সমাজ অনেক বড় একটা বিষয়, যা আসলে অনেকগুলো অনুষঙ্গের সমষ্টি। তার অন্যতম হচ্ছে রাজনীতি। কিন্তু আমাদের পোড়া কপাল আমাদের দেশে সমাজনীতি বা সমাজের কোন কিছুই ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, যতটা গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে অতি সামান্য কোন রাজনৈতিক বিষয়।
রাজনীতি সম্পর্কে আমি সহজ যে সংজ্ঞাটা জানি তা হচ্ছে, Politics is the Art of compromise. তবে এই সংজ্ঞাটা কতটুকু বিশ্বাস করবো তা নিয়া আমি এখনো কোন সিদ্ধান্তে পৌছাতে পারিনি। কারণ এই সংজ্ঞা মানলে আমাদের দেশে যারা নিজেদের রাজনীতিবিদ দাবি করেন তাদের কাউকেই আর রাজনীতিবিদ বলা যাবেনা। কারণ, আমার অভিজ্ঞতা বলে তারা কেউই Compromise কি জিনিস তাই ভাল মত বুঝেননা। তারা শুধু চেনেন ক্ষমতা ও ক্ষমতায় যাওয়ার অন্ধকার পথ, যেই পথ তাদেরকে মানুষের পর্যায়েও থাকতে দেয়না, বরং পরিবর্তন করে বানিয়ে দেয় মানুষ নামের অমা... ।
কিছুটা চোখ কান খোলা রেখে বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি সম্পর্কে কিছুটা ধারণা অর্জনের চেষ্টা করেছি। তার সাথে চেষ্টা করেছি আমাদের দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির সাথে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির সাথে কিছুটা তুলনা করার। এতে আমি মহাবিপদে পড়ে যাই। কারণ আমি যদি আমাদের দেশে যারা রাজনীতি করেন তাদের রাজনীতিবিদ বলি, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, জাপান, ভারত বা অন্যান্য উন্নত দেশে রাজনীতি করেন তাদেরকে রাজনীতিবিদ বলা যাবেনা। আবার তাদেরকে রাজনীতিবিদ বলা হলে আমাদের দেশের গুলোকে আর রাজনীতিবিদ বলা যাবেনা। আমাদের দেশের রাজনীতিবিদরা বিভিন্ন সময় উন্নত বিশ্বের রাজনৈতিক সংস্কৃতির উদাহরণ দিয়ে থাকেন। কিন্তু তারা কখনোই বলেন না, ঐসব দেশে একটা রেল দুর্ঘটনা হলেও রেল মন্ত্রী পদত্যাগ করেন। আর আমাদের দেশে দুনিয়া উলটে যেতে পারে কিন্তু ক্ষমতা? কোনমতেই ছাড়া যাবেনা। লাখ লাখ কোটি কোটি টাকা দুর্নীতির জন্য ধরা পড়লেও তার দুদকের কাছে দেশপ্রেমিকের কাছে সার্টিফিকেট চাইতে যান এবং পরবর্তিতে বুক ফুলিয়ে বলেন, আমি দুদকের সার্টিফিকেটধারী দেশপ্রেমিক। কি অবস্থা দেখেন। এইসব মানুষ নামের অমা...কে কোন গালি দিলে গালি নিজেই অপমানবোধ করবে।
আমাদের প্রায় সমসাময়িক কালে স্বাধীনতা অর্জন করা মালয়েশিয়ার দিকে তাকালে আফসোস ছাড়া আর কিইবা করতে পারি আমরা? মাহাথির মোহাম্মদের ক্যারিশমাটিক নেতৃত্ব পৃথীবির বুকে তাদের দিয়েছে আলাদা সম্মান। একই অঞ্চলের সিঙ্গাপুরের অবস্থাতো আরো ঈর্ষনীয়। লী কুয়ান ইউর দেশপ্রেম, অদম্য সাহস, আর সে দেশের মানুষের অক্লান্ত পরিশ্রম বিশ্ববাসির সামনে তাদেরকে মডেল হিসেবে গ্রহণ করতে বাধ্য করেছে। আর আমরা? স্বাধীনতার পরে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, “আমার সামনে চোর, পেছনে চোর, ডানে চোর, বামে চোর। সবাই পায় সম্পদের খনি, আমি পেয়েছি চোরের খনি।” আর আজ আমরা কি দেখতে পাই? শুধু সামনে, পেছনে, ডানে, বামে নয়, উপর, নিচ, ঈশান, বায়ু, অগ্নি, নৈঋত সবদিকেই চোর, ডাকাত, দুর্নীতিবাজদের খনি দেখতে পাই। এদের যে কত রূপ তার কোন ইয়ত্তা নেই। টিভির সামনে সাক্ষাৎকার দেয়ার সময় মনে হয় এদের চাইতে সাধু পৃথিবীতে আর কে হতে পারে। আর এদের কাজ দেখলে শয়তান নিজেও চিন্তিত হয়ে পড়ে, হায় হায় শয়তানিতে কি এদের কাছে আমি হেরে যাব নাকি?
