নিচের লিঙ্কে দেওয়া ভিডিওটি দেখুন। ধনকুবের মূসা বিন শমসেরকে নিয়ে ডেনমার্কের একটি চ্যানেল এই রিপোর্ট তৈরি করেছে। ভিডিওটি দেখার পরে আমার লেখাটি পড়ুন।
https://www.youtube.com/watch?v=gXKUPDqf0nk
১) ড. মূসার ভাষ্যনুযায়ী- ২০০৮ সাল পর্যন্ত সে আনুমানিক ৩ কোটি মানুষকে দেশের বাইরে বিভিন্ন দেশে পাঠিয়েছে, যাদের বেশির ভাগই মধ্যপ্রাচ্যে। শ্রমিক হিসেবে বিদেশে যাওয়া এসব মানুষের বেশির ভাগই খুব স্বল্প সময় বিদেশে চাকুরী করে দেশে ফেরত এসেছে; কিন্তু সাথে অতিরিক্ত কোন আয় নিয়ে আসতে পারেনি তাদের বেশির ভাগই; বরং বিদেশে যাওয়ার জন্য তাদের অনেকেই হারিয়েছে সহায়-সম্বল।
সুইস ব্যাংকের একটি "ফ্রোজেন" একাউন্টে প্রিন্স মূসার ৭ লক্ষ কোটি টাকা আছে। শুধু এই পরিমাণ মোট অর্থকে তার কোম্পানি কতৃক পাঠানো মোট শ্রমিক সংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে, প্রতিজনের ভাগে পরে প্রায় আড়াই লাখের মত। অর্থাৎ, ৩ কোটি শ্রমিক বিদেশে পাঠাতে তিনি গড়ে ২ লক্ষ ৩৩ হাজার ৩ শত ৩৩ টাকা নিয়েছেন। আমাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা বলে- শ্রমিকেরা বিদেশে যেতে এর চেয়ে আরো বেশি পরিমাণ অর্থ খরচ করে থাকে।
২) মূসার কোম্পানি ড্যাটকো পানামায় রেজিস্টার্ড করা, কারণ সেখানে ট্যাক্স দিতে হয় না।
ভারতীয় স্ট্যান্ডআপ কমেডিয়ান এবং অভিনেতা কপিল শর্মা যেখানে বছরে ১৫ কোটি রূপি ইনকাম ট্যাক্স দিয়ে গর্ববোধ করে, সেখানে আমাদের এই মাল্টিবিলিওনিয়ার কর দেওয়াকে নিজের ক্ষতি মনে করে।
সে বছরের পর বছর গরীব-মূর্খ মানুষগুলিকে বিদেশে গতর খাটতে পাঠানোর জন্য জনপ্রতি লক্ষ লক্ষ টাকা "নেওয়াকে" দেশের উপকার করা মনে করে, অথচ, বৈধ উপায়ে নিজের আয়ের কিছু অংশ "দেওয়াকে" সে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেই।
তার কোম্পানি দ্বারা পাঠানো মানুষগুলি যখন কিছুদিন পরেই দেশে ফিরে এসে চাকরি পায় না, ব্যবসার পুঁজি পায় না, দৈন্যদশায় দিন কাটায়, তখন তাদেরকে দেখতে যাওয়াটা সে নিজের সময়ের অপচয় মনে করে, নিজের প্রাইভেসির জন্য হুমকিস্বরূপ ভাবে। এই রিপোর্টের রিপোর্টার তার সাথে মূসাকে এরকম একজন বিদেশফেরত শ্রমিককে দেখতে যাওয়ার অনুরোধ করলে সে যেতে অস্বীকার করে।
সে যদি প্রতি বছর তার আয়করের ১০%ও সঠিক পরিমাণে দিয়ে দিত, তবে ফেরত আসা এসব শ্রমিক স্বস্তিতে জীবনযাপন করতে পারতো।
৩) মূসার দৃষ্টিতে পৃথিবীর সব গরীব মানুষ "ইডিয়ট"!
সে তার এই অভিমতের তাৎপর্য ব্যাখা করতে গিয়ে যা বলল, তাতে তাকেই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ইডিয়ট আখ্যায়িত করলে ভুল হবে না বোধ করি।
৪) রিপোর্টার জিজ্ঞেস করেছিল, "বাংলাদেশে যদি আপনার মত ভয়ংকর ধনী মানুষেরা থাকেন, তাহলে কেন আমরা (উন্নত দেশসমূহ) আপনার দেশকে অর্থ-সাহায্য দিব?"
সে উত্তর দেয়, "আমি স্বতন্ত্র; পুরো জাতির দায়ভার আমি নিতে পারি না। ... ..."
ধরে নিলাম, বর্তমানে দেশের জনসংখ্যা ১৮ কোটি। তার সুইস ব্যাংকের ঐ একাউন্টের টাকাই পুরো দেশের মানুষের মধ্যে ভাগ করে দিলে প্রত্যেকের ভাগে প্রায় ৪০ হাজার টাকার মত পরে। যদিও দেশের সব মানুষই অভাবগ্রস্ত নয়; সবাইকে সাহায্যের প্রয়োজন নেই।
তার "ঢাকা প্যালেসের" প্রতিটা কোণা থেকে শুরু করে তার ঘড়ি-বেল্ট-জুতায় হীরা আর স্বর্ণের ছড়াছড়ি। ডিনার-লাঞ্চে প্রতিদিন ২৫ এর নিচে পদ থাকেনা। ঘর যেন তার দামী পোশাক আর আসবাবপত্রের গুদাম। গাড়ি-বাড়ির হিসাব দিয়ে আপনাদের হার্ট এটাক ধরালাম না।
তাহলে, ৭ লক্ষ কোটি টাকা কেন "ফ্রোজেন" হয়ে সুদূর সুইজারল্যান্ডে পরে থাকবে?
দেশের এবং জাতির জন্য এই টাকা বিনিয়োগ করা হচ্ছে না কেন? টাটা, আম্বানি, হিন্দুজা, মিত্তাল, গোদ্রেজ, মিস্ত্রি, প্রেমজি পরিবারেরা যদি ভারতের ১২৫ কোটি মানুষের হাল ধরতে পারে, তাহলে একজন "মূসা বিন শমসের" কেন পারবে না? বিয়ের পর থেকে নিজের হাতে খাবার না খেয়ে বৌয়ের হাতে খাওয়ার মধ্যেই কি তার Legacy নিহিত?!
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে নভেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৩:৩৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



