বিগত কয়েক সপ্তাহ যাবৎ ধম্মো আর ঈশ্বর নিয়ে ব্যপক তক্কা-তক্কি হলো । ক্ষুদ্র মগজে যা বুঝি, বিজ্ঞানের প্রামাণ্যকে বিশেষ ''বিশ্বাসের'' চশমা দিয়ে দেখতে গিয়েই গোল বাঁধছে । অথর্াৎ বিশ্বাসীরা যে সমস্যায় ভুগছে , তা হলো যেই তাদের বিশ্বাসের শেকড়ে টান পড়ছে অমি্ন ক্ষেপে উঠছে । আর তখনই প্রচ্ছন্ন প্রচেষ্টা দেখা যাচ্ছে ফিজিক্সকে মেটাফিজিক্স দিয়ে ছেঁকে নেবার ।
এই প্রচেষ্টা গুলোকে মনোযোগ দিয়ে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, জ্ঞানের যে অংশটি অজানা বা অস্পস্ট তাকে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় অলৌকিক (যা লৌকিক নয় ) কোন রেফারেনস দিয়ে নিশ্চিন্ত হবার চেষ্টা । এই অবস্থান থেকে বিষয়টির কয়েকটি ডিরেকশান দেখা যায় :
1) বিজ্ঞান সম্পর্কে বেসিক জ্ঞানের অভাবে উত্তরাধীকার সূত্রে প্রাপ্ত অলৌকিকতায় আত্মসর্মপণ;
2) প্রি-ডিসাইসিভ মনোভাব নিয়ে বিজ্ঞান পাঠ, অথর্াৎ ফলাফলকে ধ্রুব ধরে নিয়ে ক্যালকুলেশন সাজানো ;
3) বিজ্ঞান পাঠে ভীত হয়ে অধিবিদ্যাকে আঁকড়ে ধরা;
এর অবশ্য আরও অনেক উপশাখা নির্দেশ করা যায় , কিন্তু বিশ্বাস-প্রকরণ আমার উদ্দেশ্য নয় । আমার উদ্দেশ্য বিশ্বাস এবং অবিশ্বাসের দ্্বন্দ্বের মূলসূত্র নির্দেশ । কোথায় আসল পার্থক্যটি ফুটে ওঠে ?
প্রথম সমস্যা হচ্ছে ''বিশ্বাস'' শব্দটি নিয়ে । বাংলা অভিধান মতে, ''সত্য বলিয়া জ্ঞান করা'' , ''আস্থা রাখা '' ( চলন্তিকা অভিধান) । কিন্তু এই অর্থ গুলো তো আসলে জটিলতা বৃদ্ধিই করলো আরও দুটি অস্পস্ট শব্দ ''সত্য'' এবং ''আস্থা'' আমদানি করে । কোনটার অর্থস্পস্ট নয় । বিশ্বাস নামক কোন ক্রিয়া আদৌ সম্ভব কিনা সে প্রশ্ন এই অস্পস্টতা থেকে আরও প্রকট হয়ে ওঠে । কারণ চৈতন্য দেহ রসায়নের কত প্রকার ফ্যাক্টার দ্্বারা প্রভাবিত সেটা না জানা পর্যন্ত তার সম্পর্কে সর্বাত্মক কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না । এটা শুধু চৈতন্য না কোন বিষয়েই বিজ্ঞানের সর্বাত্মক সিদ্ধান্ত না নেওয়ার কারণ । বিজ্ঞান মূলগত ভাবেই অ্যাবসলুডিটি বিরোধী । সর্বাত্মক সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হলে বিজ্ঞান নামে আর কোন বিষয়ের প্রয়োজন থাকে না । বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ''বিশ্বাস'' নামক কোন ক্রিয়া সম্পূর্ণ অসম্ভব ।সুতরাং যারা অজ্ঞাত কে অলৌকিকের কস্টিউমে চেনে তারা আসলে বিশ্বাস নামক সর্বাত্মক ক্রিয়ার বদলে , অজ্ঞাতের নিরাবয়ব ফাউকে আঁকড়ে ধরার চেষ্টা করে । এই আঁকড়ে ধরাকেই ''মরমী'' লাইনের অনুসারিগণ ''সমর্পণ'' বলে আখ্যা দেন । সেখানেই সমস্যা। অদৃশ্যে আত্মসমর্পণ করে থিতু হবার প্রচেষ্টা, রাজনৈতিক কুমতলবের বাইরে, ঈশ্বর কল্পনের প্রধাণ মটো । এই আত্মসমর্পণের সাধারণ প্রবণতা জনগণের মধ্যে বিদ্যমান থাকে আফিং রূপে । কিন্তু রাজনীতিতে সমস্যা সৃষ্টি করে এই আফিং এর থানাদারবৃন্দ । তাদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান আফিং এর সোল-এজেনসি খুলে বসে । কেউ না খেলে সমাজচু্যত বা নিহত । অজানার প্রতি সমর্পণ পরিণত হয় কার্যত: আফিং বিক্রেতার কাছে সমর্পণে ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


