পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ মাসুদ রানা বলেন, তিনি যে কথাগুলো বলবেন তার যেন কোন প্রকার ভিডিও বা অডিও রেকর্ড করা না হয়। এজন্য প্রত্যেকের মোবাইল বাধ্যতামূলক বন্ধ রাখা হয়। পাশে অপরিচিত কোন লোক থাকলে তাকে অবহিত করতে বলেন। ঘরের খবর (গোপন কথা) পরকে বলে দিলে ক্ষতি হতে পারে বলে তিনি মিটিংয়ের মাঝে মাঝে খবর নেন মোবাইল বন্ধ আছে কিনা। সাংবাদিকদের কাছে তার তথ্য পাচার হতে পারে বলে তিনি অগ্রিম সতর্কতা অবলম্বন করেন। কিন্তু তারপরও কিছু লোক তার কথাগুলো গোপনে রেকর্ড করে দৈনিক যুগান্তরের কাছে জমা দিয়েছেন। এক ঘণ্টা তিন মিনিটের ওই রেকর্ডে জানা যায়, তিনি যা বলেন সাংবাদিক এবং সরকারি তদন্ত দল যদি জানতে পারে আমরা ইনভেস্টমেন্ট কো¤পানি তাহলে আমাদের কো¤পানি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আপনারা নিশ্চয় চান না যে কো¤পানি বন্ধ হয়ে যাক। আমাদের কাছে অগ্রিম খবর আছে আগামী দুই মাস সাংবাদিক, এনএসআই, বাংলাদেশ ব্যাংক, ডিবিসহ অনেকেই অফিসে তদন্ত করতে আসবে। তারা যাতে কোনভাবেই বুঝতে না পারে আমরা ইনভেস্টমেন্ট কো¤পানি। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আগামী ৯ এপ্রিল থেকে ৮ জুন পর্যন্ত দুই মাস কো¤পানির অ্যাকাউন্টস থেকে আপনাদের কোন প্রকার টাকা দেয়া হবে না। তবে আপনারা চাইলে মাঝে মধ্যে গোপনে ইনভেস্ট করতে পারবেন। কো¤পানির অন্যান্য প্রজেক্ট ও প্রডাক্ট স¤পর্কে ওই মিটিংয়ে এমডি বলেন, আপনাদের জন্য নারায়ণগঞ্জে বাণিজ্যিক কবরস্থান প্রজেক্ট চালু করা হয়েছে। এ, বি এবং সি ব্লকের একেকটি কবরের মূল্য রাখা হয়েছে যথাক্রমে ৪ লাখ, ১ লাখ ৫০ হাজার এবং ৪০ হাজার টাকা। সম্প্রতি আমেরিকায় আবিষ্কৃত সর্বরোগের মহৌষধ ননী জুস ক্যাপসুল খুব শিগগিরই পাওয়া যাবে। ৩০টি ক্যাপসুলের দাম রাখা হবে মাত্র ৬ হাজার টাকা। মিনারেল ওয়াটার প্যাকেজ ১০ লাখ টাকায় ক্রয় করা যাবে। তাহলে ১২ মাস পর মূলধন এবং পরবর্তী প্রত্যেক বছরে ২০% কমিশন দেয়া হবে। সিলেটে ফাইভ স্টার হোটেল প্যাকেজের মূল্য ৪ লাখ টাকা। প্রত্যেকটি প্রজেক্ট ও প্রডাক্ট বিক্রি বাবদ মূল্যের ওপর ১০% ¯পন্সরিং কমিশন ও ১০% ম্যাচিং কমিশন দেয়া হবে। তাদের কাছে আবহাওয়া অফিসের মতো সরকার ও সাংবাদিকদের সব খবর আগে এসে পৌঁছায় বলে দাবি করে তিনি বলেন, সরকার আগামী দুই মাসের মধ্যে এমএলএমের নীতিমালা করবে বলে তিনি নিশ্চিত হয়েছেন। ওই নীতিমালায় দেশের ৭২টি কো¤পানির মধ্যে সরকার ১৭টি কো¤পানির অনুমোদন দেবে, তার মধ্যে এইমওয়ে কো¤পানি দুই নাম্বার অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, সরকার এইমওয়েকে নীতিমালা দিলে আমরা আবার ইনভেস্টমেন্ট প্লানে চলে যাব তবে তখন ৬ মাসে দ্বিগুণ না হয়ে ১৮ বা ২৪ মাসে দ্বিগুণ দেয়া হবে। সর্বশেষ বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই আমাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মাসে সর্বোচ্চ ১০ হাজার কোটি টাকা লেনদেন করার অনুমতি দেবে বলে নিশ্চয়তা দিয়েছে।
