পঙ্কজদা খানিক আনমনা হইয়া হালকা হাসি দিলেন। সপ্রশ্ন দৃষ্টিতে তাকাই। হাসি তাহার মুখে কমই দেখিয়াছি।
"বুঝলে, প্রতিটা মানুষের জীবনে একটা গাছ-রূপী মানুষের বড় প্রয়োজন। যার কাছে সব কথা... সব... ভালো মন্দ... উচিৎ অনুচিত সব কথা বলে ফেলা যায়, কোন বাঁধা নেই নিষেধ নেই। বলে হালকা হওয়া যায়।"
পঙ্কজদা কথা গুলো আমাকে বলিতেছেন না, এসব স্বগোতক্তি। তাই, আমি পত্রিকায় চোখ দেই আবার। পঙ্কজদা গায়ে চাদর ভালো করিয়া জড়াইয়া নেন,
"এই বট গাছ কাছের কেউ হয় না, হয় অনেক অনেক দূরের কেউ, অপরিচিত, যে জীবনে আসবে না কখনো।"
"হু" আমি সায় দেই।
"একজনের মানুষের একটা বট গাছই যথেষ্ট এবং একজন মানুষের শুধু একজনের বট গাছ হওয়া উচিৎ।"
"হু।"
"কিন্তু যে অনেকের বটগাছ সে জানে, একটা মেয়ে কি চিন্তা করে, একটা ছেলে কিভাবে চিন্তা করে, মানব মনের দূরভিসন্ধি, কিভাবে অভিনয় করে যেতে হয়, মিথ্যা হাসি...
বটগাছ পাওয়া সৌভাগ্যের, বটগাছ হওয়া সৌভাগ্যের না। জগতের রহস্য তো মানুষই। সেই রহস্য যদি ফাঁস হয়ে যায় রইলোটা কি!"
আমি খানিকটা বিরক্ত হই, বুঝতে না দিয়ে বলি, "বাহ! চমৎকার বলেছো!"
পঙ্কজদা খেয়াল করেন না, দূরে যেন তার দৃষ্টি নিবদ্ধ, "বটগাছরা ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে, বটগাছের জন্য কোন বটগাছ থাকে না, তার কথা তার ভেতরে থাকে, জগতটাকে তার কাছে মেকি মনে হয়, মানুষের মাঝে গাছের মত জীবন্মৃত হয়ে থাকে।"
শেষ কথাগুলোতে খানিক বিচলিত হই, সাবধানে তাকাই পঙ্কজদার দিকে। আমি তো শুধু আমার কথাই তাহাকে বলিয়াছি, সে তো তাহলে অন্তত আমার বটগাছ। কখনো তো তাহার কথা শুনিনি!
পঙ্কজদা মুচকি হাসি দেন, "তুই আমার কথা কি জানবি? তুই আমার কথা জানার পর কি ভেবে কি বলবি, তা তো আমি এখনই জানি!"
চমকে উঠি।
আসলেই, জগতের স্বাভাবিক রহস্য উদঘাটিত হইয়া গেলে জগত পানসে হইয়া যায়। যেমন হয় বটগাছদের।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




