শুধু ICT, Telecom, Biztech বা Fintech দিয়ে কোন দেশেরই পরিপূর্ণ উন্নয়ন হয় না।
Heavy Engineering and Manufacturing সেক্টর যে দেশের যত উন্নত, সে দেশ তত সামনের সারিতে আছে, থাকবে।
হেভি ইন্ডাস্ট্রির ক্ষেত্রে আমরা পুরোপুরিই পরনির্ভরশীল। সাবমেরিন, স্যাটেলাইট, টানেল, ব্রিজ, পাওয়ার প্ল্যান্ট, ইত্যাদিতে শুধু লোহা, সিমেন্ট, ইট আর বালি দিতে পেরেই আমরা তৃপ্তির ঢেকুর তুলছি।
অথচ, বিদেশী প্রযুক্তি, বিদেশী মেশিন, বিদেশী কর্মী ছাড়া আমরা পুরোপুরিই অচল। চীন, জাপান, রাশিয়া আর ভারতের সাহায্য ছাড়া বাংলাদেশের অস্তিত্বই কল্পনাতীত।
সারাবিশ্ব যখন বিদ্যুৎ উৎপাদন এর জন্য ধীরে ধীরে কয়লা তো দূরের কথা, পারমাণবিক শক্তির ব্যবহারও কমিয়ে আনছে, আমরা তখন নতুন গ্লাসে পুরানো মদ খাচ্ছি।
সারাবিশ্ব যেখানে ঘন্টায় ৫০০+ কিলোমিটার বেগে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে কিভাবে যাওয়া যায়, মেগাসিটিগুলোতে কমিউট কিভাবে দ্রুত, জনবান্ধব, পরিবেশবান্ধব ও কম ব্যয়বহুল করা যায় ভাবছে, আমরা তখনও পরিবহন খাতকে (সড়ক, রেল, নৌ, বিমান) আধুনিক ও দুর্নীতিমুক্ত করতে পারিনি। আমরা এখনও নিয়মিত রেল যাতায়াতে ২০০ কিমি/ঘন্টার মার্কও অতিক্রম করতে পারিনি।
এভাবে আর কত?
অথচ, সারাদেশে রাস্তা নির্মাণ, মেরামত আর ভাঙ্গাগড়ার মহোৎসব। রাজনৈতিক নেতাদের মদদে আর ছত্রছায়ায় গড়ে উঠা কন্সট্রাকশান কোম্পানিগুলা এমন খরচে দেশের রাস্তাঘাট ও সরকারী অবকাঠামোগুলো বানায়, যা বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ব্যয়বহুল। অথচ, খুব দ্রুতই সেগুলো নষ্ট হয়ে যায়, পুনর্নির্মাণ বা রিপেয়ার করতে হয়।
ক্লাসের ফার্স্ট বয় আমলা হয়ে লুট করছে, ক্লাসের লাস্ট বয় পলিটিশিয়ান বা কন্ট্রাক্টর হয়ে লুট করছে।
সওজের ২২ হাজার কোটি টাকার কাজের ৫০% সাত ঠিকাদারের নিয়ন্ত্রণে
-----------------------
সংযোজনীঃ
খুব সংক্ষেপে বলতে গেলে, পৃথিবীকে বাঁচানোর জন্য মানুষকে নিজের চাহিদাকে লাগাম টেনে ধরতে হবে, ভোগ কমাতে হবে (উৎপাদনও), বিলাসিতা ও অপ্রয়োজনীয়তা পুরোপুরি বাদ দিতে হবে।
এই পুরো বাক্যটা নিয়ে দিনের পর দিন বিশ্লেষণমূলক, গবেষণালব্ধ এবং গুরুগম্ভীর আলোচনা করা যায়। কেউ করতে চাইলে, শুনতে চাইলে, জানতে চাইলে, সাথে থাকতে পারি।
তবে এতটুকুই বলবো, পোশাকখাতনির্ভর জাতি হিসেবে আমরা নিজেরা যদি sustainable living, sustainable production, sustainable consumption, এসব না বুঝে নিজেদের ওয়াড্রব অব্যবহৃত ও অপ্রয়োজনীয় পোশাকে ভর্তি করতে থাকি, কারণে-অকারণে নিজেদের ও অন্যের জন্য পরিধানের বস্তু কিনতে থাকি, তবে csr হিসেবে ব্যক্তিগতভাবে বা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে sdg নিয়ে ভারী-ভারী কথা বলা বা রাষ্ট্রীয়ভাবে বিদেশ থেকে climate fund আনা, সবই ভণ্ডামি ছাড়া আর কিচ্ছু নাহ!
নিজেদের সাবলম্বী করার জন্য অন্যান্য উৎপাদনমুখী খাতকে, পরিবেশবান্ধবভাবে বিবেচনা করতেই হবে। দর্জিগিরি করে আর কত?
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে জানুয়ারি, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:৫২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


