somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশঃ সংবিধান ও বাস্তবতা

১৯ শে নভেম্বর, ২০১৩ রাত ২:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিস্তৃত পৃথিবীর বুকে ছোট্ট একটি দেশ বাংলাদেশ। অগণিত তরতাজা প্রাণের বিনিময়ে ১৯৭১ সালে আমরা পেয়েছি এই দেশ। একটি সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবে, যেখানে প্রত্যেকে তার যথাযথ অধিকার পাবে, সবাই মিলে সুখে শান্তিতে বসবাস করবে, এটাই ছিল অগণিত শহীদের প্রাণের আকাঙ্ক্ষা। এই দাবি পূরণে নিজেদের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে তারা আমাদের দিয়ে গেছেন একটি স্বতন্ত্র দেশ। একটি স্বতন্ত্র সংবিধান। বাংলাদেশের সংবিধান আমাদের রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ বিধান। এই সংবিধান রচিত হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের মহান শহীদদের ঐ দাবিকে সামনে রেখেই। এই সংবিধান আমাদের জাতীয় চেতনার প্রতীক, যাতে নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে প্রত্যেক নাগরিকের যথাযথ অধিকার প্রাপ্তির। নির্দেশ করা হয়েছে প্রত্যেকের দায়িত্ব। কিন্তু আমরা নাগরিকরা, যাদের অধিকার ও দায়িত্ব নিয়ে এই সংবিধান, ৯৫% এর বেশি কোনদিনই সংবিধান পড়ে দেখিনা। রাষ্ট্র পরিচালনার এই মূলনীতি বাস্তবিক ক্ষেত্রে কতটুকু মানা হচ্ছে, আমরা আমাদের অধিকার কতটুকু পাচ্ছি, তার কিছু পর্যালোচনার সামান্য চেষ্টা করব আজ।

সংবিধানের ৯নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, “ভাষাগত ও সংস্কৃতিগত একক সত্তাবিশিষ্ট যে বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধ ও সংকল্পবদ্ধ সংগ্রাম করে জাতীয় মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জন করেছেন, সেই বাঙালি জাতির ঐক্য ও সংহতি হবে বাঙালি জাতিয়তাবাদের ভিত্তি’’। প্রথমত, ‘ভাষাগত ও সংস্কৃতিগত একক সত্তা’ কথাটা আদিবাসী বা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী যেটাই বলেন, তাদেরকে বাংলাদেশের অধিবাসী হিসেবে গণ্য করার পথে একটা প্রশ্নের সৃষ্টি করছে। কেননা, আমরা জানি যে, তাদের ভাষা ও সংস্কৃতি অন্যদের চাইতে পৃথক। এই ক্ষেত্রে ভাষা ও সংস্কৃতির চাইতে ভূখণ্ডের বিষয়টাই বোধহয় মুখ্য। দ্বিতীয়ত, ‘বাঙালী জাতি’ শব্দ নিয়ে। বাংলা+ই=বাঙালি। এইখানে বাংলা ভাষাভাষী সবাই বাঙালি জাতির অন্তর্ভুক্ত। এই স্থানে ‘বাঙালি’ শব্দের পরিবর্তে ‘বাংলাদেশি’ শব্দের ব্যবহার আমাদের জাতীয় পরিচয় কে আরও স্পষ্ট করে তুলবে বলে বিশ্বাস।

সংবিধানের ১৪নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, “রাষ্ট্রের অন্যতম মূল দায়িত্ব হল, মেহনতি মানুষ, কৃষক ও শ্রমিকের এবং জনগণের মধ্যে পিছিয়ে পড়া অন্য গোষ্ঠিগুলোকে সব ধরণের শোষণ থেকে মুক্তি দেয়া।” থিওরি এক জিনিষ আর বাস্তবতা অন্য। আমাদের দেশে কৃষির উন্নয়নের পথে অন্যতম বাধা হল এই ধারার প্রয়োগহীনতা। প্রতিবছরই অভিযোগ আসে যে কৃষক তার ন্যায্য মূল্য পায়নি। অন্যদিকে ক্রেতা সাধারন বাজারের দিকে তাকালেই চোখে সর্ষে ফুল দেখেন। অনেক সময় দেখা যায়, যে পণ্য কৃষক বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন ১০ টাকাই, একই পণ্য ক্রেতাগন ৩০ টাকায়ও কিনতে পাচ্ছেন না। মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ব এখানে একটি প্রকট সমস্যা। তাদের দৌরাত্বে একদিকে কৃষকরা বঞ্চিত হন প্রাপ্য মূল্য থেকে, অপরদিকে ভোক্তারাও হিমশিম খান দ্রব্য ক্রয়ে। এই ক্ষেত্রে সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে সরকারের সদিচ্ছার যথেষ্ট অভাব দেখা যায়। সবসময়ই সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তি এমনকি অনেক ক্ষেত্রে মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে এই অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠে, যা কখনও কাম্য নয়।

