শরৎচন্দ্রের চরিত্র হীন গল্পে ভালোবাসার বর্ননা এভাবেই দেওয়া আছে.......
নারীর বাল্যরুপ যদি বা মানুষকে আকৃষ্ট করে তাকে মাতাল করেনা। আবার যেদিন তার সন্তান ধারনের বয়স পার হয়ে যায় তখন ও ঠিক তাই। শুধু নারী নয় পুরুষের ও এই দশা। ততক্ষন তার রুপ যৌবন যতক্ষন সে সৃষ্টি করতে পারে। এই সৃষ্টি করার ইচ্ছাই তার প্রেম।
এই বিশ্বের প্রতিটি অনু পরমানু আপনাকে সৃষ্টি করতে চায়, কেমন করে সে নিজেকে বিকাশ করবে, কোথায় গেলে, কার সজ্ঞে মিশলে সে আর সবল আরো সুন্দর আরো উন্নত হবে, এই তার অক্লান্ত উদ্যম। দৃশ্যে অদৃশ্যে অন্তরে বাহিরে প্রকৃতির তাই এই নিত্য পরিবর্তন এবং এই জন্যই নারীর মধ্যে পুরুষ যখন এমন কিছু দেখতে পায়, জ্ঞানে হোক অজ্ঞানে হোক যেখানে সে আপনাকে আরো সুন্দর আরো স্বার্থক করে তুলতে পারবে, সে লোভ সে কোনমতেই থামাতে পারেনা। তুমি হয়তো ভাবছো তাহলে তো চারদিকে মারামারি কাটাকাটি লেগে যেত। মাঝে মাঝে যায় বৈকি। মানুষের লোভ দমন করার শক্তি, স্বার্থ ত্যাগের শক্তি, সমাজের শাসন শক্তি এতগুলো বিরুদ্ধ শক্তি আছে বলেই চর্তুদিকে একসাথে আগুন লেগে যায়না। রুপের আর্কষনে সেই দুর্দান্ত প্রবৃত্তির তাড়নাই প্রেম।
যে ভালোবাসতে পারে সেই কেবল সু্ন্দর অসুন্দর সব ভালোবাসাতেই নিজেকে ডুবিয়ে দিতে পারে, অপরে পারে না।
শিশু ভুমিষ্ট হবার পর থেকে যতদিন না তার জড় দেহটার মধ্যে সৃষ্টি শক্তি সষ্ণয় করতে না পারে ততদিন প্রেমে সিংহাসন তার সম্মুখে বন্ধই থাকে। সে সিংহদ্বার সে প্রবৃত্তির তাড়নাই এড়িয়ে যায়, তার পূর্বে সে তার বাপ-মা ভাই বোনকে ভালোবাসে বন্দু বান্দবকে ও ভালোবাসে, কিন্তু তার পঞ্চভুতের দেহটা বড় হওয়া পযর্ন্ত স্বর্গীয় প্রমের সংবাদ রাখার অধিকার তার জন্মায় না। ততদিন পযর্ন্ত স্বর্গীয় আকর্ষন তাকে মাতাল করতে পারেনা, একতিলও নড়াতে পারেনা।
পৃথিবীর আকর্ষন তো চিরদিনই আছে, কিন্তু সে আকর্ষনে আত্নসমর্পন করতে গাছের পাঁকা ফলটি পারে, কাচাঁয় পারেনা। তার আশঁ শাঁস পৃথিবীর রসেই পাকে স্বর্গের রসে না। সুন্দর ফুল রুপ দিয়ে গন্ধ দিয়ে মধু দিয়ে মৌমাছিকে টেনে এনে ফলে পরিনত হয়, আবার ঠিক সময়ে মাটিতে পড়ে অঙ্কুরে পরিনত হয়, এই তার প্রকৃতি, এই তার প্রবৃত্তি, এই তার স্বর্গীয় প্রেম।
পৃথিবীতে পবিত্র পেম ও ঘৃনিত প্রেম দুটিই আছে, যাকে ঘৃনিত প্রেম বল সেটা আসলে সুবুদ্ধির অভাব, অসাবধানে গাছ থেকে পড়ে হাত পা ভাঙার অপরাধ মধ্যার্কষনের উপর চাপান আর প্রেমকে কুৎসিত ঘৃনিত বলা সমান কথা।
