ছেলেটির শখ ছিল বাবার বেহালা বাজানো। বাবা ছিলেন সংস্কৃতিমনা ও ভ্রমণপিপাসু ব্যবসায়ী। তাই ছেলেকে বেহালা বাজানো শেখাতে বাবার উৎসাহের কোনো কমতি ছিল না। বাবার ইচ্ছা ছিল, ছেলে হয়ে উঠবে জগদ্বিখ্যাত জার্মান সুরস্রষ্টা বিটোফেনের মতো। কিন্তু ভিন্ন ধাতুতে তৈরি ছেলে কি শোনে বাবার কথা! বাবার ইচ্ছাতেই ছেলে কৈশোর থেকে অনেক ভালো বেহালা বাজানোর জন্য বিখ্যাত ছিল। কিন্তু দুরন্ত ছেলের নেশা ছিল ভিন্ন কিছু করার। দুরন্ত ছেলেটি পরবর্তী সময়ে হয়ে ওঠে জার্মানির বিখ্যাত গণিতবিদ জর্জ ক্যান্টর। সেটতত্ত্বের জনক জর্জ ক্যান্টর ১৮৪৫ সালে রাশিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৮৬৭ সালে তিনি জার্মান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাত্র ২২ বছর বয়সে গণিতে নাম্বার থিওরির ওপর পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। ১৮৬৯ সালে তিনি হ্যালে বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিতের গবেষক হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। ১৮৭২ সালে ক্যান্টর ত্রিকোণমিতির ওপর নিবন্ধ প্রকাশ করেন। এ সময়ই তাঁর সঙ্গে আরেক জার্মান গণিতবিদ রিচার্ড ডেডেকিন্ডের পরিচয় হয়। ১৮৭৩ সালে ক্যান্টর প্রমাণ করেন, মূলদ সংখ্যার সেট বীজগাণিতিক সংখ্যাগুলোর মতোই গণনাযোগ্য। অর্থাৎ, মূলদ সংখ্যার সেটে যতগুলো সংখ্যা আছে, ঠিক ততগুলো সংখ্যাই আছে ধনাত্মক পূর্ণ সংখ্যার সেটে। তিনি আরও প্রমাণ করেন, বাস্তব সংখ্যাগুলো গণনাযোগ্য নয়। বার্লিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লিওপোল্ড ক্রোনেকার তাঁর গবেষণা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে সমালোচনা শুরু করেন। কিন্তু আত্মপ্রত্যয়ী ক্যান্টর সমালোচনার বিরুদ্ধে মেধা-মনন দিয়ে কাজ চালিয়ে যেতে থাকেন। ১৮৭৯ সাল থেকে ১৮৮৪ সাল পর্যন্ত তিনি সেটতত্ত্ব নিয়ে বিস্তৃত গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশ করতে থাকেন।
১৮৯৫ ও ১৮৯৭ সালে সেটতত্ত্বের ওপর তাঁর আরও দুটি নিবন্ধ প্রকাশ পায়। ক্যান্টর সেটতত্ত্বের মৌলিক ভিত্তি রচনা করেন। তিনি অসীম সেটের পাটিগাণিতিক তত্ত্ব প্রদান করেন। তিনি এ তত্ত্বে সংখ্যাকে কার্ডিনাল ও অর্ডিনাল দুই ভাগে ভাগ করেন। তিনি কার্ডিনাল ও অর্ডিনাল সংখ্যা বোঝানোর জন্য হিব্রু আলেফ () ও গ্রিক ওমেগা () বর্ণ প্রতীক হিসেবে ব্যবহার শুরু করেন, যা আজও ব্যবহূত হচ্ছে। তবে সমসাময়িকদের ধারাবাহিক সমালোচনা এবং নিজের ছোট ছেলের মৃত্যুতে প্রচণ্ড বিষণ্ন হয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে গণিতের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে থাকেন। বিশ শতকের প্রভাবশালী এই গণিতবিদ ১৯১৮ সালে পরলোকগমন করেন। সংখ্যাতত্ত্ববিদ্যায় জর্জ ক্যান্টরের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ব্রিটিশ রয়েল সোসাইটি তাঁকে সম্মানসূচক সিলভেস্টার পদক প্রদান করে।
(Click This Link)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


