
ষোড়শী এক মেয়ে আলমের টিনের মধ্যে একতারার টুং শব্দের মূর্ছনায় মূর্ছাগত, দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য। শান্তিনিকেতনে আসা যাওয়ার পথে ট্রেনে অপার বিস্ময়ে অন্ধ বাউলের হৃদয়ের গান শুনে এই তাঁর উপলব্ধি। একটা সময় তাঁর বাউল গান শুনতে ভয় লাগত; ভাবত বাউলের গান বুঝি তাঁকে ঘর ছাড়া করবে। ছাড়তে হবে পড়াশোনা। ঠিকানা হবে আশ্রম। আর শেষকালে হয়েছেও তাই। পশ্চিমবঙ্গের ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্ম নেওয়া মৌসুমি পারিয়াল, কাল আর মনের খেয়ালে হয়ে গেলেন পার্বতী বাউল।

বাউল হয়েই যেন তাঁর দেশে বিদেশে ঘুরে বেড়ানো। টরন্টো সংস্কৃতি সংস্থার ১০ম বার্ষিক পারফর্মিং আর্ট উৎসব ২০১৫-তেও গান গাইতে এসেছিলেন পার্বতী বাউল। সেখানেই গ্রিনরুমে বসে তাঁর সঙ্গে কিছু কথোপকথন।
পশ্চিমবঙ্গের অনেকের মতো তাঁর প্রকৌশলী বাবা আর রামকৃষ্ণের ভক্ত মা পূর্ববঙ্গের এখনকার বাংলাদেশের বাসিন্দা ছিলেন। দেশভাগের পর তারা পশ্চিমবঙ্গে চলে যান। বাবার রেলওয়েতে চাকরির কারণে নানান জায়গা থাকা হলেও শৈশবের উল্লেখযোগ্য সময় কেটেছে আসাম ও কুচবিহারে। সেই সময়ই তাঁর হাতেখড়ি হয় উচ্চাঙ্গ সংগীত ও কত্থক নৃত্যে।

দরবেশ পরম্পরায় দীক্ষায় দীক্ষিত পার্বতী এখন পায়ে অভিনব নূপুর, কোমরের কাছে ডুগডুগি আর তাঁর বিশাল জটা ধরা চুলে নৃত্য ভঙ্গিমায় কখনো অধরার কথা, কখনো কৃষ্ণের কখনো রাধা আবার কখনো নিজেকে জানার, চেনার গল্প বলে যান ঘণ্টার পর ঘণ্টা, রাতের পর রাত।
কিছু গান:
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৩:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




