somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পরাধীনতার শিকল ভাঙতে হলে দেশে সৎ ও যোগ্য লোকবল গড়ে তোলার বিকল্প নাই

২৭ শে ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ১২:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

Divide and Rule- ভাগ কর, শাসন কর। ব্রিটিশদের এই নীতি খুবই পরীক্ষিত। গোটা দুনিয়ায় চলছে এই খেলা। ইরাক থেকে কুয়েত আলাদা কর্‌ সুদান থেকে দক্ষিন সুদান আলাদা কর, লিবিয়া আর সিরিয়া কয় টুকরো হবে কে জানে ? অনেক আগে তুরস্কের খেলাফত ভাঙ্গনের সময় ৌদি আরবের উত্তোরে আরেকটি ছোট বাফার রাষ্ট্র তইরি করতে চেয়েছিল ব্রিটিশ শক্তি। এতে বড়ই সুবিধা, এসব রাষ্ট্র গুলিকে বিভিন্ন সুখ স্বপ্নে নিমজ্জিত করে তার বিনিময়ে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করা যায়।

তবে, বর্তমানে, কোন দেশ-কে শাসন করার আরেক নতুন তরীকা বের হয়েছে, তা হোল ঐ দেশ-কে শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্ক্ৃতি এর আঙ্গনে দুর্বল করে রাখা। দেশের শিক্ষার ও দক্ষতার মেরুদন্ড ভেঙ্গে দিলে ঐ জাতি সহজেই পরাশ্রিত হয়ে যায়। দুর্বল ঐ জাতিকে শাসন ও শোষন করা খুবই সহজ।

এজন্য দেখা যায়, টাকা পইয়সা দেদার দেওয়া হচ্ছে, রাস্তা-ঘাট উন্নত করে দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু শিক্ষার ব্যবস্থা গুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। সাম্রাজ্যবাদী শক্তি গুলোর ইচ্ছাই যে, অন্য কেউ মাথা তুলে দাড়াতে যেন না পারে। কাজেই মাথা তুলে দাড়ানোর ব্যবস্থা নষ্ট করে দেওয়া হয়। এটা সাধারন জনগন বুঝতে পারে কমই। কিন্তু ৩০-৪০ বছরের ব্যবধানে একটা পার্থক্য ধরা পড়ে।

শিক্ষা আর বিজ্ঞানের জগতে একটা জাতি পিছিয়ে থাকা মানে সে জাতি চিরদিন অন্য কোন জাতি ( যে শিক্ষা আর বিজ্ঞানে লিডার) র কাছে মুখাপেক্ষী হয়ে থাকবে। কারন, এ সময়ে ্টেকনোলোজি আর বিজ্ঞান ছাড়া জগত প্রায় অচল। এ লক্ষ্যেই, বড় সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো অন্য দরিদ্র দেশে দক্ষ ও শিক্ষিত জনবল তইরি হোক- এটা চায় না। একটা দেশ শিক্ষা ও বিজ্ঞানে যতই পিছিয়ে ্থাকবে, তাকে নাগপাশে পাওয়া ও শাসন করা ততই সহজ হবে।

আজ আমাদের এ দেশের ভাল ছেলেরা বিদেশ (জাপান, আমেরিকা, জার্মান, কানাডায়) গিয়ে তাদের মেধা ব্যবহার করছে। এদেশ তার নিজের ছেলেদের রাখতে পারছে না। বিজ্ঞান ও টেকনোলোজির ক্ষেত্রে আমাদের দক্ষ লোক ৈরি হচ্ছে না, যা-ও বা হচ্ছে তারা দেশের বাইরে বিকোচ্ছে।

দেশের বড় কোন শিল্প ও আধুনিক টেক গড়ে উঠছে না। সফটোয়ার, টেলিকম ইত্যাদি ক্ষেত্রে আমাদের সম্ভাবনা নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, অথচ এ সেবাগুলি অত্যাবশ্যকীয়। এ শিল্প গুলি পার্শবর্তী ভারতে স্থানান্তরিত হয়েছে। সফটোয়ার, টেলিকম শিল্পে আজ হাহাকার। আমাদের কী এই সেবাগুলি দরকার নেই? হ্যা আছে বটে। তবে এ জন্য আজ আমাদের বাইরের কোন দেশের দ্বারস্থ হতে হবে। আমাদের দেশের নীতি নির্ধারক মহলের অসততা ও ওদাসিন্য এ জন্য অনেক দ্বায়ী।

