ভাবছি, শহরের রাস্তাগুলো কি সড়ক ও জনপথ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরে না? সারাদেশের রাস্তাঘাট তো সোনা দিয়া মুড়ায়ে দিচ্ছে তারা, শহরের জনবহুল রাস্তাঘাট-ও তার থেকে বাদ যাবে কেন?
চট্টগ্রামে গত এক-দুই বছরে ব্যস্ততম রাস্তাগুলোর অবস্থা আরো খারাপের দিকে গিয়েছে। আর কিছুদিন গেলে মানুষ টাকা খরচ করে পার্বত্য অঞ্চলে ট্র্যাকিং করতে না গিয়ে চট্টগ্রাম শহরেই আসবে। গিরিখাত, গুহা, কূপে ভরা রাস্তাঘাট!
তিন চাকার যানবাহনে চড়ে এইসব রাস্তায় যাতায়াত করলে মানুষের হাড়-গোড়, নাড়ি-ভুড়ি এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় চলে যায়। বৃষ্টির সময় যানবাহনে থাকুক বা না থাকুক, শহরবাসী চলাচলে এতটুকু স্বস্তি পায় না। আঁকাবাঁকা পথে গর্ত এড়িয়ে চলতে থাকে ছোটখাট গরীবের যানগুলো। কার-জিপ-বাস-ট্রাকের মত বড় গাড়িগুলো পানিতে জমা রাস্তার ডোবাগুলো দিয়ে যাওয়ার সময় আশেপাশের সবাইকে জমজমের পানি দিয়ে গোসল করিয়ে চলে যায়। পথচারীদের জন্য চলাচলের যোগ্য ফুটপাত পাওয়া তো ভাগ্যের ব্যাপার। ফুটপাত না থাকলে রাস্তার যেই দুপাশে যাও একটু হাঁটা যায়, তাও পানিতে ডুবে থাকে, কাদায় ভর্তি থাকে, কিংবা ভ্রাম্যমাণ ডাস্টবিনের দায়িত্ব পালন করে।
সরকারী কর্মকর্তা, আমলা-গামলা, এমপি-কাউন্সিলর-চেয়ারম্যান, ঠিকাদার-ক্যাডার-রাজনৈতিক নেতা-ক্যাতা, যাদের হাতেই টাকা আর ক্ষমতা, তারা কখনো রাস্তায় নিজেরা হাঁটেন না, দামী গাড়ী ছাড়া কাজে যান না, বউ-বাচ্চা-পরিবারকে এইসব ঝামেলা থেকে দূরেই রাখেন। কারণ, তারা সবসময় উপরের সুস্বাদু স্তর-টাই চাটেন, তলানির-টা রেখে দেন জনগণের জন্য। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশে তারা আদতেই জনগণ-কে প্রজা মনে করেন। বিচিত্র!
রাস্তাগুলো প্রতি বছর কেন নতুন করে বানাতে হয়? মেরামতের কয়েকমাস পরেই আবার এত দ্রুত নষ্ট হয় কিভাবে? আমরা কেন এত উদার-উদাসীন-বেহায়া? রাস্তাঘাটগুলো বানানোর নামে ভেজাল নির্মাণসামগ্রীর আড়ালে যারা প্রতিবছর এত টাকা উদরপূর্তি করছে, সেই টাকাগুলো কাদের টাকা?
ঠিক জায়গায়, ঠিক সময়ে, ঠিক মানুষকে, ঠিক প্রশ্ন করার অভ্যাস আয়ত্ত করুন। প্রশ্ন করা আমাদের অধিকার। ওরা আমাদের অধীনস্ত, আমরা ওদের প্রজা না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