এইমওয়ে কর্পোরেশনে ৪ ধরনের অ্যাকাউন্ট খোলার ব্যবস্থা রয়েছে। এগুলো হচ্ছেÑ সিলভার, প্লাটিনাম, গোল্ড ও ডায়মন্ড। প্রস্তাব অনুযায়ী সিলভার অ্যাকাউন্ট খুলতে লাগবে ২ হাজার ১ টাকা। এর মধ্যে ১ হাজার টাকা কো¤পানির শেয়ার বাবদ অনির্দিষ্টকালের জন্য কেটে রাখা হবে। বাকি ১ হাজার টাকার বাধ্যতামূলকভাবে নিুমানের কিছু হারবাল পণ্য কেনার জন্য দিতে হবে। আর ১ টাকা দিতে হবে পরিচয়পত্র বাবদ। একইভাবে গোল্ড অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য লাগবে ৩ হাজার ১০০ টাকা। এক্ষেত্রে কো¤পানির শেয়ার বাবদ নেয়া হবে ২ হাজার টাকা। বাকি টাকার পণ্য। প্লাটিনাম অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য লাগবে ৮ হাজার ১০০ টাকা। এর জন্য শেয়ার বাবদ কাটা হবে ৩ হাজার টাকা। ডায়মন্ড অ্যাকাউন্ট খুলতে দিতে হবে ৫ হাজার ১০০ টাকা। এর মধ্যে ৪ হাজার টাকা কাটা হবে কো¤পানির শেয়ার বাবদ। বাকি টাকার নিুমানের পণ্য গছানো হবে। অ্যাকাউন্টভেদে ৫ হাজার থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জমা রাখা যাবে। সিলভার অ্যাকাউন্ট হোল্ডাররা দৈনিক ৪০ হাজার, গোল্ডেন অ্যাকাউন্ট ৯০ হাজার, প্লাটিনাম অ্যাকাউন্ট ১ লাখ ৮ হাজার ও ডায়মন্ড অ্যাকাউন্ট হোল্ডাররা দৈনিক ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারবেনÑ এমন অবিশ্বাস্য লোভনীয় প্রস্তাব তাদের। ডেসটিনির বরিশাল অঞ্চলের প্রধান মোহাম্মদ মাসুদ রানা বর্তমানে এইমওয়ে কর্পোরেশনের এমডি।
এর সঙ্গে চিত্রনায়ক রুবেল, আমিন খান, অমিত হাসান, নীরব, জায়েদ খান, সিদ্দিকসহ অনেকেই সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন বলে জানা গেছে। এ প্রসঙ্গে কো¤পানির চেয়ারম্যান রিদওয়ান বিন ইসহাক যুগান্তরকে বলেন, আমরা কোন প্রতারণার ব্যবসা করি না। আমাদের নিজস্ব ফ্যাক্টরি থেকে পণ্য উৎপাদন করে তা বিক্রি করি। গত এক মাস ধরে কার্যক্রম বন্ধ থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পত্রপত্রিকায় ডেসটিনি নিয়ে লেখালেখি করার কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের সব এমএলএম কোম্পানির ব্যাংক হিসাব বন্ধ করে দিয়েছিল। বৃহস্পতিবার আমাদের প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব আবার খুলে দেয়ার বিষয়ে একটি চিঠি দিয়েছে বলে দাবি করে বলেন, আগামীকাল থেকে আবার আমাদের কাজ শুরু হবে। তাদের প্রডাক্ট নিুমানের কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের সব প্রডাক্ট মানসম্মত। বিএসটিআইসহ নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুমোদন নিয়ে আমরা ব্যবসা করি। এভাবে আমানত সংগ্রহ করা বৈধ কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেশে প্রচলিত সব আইন মেনেই আমরা ব্যবসা করছি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