এখন বিদ্যুৎ সেক্টরেও পার্শবর্তী সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বড় নযর পড়েছে। বিদ্যুতের মত জাতীয় সেবা খাতে তারা সরাসরি দেখভাল ও মেইটেন্যান্স করতে চায়। অথচ, আমাদের সুযোগ আছে, নিজেদের দক্ষ জনবল তইরি করে তাদের দ্বারাই নিজেদের সম্পদের রক্ষনাবেক্ষন করা। এ ব্যাপারেও নিজেদের কোমর শক্ত না করলে সফটোয়ার, টেলিকম শিল্পের মত দশা হবে। কাজেই এ ব্যাপারে এ দেশের নিজস্ব সম্ভাবনা হেলায় হারানো যাবে না।

নিজের কোমর শক্ত করতে হবে। বাইরের দেশগুলি চাবে, আমরা যেন নিজের পায়ে দারাতে না পারি। তাইলে সারা জীবন তাদের গোলামী করতে হবে। বাইরে থেকে লোন নিতে গেলেও তাদের গোলামী করতে হয়। জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনায় আমরা পিছিয়ে থাকলে, অন্য অগ্রসরমান জাতিগুলির গোলামী থেকে কোনদিনই বের হতে পারব না। আর অন্য জাতিগুলির উদ্দেশ্য-ও তাই- আমরা যেন পিছিয়ে থাকি।

এজন্য পরাধীনতার শিকল ভাঙতে হলে দেশে সৎ ও যোগ্য লোকবল গড়ে তোলার বিকল্প নাই
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ১২:০২
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীর ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৭


আজ দেশজুড়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালিত হচ্ছে। ২৪ -এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিভ্ন্নি সময়ে বহু নিরীহ প্রাণ অকালে ঝরেছে। আবু সাঈদ, মুগ্ধ ছাড়াও নাম জানা-অজানা হাজারো ব্যাক্তি তাদের প্রাণ হারিয়েছেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

তেহরানের ছায়া কি এখন ঢাকা সেনানিবাসে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:০১


সোমবার সকালে জলসিঁড়িতে একটা অনুষ্ঠান হলো। ফিতা কাটা, ফুলের তোড়া, বক্তৃতা, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ, স্বাভাবিক একটা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যা যা থাকে সবই ছিল। সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান নিজে হাজির, পাশে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাতিঘর (Lighthouse)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:৪৬



বাতিঘর নিয়ে সেই ছোট্টবেলা থেকেই আমার অনেক কৌতুহল ছিল। কেন ঐ বয়সেই বাতিঘর নিয়ে আমার এতটা আগ্রহ ছিল, তার কারণ আজও খুঁজে পাই না। অথচ আমি নিজ চোখে কোন বাতিঘর... ...বাকিটুকু পড়ুন

"‘৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে’- একটি বক্তব্যের রাজনৈতিক পাঠ"

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯



"‘৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে’- একটি বক্তব্যের রাজনৈতিক পাঠ"

"৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে। শেখ হাসিনার প্রয়োজন ছিল বিশ্রাম। আওয়ামী লীগের দরকার ছিল শুদ্ধিকরণ। অন্যান্য দলগুলোরও... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে বিষয়ে মজিবর ও হাসিনা এক বিন্দুও ভুল করেনি!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


বাংলাদেশের ইতিহাসে মজিবরের শেষ শাসন কাল ও হাসিনার শেষ শাসন কাল দুটি ভিন্ন সময়ে হলেও গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত মিল বহন করে। নির্বাচনী বৈধতার নিরিখে ১৯৭৩ সালের নির্বাচনের সংগে ২০১৪, ২০১৮... ...বাকিটুকু পড়ুন

×