জঙ্গিবাদের কারখানা :আমরা গত দুই বছর আগে হেফাজতিদের তান্ডব দেখেছি ।তখন হেফাজতিদের হুমকিতে পুরো দেশ যেন অচল হয়ে পড়েছিল বারবার ।শুধু হেফাজতি না ,সারা দেশ জুড়ে মৌলবাদী, জামাত -শিবির -রাজাকার গোষ্ঠী আর ধর্মান্ধদের চিৎকারে কান জ্বালা পালা অবস্থা ।তাদের ভাষ্যমতে এর মূল কারণ হচ্ছে ,নাস্তিকরা নাকি ধর্ম অবমাননা করেছে, রসুলের অবমাননা করেছে তাই তাদের ফাঁসি দিতে হবে,শায়েস্তা করতে হবে ।নাস্তিকদের কেউ যদি ব্লগে ধর্মের বিরুদ্ধে লেখে তবে তার প্রতিবাদ করা যেত লেখা দিয়ে ।প্রতিটি মানুষের অধিকার আছে যে কোন কিছুর নিন্দা করার, বিরোধিতা করার, মতামত দেয়ার ।কোন ধর্ম বা মতবাদ সত্যি কিনা তা যাচাই করতে হলে এমন একটা পরিবেশ বজায় রাখতে হবে যেখানে মুক্ত ভাবে এর সমালোচনা করা যায় ।যদি এই পরিবেশ না থাকে তবে যে কোন মিথ্যাচারকে ধর্ম হিসাবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব ।যদি সতীদাহ প্রথার নিন্দা ও বর্ণ প্রথার সমালোচনা করা না যায় তবে হিন্দু ধর্মের বর্বর রূপ ফিরে আসবে ।একটি ধর্ম সত্য কিনা তা প্রমাণ করা যায় তার সমালোচনার মাধ্যমে ।প্রকৃত প্রশংসা তখনই পাওয়া সম্ভব যখন সমালোচনা করার স্বাধীনতা থাকে ।ইসলামের শুধু প্রশংসা করা যাবে কোন সমালোচনা বা নিন্দা করা যাবে না এটি কোন নীতি ।কিন্তু মোল্লাদের অতশত বুঝে কাজ কী।উগ্র ইসলামী জঙ্গি দ্বারা আগেই নিহত হলেন ব্লগার রাজীব ।হত্যা করে শেষ নয় ।সরকারি প্রণোদনাই তৈরী করা তালিকায় ও তার নাম ও ছিল ।একজন মানুষকে শুধু একবারই হত্যা করা সম্ভব সেই ব্যাপারটা ও তারা উপলব্ধি করতে অক্ষম ।হেফাজতি ও ধর্মীয় মৌলবাদী গোষ্ঠীকে খুশি করার জন্য সরকার ও নিরপরাধ ব্লগারদের জেলে পুরল।একই মতাদর্শের মৌলবাদীরা শুধু বাংলাদেশে নয় সারা পৃথিবীতে একই কাজ করে আসছে দিনের পর দিন ।সালমান রুশদির satanic verses এর প্রতিবাদে সেই কী কান্ড বিশ্বজুড়ে ।নিহত হোন অনেকেই ।এমনকি এর অনেক অনুবাদক হামলার হাত থেকে রক্ষা পাননি ।আজ ও রুশদি মুক্তভাবে চলাফেরা করতে পারে না । ডেনিশ কার্টুন ও Charlie hebdo cartoon নিয়ে কী ঘটেছিল স্মরণ হলে শিউরে উঠতে হয়
।মুসলিম মৌলবাদীরা সারা পৃথিবীকে নিজের সম্পত্তি বলে মনে করেন তাই যারা ইসলামে বিশ্বাস করেন না তারা ও এই ধর্মের সবকিছুকে সম্মান করতে বাধ্য থাকবেন।এমনকি যে দেশে মুসলিম নেই বললেই চলে সে দেশে ও কেউ মুহাম্মদের সমালোচনা করতে পারবে না । আমাদের কবি কাজী নজরুল ইসলামকে ও মোল্লারা কাফের ফতোয়া দিয়েছিল ।তসলিমা নাসরিনের লেখা ইসলামের সমালোচনা নিয়ে মোল্লারা যা করল তা খুবই আশ্চর্যজনক ।এমনকি মোল্লারা তার মাথার দাম ঘোষণা করল প্রকাশ্যেই ।প্রথম আলোর আলপিন মোহাম্মদ বিড়াল নামক একটি কৌতুক ছাপা হলে সম্পাদক সহ এসে করজোড়ে মাফ চাইতে বাধ্য হলেন ।নির্যাতিত হলেন কার্টুননিসট আরিফ ।তাদের ভয়ে অনেক ব্লগার আজ দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছে ।হেফাজতের আমীর মাওলানা শফি যে তের দফা ঘোষণা করেছেন তাতে এইটা পরিষ্কার যে এমনকি তারা স্কুলগুলোকে মাদ্রাসায় পরিণত করতে চাই ।যেখান থেকে সৃষ্টি হবে অসংখ্য জঙ্গি ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