এই দেশকে নিয়ে, এই দেশের মানুষকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে। আরেকজনকে স্বপ্ন দেখাতে খুব ইচ্ছে করে। কিন্তু এইসব আবার সামনে পড়লে তখন মাথা সম্পূর্ণ বিগড়ে যায়। তবুও এদেশের মানুষ স্বপ্ন দেখে। স্বপ্ন দেখে সুন্দর একটি দিনের।
কিছুদিন আগে তরুণদের একটি দল রাজধানীর শাহবাগে একত্রিত হয়ে অনেকদিন পর্যন্ত ইতিহাস চর্চার চেষ্টা করেছিল। তারা চেষ্টা করেছিল ইতিহাস চর্চার কাজটা ঐতিহাসিকদের কাছ থেকে নিয়ে নিজেরা নিজেরা সমাধান করতে। কতইনা ভাল হত, যদি তারা ফেলানির ঝুলন্ত লাশের দিকে একবার দৃষ্টি দিত! কতইনা দেশের জন্য ভাল হত যদি তারা হলমার্ক, পদ্মা সেতুর দুর্নীতি নিয়ে কথা বলত!
আমাদের ইতিহাসে অনেক কিছুই আছে। স্বাধিনতার সময় জামায়াতে ইসলামী স্বাধিনতার বিপক্ষে ছিল। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু এমনভাবে দেশ পরিচালনার চেষ্টা করেছিলেন যাতে আমাদের দেশের স্বাধীনতার সূর্য সন্তানরা, যারা মুক্তিযুদ্ধের সময় তার ইশারাতেই জীবন দিতেও দ্বিধা করতোনা, তাদের হাতেই তাকে অত্যন্ত নির্মমভাবে সপরিবারে প্রাণ দিতে হয়। কিছু ভুল সিদ্ধান্তের জন্য দেশের স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানকেও প্রাণ দিতে হয় সেনা অভ্যুত্থানে।
এইসবের কোনটাই মিথ্যে নয়। সবই সত্যি।
কিন্তু আজ যদি কেউ বঙ্গবন্ধুর ভুল সিদ্ধান্তসমুহের জয় তার বিচার দাবি করে তাহলে দেশের উন্নয়নে তা কি বিঘ্ন ঘটানো ছাড়া আর কিছু করতে পারবে? পারবে না।
কেউ যদি জিয়াউর রহমানের ভূল সিদ্ধান্তের জন্য কবর থেকে তুলে তার শাস্তির ব্যবস্থা করে তাতেও কি দেশের মানুষের কিছু আসবে যাবে?
অভুক্ত কোন মানুষ খেতে পাবে?
কোন বেকার চাকরি পাবে?
চিকিৎসার অভাবে যে মানুষটি আজ মারা যাচ্ছে, সেকি জীবন ফিরে পাবে?
না। না। না। কোনটিই না।
তাহলে কেন আমরা পরস্পরের দোষ ত্রুটি ভুলে গিয়ে, ইতিহাস ঘাটাঘাটি বাদ দিয়ে দেশের সমৃদ্ধির স্বার্থে, উন্নয়নের স্বার্থে একত্রিত হচ্ছিনা?
আমাদের দেশের কথাতো আমাদেরই ভাবতে হবে। আমাদের এই দেশেই থাকতে হবে। তাই এই দেশকে নিয়ে ভাবতে হবে আমাদেরই।
এখন দিন এসেছে সব ভুলে এই দেশের জন্য, এই দেশের মানুষের জন্য, অনাগত প্রজন্মের জন্য সব হাতকে একত্রিত করার। হাতে হাত রেখে বিশ্বকে দেখিয়ে দেয়ার, আমরাও পারি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




