বিল পরিশোধ করতে না পারায় এক মাসের বেশি সময় ধরে ঢাকার সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুই রোগীকে আটকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোগীদের স্বজনদের ভাষ্য, বিল পরিশোধ করার আর্থিক সামর্থ্য নেই তাঁদের। এ কথা জানানোর পরও ওই দুজনকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রেখে বিলের পরিমাণ ক্রমে বাড়ানো হচ্ছে।
হাসপাতালের বিল পরিশোধ করতে না পারায়..
ওই রোগী দুজন হলেন মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার পূর্ব বাস্তা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মতিয়ার রহমানের স্ত্রী রাজবানু (৫০) ও নড়াইল সদর উপজেলার আফরা গ্রামের রিকশাচালক আলাউদ্দিন (৩৫)। তাঁদের স্বজনদের ভাষ্য, মতিয়ার রহমান অন্যের কৃষিজমিতে দিনমজুরের কাজ করেন। গত শুক্রবার পর্যন্ত তাঁদের কাছে চিকিৎসা-ব্যয় বাবদ হাসপাতালের পক্ষ থেকে ৯ লাখ ২৭ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চেয়ারম্যান স্থানীয় সাংসদ এনামুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটি একটি বেসরকারি হাসপাতাল। বিল ১০-১৫ শতাংশের বেশি কমানো সম্ভব নয়। বাকি টাকা তাঁদের জোগাড় করতে হবে।’ স্বজনদের আপত্তি সত্ত্বেও আইসিইউতে রেখে বিল বাড়ানোর অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আপনার এই বক্তব্য ঠিক নয়। এ কথা প্রত্যাহার করেন।
জ্বী এনাম সাহেব, আমরা আপনার সীমাবদ্ধতা বুঝি। বেসরকারি হাসপাতাল খুলছেন,টাকা কামানোর জন্য,দান-ছদকা করার জন্য নয়। কিন্তু এই ছোটোলোকের বাচ্চারা না বুঝে আপনার হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেছে। আপনি একটা কাজ করেন,ওদের একটা করে কিডনি খুলে রেখে দেন।মানুষ একটা কিডনি দিয়ে বাচঁতে পারে। সেই কিডনি বেচার টাকা দিয়ে আপনার হাসপাতালের বিল রেখে দেন।তাতেও যদি না হয় তাহলে একটা করে চোখ খুলে রেখে দিন। দেন।মানুষ একটা চোখ দিয়েও দেখতে পারে । তবুও তাদের আর কষ্ট দিয়েন না।
গত শুক্রবার এনামে গিয়ে আলাউদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ভাই আমাকে ছাড়ার ব্যবস্থা করে দেন। এখানে থাকলে মারা যাব।’ আলাউদ্দিনের স্ত্রী তাসলিমা বেগম বলেন, ‘মাথা গোঁজার মতো একটু জমি ছিল, আড়াই লাখ টাকায় ওই জমি বিক্রি করে স্বামীর চিকিৎসার পেছনে খরচ করেছি। আর কোনো টাকা জোগাড় করার মতো সামর্থ্য আমাদের নেই।’
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই নভেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১২:২১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