সংবিধানের ১৫নং অনুচ্ছেদে ‘ক’ উপদফায় অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ মৌলিক উপকরণসমুহ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। এখানে উল্লেখ করা হয়েছে ৫টি মৌলিক অধিকারের কথা। আমরা যারা মহানগরী সমুহে থাকি, সবাই খুব ভালো করে জানি, অগণিত মানুষ, যারা বিভিন্ন বয়সের এবং যাদের মাঝে একটি বড় অংশ হল শিশু, অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে। তাদের গায়ে শতছিন্ন এক আধখানা কাপড়। তাদের নির্ধারিত বাসস্থান থাকা তো দুরের কথা, প্রায়ই রাত কাতে খোলা আকাশের নিচে। তাদের কাছে শিক্ষার কথা আপনি কোন মুখে বলবেন? তারা কি বাংলাদেশের নাগরিক নয়? তাদের কি আমাদের মত মৌলিক অধিকারসমূহ পাওয়ার কথা নয়? কিন্তু তারা আদৌ পাচ্ছে কি? আচ্ছা তাদের এই সব মৌলিক অধিকার সমূহ নিশ্চিত করার দায়িত্ব কার? সবার উত্তর নিশ্চিত একটাই। সরকারের। এই বিশাল সংখ্যক জনগোষ্ঠীর মৌলিক অধিকারসমূহ নিশ্চিতকরণে সরকারের কোন উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ এখনও অন্তত আমার চোখে পড়েনি। সর্বশেষ - চিকিৎসা। জেলা উপজলায় অনেক সংখ্যক সরকারী চিকিৎসা কেন্দ্র আছে। কিন্তু ডাক্তার? নিয়োগ দেয়ার কাজ করেই যেন সরকারের কাজ শেষ। অনেক ডাক্তার সপ্তাহে একদিনও তার কর্মস্থলে যায়না, যদিও সেখানে নিয়মিত তার সেখানেই থাকার কথা। নিকটস্থ বড় শহরে দামি ক্লিনিকে তাদের দিন কাটে। অন্যদিকে যাদের জন্য সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র সমূহ, সেই গরিব মানুষগুলো বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য কি করা দরকার সবাই বোঝে। কিন্তু সদিচ্ছা থাকতে হবে তো। একই অনুচ্ছেদের ‘খ’ উপদফায় সবার জন্য কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে। কিন্তু দেশে আজ বেকার এত বেশি যে তাদের সঠিক পরিসংখ্যান কারো কাছেই নেই। উপদফা ‘ঘ’ এ বলা হয়েছে, বেকারত্ব, রোগবালাই, পঙ্গুত্ব, বিধবা, এতিম, বার্ধক্যজনিত বা এরকম আয়ত্তের বাইরে অন্যান্য পরিস্থিতির কারণে অভাব-অনটনের ক্ষেত্রে সরকারি সাহায্য লাভের অধিকার। এই উপদফা বাস্তবায়ন হয় কিছুটা। তবে সেক্ষেত্রে সাধারণত সরকারী দলের সমর্থক না হলে কদাচিৎই সেই ভাতা ভাগ্যে জোটে। দুর্ভাগ্য আর কাকে বলে?

