একটা চৌকোণ দালান।
কাঠ-ফাটা রোদের দুপুর। শুনশান। বিদ্ঘুটে পরিবেশ। যেদিকে দু'চোখ যায় কোথাও কোন মানুষ জন নেই। শুধু কিছুক্ষন পর পর কিছু চিল চক্কর দিচ্ছে আকাশে! শকুন ও হতে পারে। গ্রীফন প্রজাতির। খাবার খুঁজছে মনে হয়।
বাড়িটার ছাঁদে উঠার জন্যে আমি প্রাণপণ চেষ্টা করছি। কেন করছি জানিনা। কিছু একটা আমাকে টানছে। এরকম টান আমি সচরাচর অনুভব করিনা।
খেয়াল করলাম একটা দড়ি ছাঁদের একটা হুকের সাথে আটকানো! ওটা ধরেই আমি উপরে উঠার চেষ্টা করলাম! বেশ কয়েকবার চেষ্টা করে ছাঁদের টিক কার্নিশ ধরতেই দড়ি টা ছিড়ে নিচে পরে গেলো! মনে হলো কেউ একজন ইচ্ছে করে দড়ি টা ছিড়ে দিল। আমি উঠে এলাম ছাঁদে। কিছু নেই উপরে। শুধু একটা পলকা হাওয়া, মনে হলো কিছু একটা স্পর্শ করে গেলো আমাকে। ভীষণ মায়াবী।
এখন আগের চেয়েও অনেক দূর দেখা যাচ্ছে! কোন জন বসতি নেই। চোখে পরছে শুধু ফেটে যাওয়া চৌচির মাঠ। ক্ষুধার্ত, নিস্তব্দ, খেয়ালী, অভিমানী।

শকুন গুলোকে খুব কাছ দিয়ে উড়ে যেতে দেখলাম!
না, ওগুলো চিল না!
ছাঁদে উঠার মোহটা এখন কেটে গেছে। আমাকে নামতে হবে। কিন্তু নামার কোন পথ খুঁজে পাচ্ছিনা। আশ্চর্য! ছাঁদের উপর থেকে নিচটা অনেক-অনেক দূর মনে হচ্ছে অথচ নিচ থেকে ছাঁদটা এতটা উপর মনে হয়নি। নামব কিভাবে? আমি চিৎকার শুরু করলাম। অনেক জোড়ে চিৎকার। কিন্তু কেউ শুনছে বলে মনে হচ্ছে না।
আমি একধরনের শূন্যতা অনুভব করছি। আমার ভয় টা আস্তে আস্তে বাড়তেছে। এরকম ভয় আমি আগে কখনও পাইনি।
আমার গলা শুকিয়ে আসছে! এখন আমি আর চিৎকার করতে পারছিনা। আশ্চর্য, আমি নিজেই নিজের চিৎকার শুনছি না, একধরনের গোঁ গোঁ আওয়াজ হচ্ছে শুধু! আমি কথা বলতে পারছিনা কেন?
পাখিগুলো আমার মাথার উপর দিয়ে বার বার পাক দিচ্ছে ! ওদের সংখ্যাটা ও বাড়তেছে! পাখিগুলোকে এত ভয় লাগছে কেন আমার? আমি কি মরে যাচ্ছি? মাকে খুব মনে পড়তেছে! মা তুমি কোথায়? মাগো বাচাও। মা! মা!
....না, আমি মায়ের আওয়াজ শুনছি । মা আমাকে ডাকতেছে- “উঠ উঠ পাঠশালায় যেতে হবে সকাল ৭ টা বাজে!!”
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই আগস্ট, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


