আকমল হোসেন নিপু
সূচনাপর্ব-১
তখন তুমিও ছিলে; মনে করো সূচনাসকাল
তারপর পথে পথে ঘোরা: কাঙাল হয়েছি একা
ঘাস, মাটি তোমাদের সজল উদ্যানে...
আমাকে ফেলে রেখে একে একে সকলই গেছে
বাঁশি ও ভাঙা গৃহ থেকে দূরে এইতো
তোমাদের উজ্জ্বল মুখ, চোখ, আর রঙিন
বাড়ির নিচে বর্ণময় আলোকনিবাস
মনে করো, আমি আজ বহুদূর ভাসমান খড়কুটো
অনন্ত রাত্রির নিচে শয্যা পেতেছি
ভয় নেই, মানুষের কাছাকাছি হেঁটেছি অনেক
আর মানুষের অন্তর্গত ক্ষুদ্রতায় কেঁদেছি গাঢ়বন, পাতা
তুমি কি অসাধারণ ভুলে যাও নিজেরই গোপন, সূচনাপর্ব
সেই তুমি নিজেরই ক্ষুদ্রতা ধারণ করো, পাতাবাহার, রামধনু
যা কিছু সামাজিক, রাঢ় বাস্তবতা: নদী আজ মৃত।
সূচনাপর্ব-২
প্রথমে আবেগ ছিল: আমরা তাঁত বুনতাম
রেশমি সূতোর, আর ঝাউয়ের পাতার মতো
নিবিড় বুনোঘাসে বহুবছরের তাপ
ঢেলেছি: তুমি ছিলে পক্ক ফলের ঘ্রাণমথিত
তখন পাশ কেটে একে একে কুমারী মেয়েরা
গেছে, ধান তুলেছে যারা ছিল ক্ষেতের প্রভু
তারপর পাখি হয়ে গেছে শব্দসকল, বহুবছরের ঘাম।
সূচনাপর্ব-৩
বালিকা কি চেয়েছো, আনন্দ ভাটিয়ালি
নাকি প্রজাপতি মেঘ, অনেক দিনের শেষে কুয়াশা
কেটেছে তার; পাতালে নামতে হবে, তাই
বুঝি সঞ্চয়ের ঘোর, নকশীকাঁথা; এখন নদীর
মৈথুনে জাগে চর, জাগেনাতো ঢেউ, রোমাঞ্চ পালক
বুঝিনাতো জয়-পরাজয়, ঘোড়দৌড়, মাঝনদী, অংককষা
বালিকা বোঝেছো অনেক! নাকি সমাজই প্রধানÑ
অন্নবস্ত্র দায় নেই যার! কে কাকে শাসন করে
জানিনাতো, কেবল সূর্যাস্তে বেলার ইতি, রাত্রিধূসরতা।
সূচনাপর্ব-৪
তখন আনন্দ ছিল রাশি রাশি পাতার বাঁশি
তুমি ছিলে বিভোর কোরাস; বহুবছরের ঘোরে
আমরা বয়ন করেছি ঘাসপাতা, গৃহ, আর
দোকানে দোকানে ঘুরে চেয়েছি ব্যতিক্রম
তখন তোমার ছিল প্রথাবিরোধীতা
আজ বহুবছর পর অনেকখানি বদলে গিয়েছে
সবাই: ঝাউয়ের পাতার নিচে তোমারও দ্বিধা
তখন নদীর কাছে কি থাকে প্রার্থনার, ভাঙনই মূখ্য
যখন সরে যায় বাড়ি, প্রতিবেশী ঘর!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