সংবিধানের ১৭নং অনুচ্ছেদের উপদফা ‘খ’ এ বলা হয়েছে, “রাষ্ট্র সমাজের প্রয়োজনের সাথে শিক্ষাকে সঙ্গতিপূর্ণ করার জন্য এবং এই প্রয়োজন মেটানোর উদ্দেশ্যে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও সদিচ্ছাসম্পন্ন নাগরিক তৈরির কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন করবে।” আমি ঠিক বলতে পারবনা কিছুদিন পরপর ‘সমাজের প্রয়োজন’ পরিবর্তন হয় কিনা, নাহলে কিছুদিন পরপর আমাদের স্কুলসমূহের বইগুলোতে এত পরিবর্তন আসে কেন? মজার ব্যাপার হল, যেই জিনিসটা সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন হয়, সেটা হল ইতিহাস। মনে হয় টাইম মেশিনের মাধ্যমে জাতির নীতিনির্ধারকগণ কিছুদিন পরপর অতীত থেকে ঘুরে আসেন এবং সেখানে প্রয়োজনমত (আসল কথা হল ইচ্ছামত) পরিবর্তন সাধন করে আসেন। হায়রে দুর্ভাগা জাতি! নিজের সন্তানদের নিয়েও রাজনীতি করে!

সংবিধানের ১৮নং অনুচ্ছেদের ১নং দফায় বলা হয়েছে, “জনগণের স্বাস্থ্য ও পুষ্টির স্তরের উন্নয়ন ঘটানোকে রাষ্ট্র তার অন্যতম প্রাথমিক কর্তব্য বলে গণ্য করবে। বিশেষ করে চিকিৎসার প্রয়োজন বা আইনে বর্ণিত কোন প্রয়োজন ছাড়া মদ, মাদক এবং স্বাস্থ্যহানিকর ভেষজ উদ্ভিদের ব্যবহার নিষিদ্ধ করার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।” প্রথমত ,আসি রাষ্ট্রের প্রাথমিক দায়িত্ব স্বাস্থ্য ও পুষ্টির স্তরের উন্নয়ন। খুব বেশি জায়গা ঘোরার সুযোগ হয়নি। আমার প্রিয় প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্যমান সম্পর্কে কিছু বলতে পারি। হলের ক্যান্টিনের খাবারগুলো খাওয়া যায়না, অনেক কষ্টে বাধ্য হয়ে গলধঃকরন করতে হয়। আমি তাদের খাবারের কথা বলছি, যাদের নিয়ে বাংলাদেশের মানুষ ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখে। তাদেরই যখন এই অবস্থা, বাকিদের কথা কি বলার প্রয়োজন আছে? এইসব কি রাষ্ট্রের নজরের বাইরে? দ্বিতীয়ত, মদ, মাদক এবং স্বাস্থ্যহানিকর ভেষজের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে, কিন্তু উৎপাদনের ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি। দেশের বিভিন্ন স্থানে তামাকের উৎপাদন হয়। কোন লুকানো জায়গায় নয়, হাইওয়ের পাশে। পুলিশের মুখে সিগারেট দেখেনাই এমন দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন লোক খুজে পাওয়াটা দুস্কর হবে। আমার সৌভাগ্য(?) হয়েছে সেনাবাহিনীর এক সদস্যের সিগারেট খাওয়া দেখারও। যারা আইন প্রয়োগ করবে তাদেরই যখন এই হাল, বাকিরাতো খোলা জায়গায় সিগারেট খাওয়াকে অপরাধ মনে করার কথা নয় এবং মনেও করেনা।

একই অনুচ্ছেদের ২নং দফায় বলা হয়েছে, “পতিতাবৃত্তি ও জুয়াখেলা বন্ধের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।” এই বিষয়টা রাষ্ট্র দেখেও দেখেনা। সন্ধ্যার পর থেকেই জেলা-বিভাগীয় শহরগুলোতে ভাসমান পতিতাদের আনাগোনা ব্যাপকহারে বেড়ে যায়। গত ১৮ই এপ্রিল SATV এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনমূলক অনুষ্টান ‘খোঁজ’ এ এই বিষয়ে একটা প্রতিবেদন দেখলাম। তাতে দেখলাম যে ঢাকা শহরের ৮৫% হোটেলে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ৭ হাজার পুরুষ মিলিত হয় সাড়ে ৫ হাজার পতিতাদের সাথে। এই কাজে লেনদেন হয় প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ১২ কোটি টাকার! ভাবা যায়? এইসব কর্তৃপক্ষের দৃষ্টির বাইরে বলবেন? যুব সমাজের নৈতিকতা ধ্বংসের যাবতীয় সরঞ্জাম অক্ষত রেখে তাদের লম্বা লম্বা উপদেশ দেয়ার কোন মানে হয়না। আর জুয়া খেলা গ্রাম গঞ্জেও খুব দেখা যায়, বিশেষত মেলাগুলোতে ব্যাপক হারে দেখা যায়। বিভিন্ন রূপে দেখা যায় একে। শাখা ভিন্ন ভিন্ন হলেও গাছ কিন্তু একটাই।

