somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কসরের নামায নিয়মাবলী

২৫ শে মার্চ, ২০১৫ রাত ৮:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কসরের নামায নিয়মাবলী
কসর
কসর আরবি শব্দ। এর অর্থ হলো কম করা, কমানো, সংক্ষিপ্তকরণ। মুসাফির অবস্থায় যোহর, আসর এবং এশার নামায ফরয চার রাকা’আতের স্থলে দুই রাকা’আত পড়া। একাকী নামায পড়লে কিংবা স্বয়ং কোন নামাযের ঈমামতি করলেও দুই রাকা’আত পড়তে হবে। কসর অর্থ হচ্ছে চার রাকা’আত বিশিষ্ট যোহর আসর ও এশার নামায দুই রাকা’আত পড়া।
কসরের ব্যাপারে কুরআন মজীদে দুটি সূরায় আলোচনা হয়েছে। একটি হলো সূরা আল বাকারা : ২৩৮ ও ২৩৯ আয়াত এবং আরেকটি হলো সূরা আন নিসা : ১০১ ও ১০২ আয়াত । এখানে উভয় সূরার আয়াতগুলো উল্লেখ করা হলো :
১. সমস্ত নামাযকে হিফাযত করো, বিশেষ করে মধ্যম নামাযকে। আর আল্লাহর উদ্দেশ্যে বিনয় সহকারে দাঁড়াও। তবে অশান্তি ও গোলযোগের আশংকা থাকলে পায়ে হেঁটে অথবা বাহনে চড়ে যেভাবেই সম্ভব নামায পড়ো। আর নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি হয়ে গেলো আল্লাহকে সেই পদ্ধতিতে স্মরণ করো (নামায পড়ো), যা তিনি তোমাদের শিক্ষা দিয়েছেন-ইতিপূর্বে যা তোমাদের অজ্ঞাত ছিলো। (বাকারা : ২৩৮-২৩৯)
২.আর যখন তোমরা সফরে বের হও, তখন নামায সংক্ষেপ করো নিলে কোনো ক্ষতি নেই। (বিশেষ করে) যখন তোমাদের আশংকা হয় যে, কাফিররা তোমাদের কষ্ট দেবে। কারণ তারা প্রকাশ্যে তোমাদের শত্রুুতা করার জন্যে উঠে পড়ে লেগেছে। আর হে রাসূল। যখন তুমি মুলমানদের মধ্যে থাকো এবং (যুদ্ধাবস্থা) তাদেরকে নামায পড়াবার জন্যে দাঁড়াও, তখন তাদের মধ্যে একটি দলের তোমার সাথে দাঁড়িয়ে যাওয়া উচিত এবং তারা অস্ত্রশস্ত্র সংগে নেবে। তারপর তারা সেজদা করে নিলে পেছনে চলে যাবে এবং দ্বিতীয় দলটি, যারা এখনো নামায পড়েনি, তারা এসে তোমার সাথে নামায পড়বে। আর তারাও সতর্ক থাকবে এবং নিজেদের অস্ত্র শস্ত্র বহন করবে। কারণ কাফিররা সুযোগের অপেক্ষায় আছে। তোমরা নিজেদের অস্ত্রশস্ত্র ও জিনিস পত্রের দিক থেকে সামান্য গাফিল হলেই তারা তোমাদের উপরে অকস্মাৎ ঝাঁপিয়ে পড়বে। তবে যদি তোমরা বৃষ্টির কালে কষ্ট অনুভব করো, অথবা অসুস্থ থাকো, তাহলে অস্ত্র রেখে দিলে কোনো ক্ষতি নেই। কিন্তু তবুও সতর্ক থাকো। (নিসা : ১০১-১০২)
কসর নামাযের নিয়মাবলী এবং শর্তসমূহ
১) ভ্রমণের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়ে ৪৮ মাইল বা তার বেশি পথ অতিক্রম করলে ।
২) যে স্থানে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সফর করা হবে, সে স্থানে যদি ১৫ দিনের কম থাকার নিয়ত হয়, তাহলে ব্যক্তি গন্তব্যস্থলে পৌঁছে তার নামায কসর করবেন।
৩) আর যদি গন্তব্যস্থলে তার ১৫ দিনের বেশী থাকার নিয়ত হয়, তাহলে সে স্বাভাবিক চার রাকায়াত নামাযই পড়বেন।
৪)কসর নামাযের নিয়ম হলো কেবল চার রাকা’আত বিশিষ্ট ফরয নামায যেমন যোহর, আসর ও এশার নামায ৪ রাকা’আতের পরিবর্তে ২ রাকা’আত পড়া।
৫)মাগরিবের ৩ রাকা’আত ফরয এবং এশার ২ রাকা’আত এর সাথে বিতরটা পড়তে হবে।
৫.কসরের নামাযের ফযিলত
মূলত এই কসর নামাযের বিধানের মধ্যে মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি বড় শিক্ষা রয়েছে আর তা হলো কোনো অবস্থায়ই ফরয ইবাদত অলসতার কারণে বা সমস্যা থাকার কারণে পুরোপুরি ছাড় দেয়ার সুযোগ নেই ।
১.রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, ‘তোমরা সফরে নামাজকে কসর করো, এর মধ্যেই রয়েছে উত্তম প্রতিদান।’( বায়হাকি)
২. হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে কিছুটা দীর্ঘ একটি উদ্ধৃত করেছেন, যার শেষের পবিত্র শব্দাবলী এরূপ-আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে কসর নামায প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করলাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এটি একটি ‘সাদক্বাহ’ যা আল্লাহতায়ালা দান করেছেন। তোমরা এ ‘সাদক্বাহ’ গ্রহণ করো। (সহীহ মুসলিম)
