বাবা দিবসে, মা কেন বাদ যাবেন!! শুধু বাবা দিবস বা মা দিবস বলে আমার কাছে কিছুই নেই। আমার সব দিনই বাবা দিবস, মা দিবস। আমার রব আমাকে শিখিয়ে দিয়েছেন, কিভাবে প্রতিদিন তাদের জন্য দোয়া করতে হবে, নির্দেশ দিয়েছেন তাদের সাথে সব্দব্যহার করতে, বৃদ্ধ বয়সে তাদের প্রতি সেবা-যত্ন করতে। এটা শুধু নির্দিষ্ট কোন দিনের জন্য নয়। তার শিখিয়ে দেয়া দোয়া আমি প্রতিদিন করার চেষ্টা করি। “রাব্বির হাম হুমা কামা রাব্বায়ানির ছগিরা”। বাংলায়“ হে আমার রব! তারা যেভাবে শৈশবে আমাকে লালন-পালন করেছেন তেমনি আপনি তাদের প্রতি রহমতের আচরণ করেন।”। একটা সময়ই ছিল যখন আমি রাতে বাড়িতে আসতে দেরি হত, বাবা আমাকে কল দিয়ে বলতেন কোথায় আছি, এখনও বাসায় আসছি না কেন, খাবার যে ঠাণ্ডা হয়ে যাসছে! দিন কাল ভাল না তাড়াতাড়ি বাসায় চলে আয়। বাংলালিংকের অ্যাডের মত দিন কি সব সময় একই থাকেরে বোকা! দিন ও বদলায়। আমার ও তাই, আমি এখন বাবাকে কল দিই, আব্বু তুমি কোথায়? এশার নামাযের জামাত তো অনেক আগে শেষ! তুমি এখনও আসছ না! বাবার বয়স বেড়েছে, সে সাথে নানাবিধ শাররিক জটিলতা উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হাঁটার সমস্যা ইত্যাদি। বাবার সেই যুবক বয়সে আমার জন্য তার উদ্ধেগ, ভালবাসা, আদর-যত্ন, ক্রমেই আমাকে সংক্রমিত করছে। বাবার ভূমিকায় ক্রমেই আমাকে অবতীর্ণ হতে হচ্ছে। এই মাসের শুরুতে মা আমাকে ফোনে কান্নাজড়িত কন্ঠে বললেন তোর আব্বুকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছি। নিশ্চয় গুরুতর কিছু। তৎক্ষণাৎ আমার কাছে মনে হল আমি একটা বট বৃক্ষের ছায়ার নিচে বসে আছি। কেউ একজন সেই বট বৃক্ষ উপড়ে পেলে দেয়ার চেষ্টা করছে। আমার কাছে মনে হল এই দু জন আমার কাছে আল্লার পক্ষ থেকে এক বিরাট নিয়ামত, যাদের দোয়ার বরকতে আল্লাহ আমাকে অনেক নিরাপদ ও বিপদ-আপদ থেকে হেফাজত করেন। আল্লাহ দু জন কে সুস্থ রাখুক আর সুস্থ দেহে তার এবাদত করতে পারেন, সেই তাওফিক দান করুন। আমিন।

সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে জুন, ২০১৬ রাত ১:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



