somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইমরান এইচ সরকারকে আনফ্রেন্ড করতে না পারায় মফিজ মিয়ার ঘুম হলো না!!!

১৮ ই এপ্রিল, ২০১৬ বিকাল ৩:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



মফিজ মিয়া ছিলেন একজন পাতি মাস্তান। এলাকার আওয়ামী লীগের নেতাদের সাথে ওঠাবসা করে তিনি এখন উঠতি নেতার কাতারে চলে এসেছেন।তাকে তার শুভাকাংখি বন্ধুরা উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের কাছাকাছি আসার জন্য ফেসবুকে একাউন্ট খোলার পরামর্শ দিলো ।তার সহকারী গিট্টু মিয়া অত্যন্ত এক্সপার্ট।সে মফিজ মিয়ার নামে একাউন্ট খুলে বড় বড় নেতাদের আইডিতে ফ্রেন্ড রিকোওয়েষ্ট পাঠিয়ে ফ্রেন্ড করে দিলো। এছাড়া কিছু সেলিব্রেটি নেতাদের পেইজে লাইক দিয়ে একটিভ করে দিলো।২/৪ দিন যাওয়ার পর মফিজ মিয়া দেখলেন,ফেসবুকিং আসলেই সোজা।তখন তিনি নিজেই ফেসবুকিং করা শুরু করলেন।তিনি ডেইলি ৮/১০ ঘন্টা ফেসবুকে সময় দিয়ে নেতাদের কাছে আসার চেষ্টা করতে লাগলেন। নিজের দলের নেতারা মুখ দিয়ে ফুস করলেও সেটা লাইক দিয়ে প্রশংসাসুচক কমেন্ট করলেই নেতারা খুব খুশী হয়।আর টাইমলাইনে আওয়ামী বিরোধী কোনো লেখা আসলে, পাকী জারজ,রাজাকারের বীর্য,ছাগু ইত্যাদি গালাগালি করে কমেন্ট করে তার ফেসবুকিং ভালোই চলছিলো।

কিন্তু সমস্যা হয়েছে গতকাল রাতে। গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় সাংবাদিক শফিক রেহমানের পক্ষ নেয়ায় গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকারের সমালোচনা করে তাকে ফেসবুকে আনফ্রেন্ড করার আহবান জানিয়েছেন।
ইমরান এইচ সরকারকে ফেসবুকে আনফ্রেন্ড করুন: জয়

তিনি সাথে সাথে ডা. ইমরান এইচ সরকারের ফেসবুক পেইজে ঢুকলেন।এতদিন তিনি জানতেন,ইমরান তাদের নিজেদেরই লোক,তাই তার সমর্থন করতেন।আজকে যেহেতু তথ্য প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন 'হয়তো বিএনপি তাকে পয়সা দিয়েছে। কে জানে। যেভাবেই হোক, আমি তার প্রতি সব শ্রদ্ধা হারিয়েছি।'
আজকে ওর একদিন কি মফিজ মিয়ার একদিন।প্রথমে ঢুকেই কিছু স্বভাব সুলভ গালাগালি করলেন।তারপর খুজলেন কিভাবে আনফ্রেন্ড করা যায়।কিন্তু কোনো ভাবেই অপশনটা খুজে পাচ্ছিলেন না।এদিকে তার সহকারী গিট্টু মিয়া বিয়ে করার জন্য বাড়ীতে গেছে।তাকে ফোন দিলেন।
সে ফোনে বুঝিয়ে বললো, আসলে তথ্য প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় সাহেব হয়তো আনলাইক করতে বলতে গিয়ে আনফ্রেন্ড করতে বলছেন।কারন ফেইসবুক সাধারনত তিন ধরনের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যায় :
১. আইডি : ফেইসবুক আইডি হলো ব্যাক্তিগত , যা কোনো ব্যাক্তির নাম সাধারণত খুলে থাকে !
২. পেজ : এটাও ব্যাক্তিগত বা কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম হয়ে থাকে !
৩. গ্রুপ : এটা সাধারনত কোনো প্রতিষ্ঠানের নামে বা সংগঠনের নামে হয়ে থাকে !
এই তিন ধরনের মধ্যে কেবল মাত্র আইডিতে ফ্রেন্ড আনফ্রেন্ড অপশন আছে !
যেহেতু ডা. ইমরান এইচ সরকারের ফেসবুক পেইজ।সুতরাং এটা আনফ্রেন্ড করা যাবে না।আনলাইক করতে হবে।'

গিট্টু মিয়ার কথা শুনে মফিজ মিয়ার মেজাজ চরমে উঠে গেলো।সেও মনে হয় বিএনপির টাকা খাইছে।তাই এত বড় কম্পিউটার বিজ্ঞানীর ভুল ধরে।তাকে কিছু গালাগালি করে ফোন কেটে দিলেন।
মফিজ মিয়া আবারো নিজে নিজে আনফ্রেন্ড করতে চেষ্টা করতে লাগলেন।কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছে না।এমনিতেই গরম,তার উপর টেনশনে আরো ঘামাতে লাগলেন।মাঝে মাঝে তন্দ্রার মত আসলে,স্বপ্নে নেতা চলে আসেন এবং জিজ্ঞাসা করেন কি রে মফিজ আনফ্রেন্ড করছিস?্তখন তন্দ্রা ছুটে যায়।আবারো মোবাইল হাতে নিয়ে চেষ্টা করেন।নাহ কোনো ভাবেই হয় না।

মফিজ মিয়ার এই বিপদ থেকে উদ্ধারের কোনো উপায় কি কেউ জানেন? কিভাবে ফেসবুক পেজ থেকে আনফ্রেন্ড করতে হয়?
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই এপ্রিল, ২০১৬ বিকাল ৩:৪৯
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"বহু দিন পর বন্ধু"

লিখেছেন সনজিত, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


বহু বছর পর হঠাৎ তোর সঙ্গে দেখা।
প্রথমে চিনতেই পারিনি।
তারপর একচিলতে হাসি-
মনে হলো,
সময় আমাদের চেহারা বদলেছে,
কিন্তু শৈশবের মুখটা এখনো একই রয়ে গেছে।

চোখের কোণে ক্লান্তির রেখা,
চুল অর্ধেকটা সাদা রং,
কাঁধে সংসার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিছু খাতের চাকুরী বেতন-ভাতামুক্ত ঘোষণা করা যেতে পারে

লিখেছেন এমএলজি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৮

এক সমীক্ষায় জানা যায়, বাংলাদেশে সরকারি চাকুরেদের প্রায় ৯১ শতাংশ ঘুষ গ্রহণ করে। এছাড়া, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অনেকেও মনে করেন বাংলাদেশে দুর্নীতি নির্মূল সম্ভব নয়; যার অর্থ দাঁড়ায়, দুর্নীতিকে আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×