৩.যে ব্যক্তি সফরে চার রাকা’আত (ফরয) পড়ে, সে আল্লাহতায়ালার ‘সাদক্বাহ’থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। আল্লাহ তায়ালার ‘সাদক্বাহ’ কবূল করা এবং সফরে কসর করা ফরয। (তাবরানী ‘মুজামে সাগীর)
৪. হযরত য়ালা ইবনে উমাইয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু এর কাছে আরজ করলাম, আল্লাহপাকতো বলেছেন, যদি তোমরা কাফেরদের পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য কোন রকম ফেতনার আশংকা কর তাহলে নামায কসর করাতে কোন দোশ নাই। এখনতো নিরাপত্তার যুগ (সুতরাং কসর না করা দরকার)। হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, তুমি যে কথায় আশ্চার্যান্বিত হয়েছো আমিও সে ব্যাপারে আশ্চর্য বোধ করেছিলাম এবং রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম উত্তরে তিনি বললেন, এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য একটি ছদকা। তোমরা আল্লাহর ছদকা গ্রহণ কর। (সহীহ মুসলিম)
কসরের নামায কখন পড়বেন
সফরে থাকা অবস্থায় তাড়া থাকলে বা অসুবিধা থাকলে (যোহর+আসর) এবং (মাগরিব + এশা) এই দুই ওয়াক্তের নামায যে কোনো এক ওয়াক্তে এক সাথে পড়া যায়। অর্থাৎ যোহরের ওয়াক্ত হলে যোহর পড়ে আসর নামাযকে এগিয়ে নিয়ে এসে যোহর ও আসর এক সাথে পড়া যায় অথবা, আসরের ওয়াক্তে যোহরকে পিছিয়ে দিয়ে যোহর ও আসর একসাথে পড়া যায়। অনুরূপ করা যায়, মাগরিব ও এশা এই দুই ওয়াক্তের নামায যে কোনো এক ওয়াক্তে একসাথে পড়া যায়। একে নামায “জমা করা” বলে। উল্লেখ্য, নামায এক সাথে পড়ার যে নিয়ম বর্ণনা করা হলো এর বাইরে করা যাবেনা, যেমন ফজর আর যোহর এক সাথে করা যাবেনা।
দলীল জানতে চাইলে, সহীহ আল বুখারী ও সহীহ মুসলিম সালাত অধ্যায়ের নামায কসর ও সংক্ষিপ্ত করার অনুচ্ছেদ দেখুন, সবগুলো হাদীসে এর ব্যাখ্যা পেয়ে যাবেন।
কসরের নামায ঈমামের পিছনে পড়লে
কেহ যদি কোন মুকিমের পিছনে জামায়াতে নামায আদায় করে তাহলে তাকে পুরা নামায আদায় করতে হবে। আর সে যদি স্বয়ং ঈমাম হয় তাহলে মোক্তাদিগকে জানায়ে দিতে হবে যে সে মুসাফির কারণ এই অবস্থায় ঈমাম কসর পড়বে এবং মোক্তাদিগণ পুরা নামায আদায় করবে।
হযরত নাফে (রঃ) থেকে বর্ণিত, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু মক্কা শরীফে দশ রাত অবস্থান করেছিলেন তখন নামায কসর করতেন। কিন্তু যখন ঈমামের পিছনে পড়তেন তখন পূর্ণ পড়তেন। (মুয়াত্তা মালেক)।
নিজেরা কসরের নামায জামায়াতে পড়লে
নিজেরা কসরের নামায জামায়াতে পড়লে দুই রাকা’আত নামায পড়তে হবে।
একাকী কসরের নামায পড়লে
একাকী কসরের নামায পড়লে দুই রাকা’আত পড়তে হবে।
কসরের নামাযের কাযা
কসরের নামায যদি কোন কারনে কাযা হয়ে যায় তাহলে কাযাও সেই নামায কসর পড়তে হবে।

০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেয়ালের ছবি আর বই এর পাতায় আধিপত্য দেখে ! অথচ বন্দর আর কড়িডোরের অসম চুক্তিতে সব শিয়ালের এক রা॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:১২


দেশ বিক্রির পরীক্ষিত ঠিকাদার....



দেয়ালের ছবি দেখলেই ভারতীয় আধিপত্য, আর বন্দর বেচে দিলে নীরবতা কেন?

দেয়ালে একটা ছবি আঁকা দেখলেই যাদের মুখে ফেনা উঠে যায় - "বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কিন সেনা কর্মকর্তা কর্মকর্তার মেজর নিদাল্ল হাসানের মৃত্যুদণ্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



নিদাল হাসান (পুরো নাম: নিদাল মালিক হাসান) হলেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর একজন সাবেক মেজর এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (Psychiatrist)।

২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে সংগঠিত এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×