ছাদের কোনে বসে থাকতে থাকতে যদি তোমার মাথায় গাছও জন্মায় তবু তুমি কালিদাসের মত একটা মেঘদূত লিখতে পারবেনা, মেঘ দেখে তোমার ঝড় জলের আশংকা হবে, সর্দি লাগার ভয়ে তুমি ব্যাকুল হবে, বিরহীর দুঃখে আকুল হবেনা।
♥♡♥♡♥♡♥♡♥♡♥♡♥♡♥♡♥♡♥♡♥♡♥♡♥♡♥♡♥♡♥♡♥♡♥♡♥♡♥♡♥♡♥♡♥♡♥♡♥♡♥♡
সকালবেলা পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠে আধাঁরের রাজ্যের সমাপ্তি ঘটিয়ে আলোকিত করে চারপাশ। ঘোর অনামিশাকে কাটিয়ে পৃথিবী জেগে উঠে প্রান চঞ্চলতা নিয়ে। পৃথিবীর সকল সৃষ্টি ফিরে পায় তাদের জীবন ছন্দ। কিন্তু আমার মনের অনামিশাতো কাটেনা, কারন প্রতিটা সকালে তো সেখানে তোমার আলো পৌঁছায়না। আর তাইতো সেখানে মেতে উঠেনা জীবনের উৎসব।
দখিনা হাওয়া অনেকের মনকে করে দিয়ে যায় এলোমেলো, দখিনা হাওয়ার স্পর্শ পেয়ে পৃথিবীতে নেমে আসে বসন্ত। ফুল ও সুরভীতে ভরে উঠে আমাদের শ্যামল এই পৃথিবী। কিন্তু আমার মনে তো বসন্ত আসেনা, কারন দখিনা ঐ বাতাসে তোমার তো কোন ঘ্রান নেই।
সবুজ শ্যামল এই পৃথিবী যখন সূর্যের অতি প্রখর তাপে ফেটে চৌচির হয়ে যায় তখন বৃষ্টি এসে মিটিয়ে যায় তার অনাদি কালের তৃষ্না। সিক্ত করে দিয়ে যায় তাকে। ভিজিয়ে যায় মাঠ ঘাঠ প্রান্তর। কই, এই বৃষ্টি তো আমার মনকে ভিজাতে পারেনা। কারন এই জলে তো তোমার ছোঁয়া নেই।
তোমার ভিতরে যে মনটা আছে, আমি তাকে আমার ভালোবাসা দিয়ে তিল তিল করে আমার মত করে গড়ে নিতে চাই। আমি চাই আমার ভালোবাসার প্লাবনে তোমাকে ভাসিয়ে দিতে, তোমার মনের সমুদ্রে উঠাতে চাই ভালোবাসার মহা প্রলয়। যে প্রলয়ে তোমার ভিতরের সব আধাঁর, হিংসা, লোভ, ঘৃনা অহমিকাকে ভেঙে চুরে তৈরি করবে নুতন এক তোমায়। যে মানুষটার শরীরের সমস্ত রক্ত বিন্দু বহন করবে আমার ভালোবাসা। যার ডি,এন,এ এর প্রতিটা পরতে পরতে থাকবে আমার ছবি।
প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে আমি যে মুখ দেখব সে মুখে থাকবে পবিত্র ভালোবাসার প্রতিচ্ছবি। যার বুকে মুখ লুকিয়ে আমি পাব স্বর্গের অনুভুতি। যার ভালোবাসা দিয়ে এই শুন্য আমাকে পুর্ন্য করে দিবে।
পারবে কি? আমার বুকের কোনে লুকিয়ে থাকা কষ্ট গুলোকে তোমার আদর-ভালোবাসা মাখা উষ্ণ সর্প্শ দিয়ে পুড়িয়ে দিতে?
আমার দুচোখের শুন্যতাকে তোমার ভালোবাসার স্বপ্নে পূর্ন্য করে দিতে? পারবেনা?
হে আমার দেবী,,,
তোমার সত্য সূন্দর পবিত্র ভালোবাসা দিয়ে পারবো আমাকে শুধ্য করে দিতে? পারবেনা?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




