খুব চিপায় আছি কয়দিন যাবৎ। পুরা লেট লতিফ হইয়া গেছি। হপ্তা খানেক আগেই এই পোস্ট পাঠানোর কথা । ইতিমধ্যে ধম্ম নিয়া বিভিন্নমুখী ঝড় বইয়া গেল।
যাই হোক । এই পোস্টে লোকায়তিকদের নৃবৈজ্ঞানিক পরিচয় দেওয়ার কথা বলেছিলাম । লোকায়ত দর্শণের মূল পুঁথি না পাবার কারনে নৃবিজ্ঞানীদের নির্ভর করতে হয়েছে, একটি বিশেষ চিন্তাধারাকে খন্ডন করতে প্রাচীন দার্শনিক সাহিত্যে বিশেষত: বেদ সমর্থক দর্শন সমূহের পূর্বপ বর্ণনার উপর । দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়কে এেেত্র উদ্ধৃত করতেই হচ্ছে কেননা ভারতীয় দর্শনের অ্যানথ্রোপো-ফিলোসফিক্যাল অনুসন্ধানের আর তেমন কোন উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টার কথা আমি জানিনা। কেউ জানলে অবশ্যই জানাবেন ।
নৃবিজ্ঞানীরা যে ধরনের আদিম আচার-অনুষ্ঠানকে ''উর্বরতার কামনায় জাদুঅনুষ্ঠান'' (fertility magic) আখ্যা দেন , সেখানেই আসলে ''তন্ত্র'' সাধনার উৎস অনুমেয় । এই অনুষ্ঠানগুলোর ভেতরকার বিশ্বাস হচ্ছে মানবীয় প্রজনন ও প্রাকৃতিক উৎপাদন একই সূত্রে বাঁধা , অতএব একটির সংস্পর্শে অপরটিও আয়ত্বাধীন হয় । মজার ব্যাপার হচ্ছে এই পযর্ায়ের ধ্যান-ধারনায় দেহাতিরিক্ত আত্মার কল্পণা সম্পূর্ণ অনুপস্থিত । পক্ষান্তরে এই বিশ্বাসের ক্ষেত্রে মানবদেহের গুরুত্ব সর্বাধিক ।অতএব ''তন্ত্র'' সাধনায় ''দেহতত্ত্ব'' ও ''কায়াসাধনার'' অপরিসীম গুরুত্ব । আদি তন্ত্রমতে যা আছে দেহভান্ডে তাই আছে ব্রহ্মান্ডে , অথর্াৎ , দেহ রহস্যের মধ্যেই বিশ্বরহস্যের পরিচয় বা মূলসূত্র । এই পযর্ায়ের বিশ্বাসে দেহাতিরিক্ত আত্মার স্থান নেই বলেই ''পুরুষাথর্া'' হিসেবে আত্মার মুক্তি বা ''মোক্ষ '' অনুল্লেখিত।
পরবতর্ীকালের আধ্যাত্মবাদী চিন্তকবৃন্দ স্বভাবত:ই এইরুপ ধারণাকে অত্যন্ত গর্হিত মনে করেন এবং খন্ডণে প্রবৃত্ত হন । আধ্যাত্মবাদীরা রাষ্ট্রকতৃক সমর্থিত হন বলে তাদের পুঁথি সংরক্ষিত হয় যত্ন সহকারে । রাষ্ট্রীয় দর্শণের প্রবল আক্রমণের মুখে প্রাচীণ দেহাত্মবাদী তন্ত্র সাধকেরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েন, লোকালয়ের বাইরে । আউল-বাউল-সহজিয়া সাধকদের চিন্তায় দেহ -তত্ত্ববাদ আসলে আদিম দেহাত্মবাদী বস্তুবাদকেই ধারণ করে । আধ্যাত্মবাদীদের সাধনায় যুক্ত হয় ''আত্মা'' এবং ক্রমশ ঈশ্বর । লোকায়ত থেকে ন্যায়-সাংখ্য-যোগ দর্শনে ঈশ্বর বিষয়ক বিতন্ডা থেকে দর্শন এবং প্রতিষ্ঠাণের আদিম দ্্বন্দ্ব অনুমেয় ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


