somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যানবাহনে নামায পড়ার নিয়ম

২৫ শে মার্চ, ২০১৫ রাত ৮:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পূর্বে সফরের জন্য যানবাহন ছিল পশু অথাৎ ঘোড়া, উট, গাধ ইত্যাদি। বর্তমানে সময়ে জন্য হলো বাস, ট্রেন, লঞ্চ ও উড়ো জাহাজ। পূর্বে যেহেতু যানবাহনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামায আদায় কেরেছেন আমাদেরকেও যানবাহনে সে ভাবে নামায আদায় করতে হবে। নামায না পড়ার কোন অবকাশ নেই। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যানবাহনে নামায কি ভাবে পড়েছেন তা নি¤েœ বনর্ণা করা হলো-
১. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রীতি ছিলো যে, তিনি যখন সোয়ারী বা যানবাহনে ভ্রমনরত থাকতেন, তখন বাহনের উপরই নফল নামায পড়তেন। এ সম্পর্কে বুখারী ও মুসলিম সহ অন্যান্য গ্রন্থে ইবনে ওমর, জাবের, আমের প্রমূখ রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকে অনেক হাদীস বর্ণিত হয়েছে। ফরয নামাযের জন্যে যেহেতু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামায়াত কায়েম করতেন আর তখন কার বাহন পশুর পিঠে জামায়াত কায়েম করা সম্ভব ছিলনা, তাই ফরয নামাযের সময় বাহন থেকে নেমে জামায়াত কায়েম করতেন। বাহন যে দিকেই চলতো, ঘুরতো, স্বাভাবিকভাবে তিনি সেদিকে ফিরেই নামায পড়তেন। এ সময় তিনি ইশারায় মাথা নুইয়ে রুকূ সেজদা করতেন। তবে রুকূর চাইতে সেজদায় মাথা বেশি নোয়াতেন।
২. হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সওয়ারীর উপর নামায পড়ার ইচ্ছা করতেন তখন তাকে কেবলা মুখী করে নিতেন। নিয়ত বাঁধার পর সওয়ারী যে দিকে যেতে চাইত যেতে দিতেন এবং নিজে নামায পড়ে নিতেন। (আবু দাউদ)।
৩. হযরত মালেক ইবনে হুয়াইরিছ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, দুই ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে যাচ্ছিলেন তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বললেন, যখন নামাযের সময় হবে তখন আযান দিবে এবং তোমাদের মধ্যে যে বড় সে নামায পড়াবে। (সহীহ আল বোখারী)
৪. আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে একটি বর্ণনা উদ্ধৃতি হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, তাকবীরে তাহরীমার সময় তিনি বাহনকে কিবলামুখী করে নিতেন। তারপর বাকি নামায বাহন যেদিকে যেতো সেদিকে ফিরেই পড়তেন। (মুসনাদে আহম এবং আবু দাউদ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাহনে নামায পড়ার বিষয়ে অন্য যারা বর্ণনা করেছেন তাদের সকলের বর্ণনার মধ্যে মিল আছে। তাঁরা সকলেই বলেছেন : রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাহনে নামায পড়েছেন এবং বাহন যে মুখী হতো, তিনিও সে মুখীই নামায পড়তেন।” এসব বর্ণনায় তারা এমন কোনো কথা উল্লেখ করেননি যে, তাকবীরে তাহরীমার সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাহনকে কিবলামুখী করে নিতেন। এসব হাদীস বর্ণনা করেছেন আমের ইবনে রাবীয়া, আবদুল্লাহ ইবনে ওমর, জাবের ইবনে আবদল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুম। এই হাদীসগুলো আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত উক্ত হাদীস থেকে অধিকতর সহীহ-শুদ্ধ।
৫. বৃষ্টির সময় এবং কাদামাটির স্থানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবিগণকে সাথে নিয়ে ফরয নামাও যানবাহনে পড়েছেন। অবশ্য এ বিষয়ে একাধিক সূত্রের বর্ণনা নেই। কেবল একজন সাহাবিই এ সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন। এই হাদীসটি মুসনাদে আহমদ, জামে আত তিরমিযি ও নাসায়ীদে বর্ণিত হয়েছে। হাদীসটি হলো : একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবিগণকে নিয়ে একটি অপ্রশস্ত জায়গায় উপনীত হন। সেখানে তাঁদের উপর থেকে বৃষ্টি হচ্ছিল আর নিচে ছিলো কাদামাটি। এমন সময় নামাযের ওয়াক্ত হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নির্দেশে মুয়াযযিন আযান এবং একামত দিলো। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের বাহনে করে সবার সামনে চলে গেলেন এবং ঈমাম হিসেবে সাহাবিগণকে সাথে নিয়ে নামায পড়েন। তাঁরা সবাই নিজ নিজ বাহন থেকে নামায পড়েন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইশারায় রুকূ-সেজদা করেন। তবে রুকূর চাইতে সেজদায় মাথা অধিকতর নিচু করেন।” ঈমাম তিরমিযি বলেছেন হাদীসটি গরীব। অর্থাৎ এক পর্যায়ে হাদীসটির বর্ণনাকারী মাত্র একজন ছিলেন। এক পর্যায়ে উমর ইবনে ডিরমাহ একাই হাদীসটির বর্ণনা করেছেন। অবশ্য হযরত আনাস বাহনে ফরয নামায পড়েছেন বলে প্রমাণ আছে। হাদীসটি একক সূত্রে বর্ণিত হলেও যুক্তিগসংগত। কারণ, বাহন থেকে নেমে জমীনে জামায়াত কায়েম করার ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিলে বাহনে নামায পড়াটাই যুক্তিসংগত। আধুনিক কালে যানবাহনের ক্ষেত্রে হাদীসটি খুবই প্রযোজ্য ।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেয়ালের ছবি আর বই এর পাতায় আধিপত্য দেখে ! অথচ বন্দর আর কড়িডোরের অসম চুক্তিতে সব শিয়ালের এক রা॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:১২


দেশ বিক্রির পরীক্ষিত ঠিকাদার....



দেয়ালের ছবি দেখলেই ভারতীয় আধিপত্য, আর বন্দর বেচে দিলে নীরবতা কেন?

দেয়ালে একটা ছবি আঁকা দেখলেই যাদের মুখে ফেনা উঠে যায় - "বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কিন সেনা কর্মকর্তা কর্মকর্তার মেজর নিদাল্ল হাসানের মৃত্যুদণ্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



নিদাল হাসান (পুরো নাম: নিদাল মালিক হাসান) হলেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর একজন সাবেক মেজর এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (Psychiatrist)।

২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে সংগঠিত এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×