আজকাল খুব আগে থেকেই বাচ্চাকাচ্চারা বিসিএস বা হায়ার স্টাডি নিয়ে ভাবা শুরু করেছে। ফেসবুকে এ সম্পর্কিত অগণিত পোস্ট দেখছি। এই বছরই প্রথম। ব্যাপারটা পজিটিভ হলে দুশ্চিন্তার কিছু ছিল না।
আমাদের দেশের অন্যান্য অনেক কিছুর মতই শিক্ষাখাতেও সব তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে। জ্ঞানার্জন এখন আর কারো উদ্দেশ্য নয়। ভাল রেজাল্ট, ভাল প্রতিষ্ঠান, ভাল চাকরি, ভাল বেতন, নিশ্চিত ভবিষ্যৎ- এসবই একমাত্র লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষার্থী বা অভিভাবকদের একচেটিয়া দোষ দিয়েও পারছি না। ডুবন্ত নৌকা থেকে সবাই নিরাপদ জাহাজে যেতে চাইবেই।
এখন আর কেউ নির্দিষ্ট বিষয় বা নির্দিষ্ট জীবিকার স্বপ্ন দেখে না। দেখেও সফল হতে পারে না। মান বাঁচাতে, পেট বাঁচাতে, গড্ডালিকায় গা ভাসাতেই হয়।
এখন অনেকেই বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বুনে শুধু এই দেশ থেকে পরিত্রাণের জন্য। গবেষণার জন্য নয়, আবিষ্কারের জন্য নয়, দেশ/জাতি/পরিবারের মাথা উঁচু করার জন্য নয়।
জানি, এসব আবেগময় কথাবার্তা। কর্কশ বাস্তবের সামনে সবই ফিকে পরে যায়।
আমার এই লেখার মূল উদ্দেশ্য হল, একটা স্মার্ট এডুকেশন সিস্টেম এর জন্য দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করা, বটম টু টপ লেভেল অব এডুকেশন। একই সাথে সরকারি-বেসরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষাতেও যুগোপযোগী পরিবর্তন আনতে হবে, সবগুলির মধ্যে সামঞ্জস্য থাকতে হবে।
কর্মমুখী শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষাকে সুপ্রচলিত করতে হবে। চাকরির বাজার, তথা যেসব বিষয়ের স্নাতক বা স্নাতকোত্তর এর যেরকম চাহিদা, সেসবের সাথে সংগতি রেখেই সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে বিষয় বন্টন করে নির্দিষ্ট শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে হবে।
উদ্যোক্তা হতে ইচ্ছুকদের নিয়ে পৃথক ব্যবস্থার প্রচলন করতে হবে। যার অর্থ নেই, ঋণ দিতে হবে। যার জনবল নেই, দিতে হবে। যার পর্যাপ্ত দক্ষতা বা জ্ঞান নেই, তাকে সাহায্য করতে হবে। উদ্যোক্তাবান্ধব এবং অগ্রমুখী অর্থনীতি সঞ্চালনায় দেশে সামগ্রিক বিকেন্দ্রীকরণ অবশ্যই করতে হবে। সবকিছু যদি ঢাকার ভেতরেই হয়, ঢাকাও মরবে, পুরো দেশটাও মরবে।
এই ভিডিওতে খুব সুন্দরভাবে ব্যাখা করা হয়েছে ব্যাপারটা-
https://youtu.be/okpg-lVWLbE

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