সংবিধানের ২৮নং অনুচ্ছেদের ‘১’ দফায় বলা হয়েছে, “ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারীপুরুষ বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র কোন বৈষম্য করতে পারবে না।” এইখানে গোষ্ঠী আর জন্মস্থানের বিষয়ে প্রশ্ন উঠে প্রায় সময়। গোষ্ঠী বলতে রাজনৈতিক দল বুঝাচ্ছি। সরকারি চাকরি, বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের টেন্ডার লাভ প্রভৃতি সরকারি কাজে ব্যাপক দলীয়করণের ইতিহাস অনেক দিনের। এই রোগ সারার বা কমার কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। সবাই চাই নিজের লোককে নিয়োগ দিতে বা চাকরি দিতে। এই ক্ষেত্রে দেশের ১২টা বাজল নাকি ১৩টা, তাতে কারো ভ্রুক্ষেপ নেই। আর জন্মস্থানের ক্ষেত্রে সরকারের প্রভাবশালী কারো বাড়ির এলাকায় বাড়ি হলে তো পোয়াবারো। তাকে কোনমতে ঐ বিষয়টা জানাতে পারলেই হল। চাকরি মোটামুটি নিশ্চিত। আর খুশি করে দিতে পারলে তো নিশ্চয়তা শতভাগ। এই কারণে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অযোগ্য লোকেরা নিয়োগ পায় আর তাদের দুর্নীতি, অসততা, অযোগ্যতা দেশের অর্থনীতিকে পিছু হটতে বাধ্য করে।

সংবিধানের ৩৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, “প্রত্যেক নাগরিকের বাংলাদেশের সর্বত্র অবাধ চলাফেরা করার অধিকার রয়েছে। প্রত্যেক নাগরিকের দেশের যে কোন স্থানে বসবাস বা বসতি স্থাপন এবং বাংলাদেশ ত্যাগ ও পুনরায় বাংলাদেশে প্রবেশের পূর্ণ অধিকার রয়েছে।” অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হল এই অধিকার থেকেও আমাদের দেশের অনেক নাগরিক বঞ্চিত হয়। তবে এই ক্ষেত্রে ভিকটিম সাধারণ নাগরিকরা নয়। যারা এই অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়, তাদের পরিচয় সোজা বাংলায় বলতে গেলে বলতে হয়, তারা হয় বিরোধী দলের মাঝারি বা কেন্দ্রীয় নেতা অথবা দেশের ঐ সব বুদ্ধিজীবী, যারা সরকারের অন্যায় কাজের প্রতিবাদ করে থাকেন। আর দেশে যখন সরকার বিরোধীদের দেখা মাত্র গুলির নির্দেশ দেয়া হয় তখন রাস্তা-ঘাটে পড়ে মরে থাকার জন্য কে সর্বত্র চলাফেরার অধিকার চাইতে যাবে?

সংবিধানের ৩৭নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, “প্রত্যেক নাগরিকের শান্তিপূর্ণভাবে ও নিরস্ত্র অবস্থায় সমবে্ত হওয়ার এবং জনসভা ও শোভাযাত্রায় যোগ দেয়ার অধিকার রয়েছে”। অবস্থাদৃষ্টে ধরে নিতে বাধ্য হচ্ছি এখানে ‘জনসভা ও শোভাযাত্রায়’ এর আগে ‘যেখানে সরকারের পছন্দ হয়না এমন কথা বলা হয়না এমন’ এই কথাটি উহ্য রয়েছে। আর কিছু বলতে চাচ্ছিনা। যা বলেছি তাতেই সব পরিস্কার হয়ে যাওয়ার কথা।

সংবিধানের ৩৯নং ধারার ‘১’ দফায় প্রত্যেক ব্যক্তির চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা, ‘২’ দফার ‘ক’ উপদফায় বলার ও ভাব প্রকাশের স্বাধিনতা ও ’খ’ উপদফায় সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে। তবে শর্ত হচ্ছে, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃংখলা, শালীনতা, নৈতিকতা রক্ষার স্বার্থে বা আদালত অবমাননা, মানহানি বা কোন অপরাধ সঙ্ঘটনের প্ররোচনা দিতে পারে এমন ক্ষেত্রে উক্ত অধিকারগুলোর উপর আইনগত বাধানিষেধ আরোপ করা যাবে। মজার বিষয় কি জানেন, এই ধারাটির ঠিক উল্টো ব্যবহার করা হচ্ছে। উপরোক্ত বিষয়সমুহে যা রক্ষা ও যা থেকে বিরত থাকার কথা বলা হয়েছে , যে সব ব্যক্তি যথাযথভাবে ঐসব বিষয় মেনে চলেছেন, যারা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাকে সব কিছুর উপরে প্রাধান্য দিয়েছেন, যারা বিদেশি রাষ্ট্রের সাথে পূজনীয় সম্পর্কের পরিবর্তে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের উপদেশ দিয়েছেন, যুবসমাজের নৈতিকতা ধ্বংসের হীন প্রচেষ্টার বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে চেয়েছেন তাদের কণ্ঠরোধ করা হয়েছে।

আমাদের সংবিধানের ১৫৩ টি অনুচ্ছেদের মধ্যে মাত্র কয়েকটি নিয়ে যৎসামান্য পর্যালোচনার চেষ্টা করলাম। সংবিধানের ধারাগুলোর প্রয়োগ নিয়ে যেসব মন্তব্য আমি করেছি, তা কোন নির্দিষ্ট সরকারের কার্যকলাপ নয়, বরং কমবেশি সব ক্ষমতাসীনদের কৃত আমলনামার অতি সংক্ষিপ্ত রূপ। স্বাধীনতার পর থেকে যারাই ক্ষমতায় এসেছে, তারাই রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থে ব্যবহারের কি প্রাণান্তকর চেষ্টা করেছেন, তা দেশবাসী ভালো করেই দেখেছেন। বাংলাদেশের মানুষ এখনও অভিজ্ঞ আর পুরনো রাজনীতিবিদদের বিশ্বাস করে। তারা চায় এইসব ব্যক্তিরাই দেশ পরিচালনা করুক। কিন্তু যদি তারা দেখতে পায় তাদের আকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিদের কাছ থেকে তারা আকাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেনা, তাহলে মনে রাখতে হবে আমাদের জাতির ইতিহাস লড়াই-সংগ্রামের ইতিহাস। তারা ১৯৫২, ’৬৯, ’৭১, ’৯০ এ সংগ্রাম করেই নিজেদের অধিকার আদায় করেছে। তাদের সেই সংগ্রামী মনোভাব হারিয়ে গেছে এমন চিন্তা যারাই করবে তারা নিজেদের পতনই ডেকে আনবে। [/sb

ফেসবুকে আমাকে পাবেন এই ঠিকানায়- facebook.com/abrardu
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে ভাল্লাগে- ২

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৯


"যে-রাঁধুনী জানে তার তরকারিতে স্বাদ হয়নি, সে নিমেষে লঙ্কার কৌটো উপুড় করে দেবে। তারপর অতিথি যখন কান দিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে হাঁউমাউ করবে, রাঁধুনী তখন মিটিমিটি হেসে বলবে—‘একটু ঝাল বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চা এর আড্ডা।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১৬



শনিবার
৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৬ জমাদিউল আ. ১৪৪৮ হিজরি

কিছু মুহূর্ত কখনো হারিয়ে যায় না, সময়ের স্রোতে শুধু স্মৃতি হয়ে মনের গভীরে জমা থাকে।

২০১১ সাল। তখন আমি ইন্টারে পড়ি। নানীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৪'র ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশে ডানপন্থা ও মৌলবাদী চেতনা-রাজনীতির চরম উত্থান

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৩



২৪-এর ৫ আগস্টের পর দেশ দীর্ঘদিনের স্বৈ/রাচারী শাসন থেকে মুক্ত হয়েছিল ঠিকই; কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেশ চলে গিয়েছিল বিপুল সংখ্যক ডা*নপন্থী বা মৌ*লবাদী চেতনা বা রাজনীতির ধারক-বাহক-সমর্থকদের কবলে।
হ্যাঁ, হাসিনার পতনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×