somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ধরণী দ্বিধা হও!

০৩ রা জুন, ২০১৭ দুপুর ১:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

টের পাচ্ছি আমাকে নিয়ে বাড়ির সবাই খুব অস্বস্তিতে আছে। জীবনে এরকম অস্বস্তিকর অবস্থায় কখনো পড়েছি বলে মনে পরে না। এমনকি নেপাল থেকে ফিরে সব আধোয়া ময়লা কাপড় জন্য যখন ঘরের জামা পরেই শ্বশুড়বাড়ি গেলাম, তখনো বাসভর্তি লোকের বিষ্ময় দৃষ্টি আমাকে এতটা অস্বস্তিতে ফেলেনি (বিষয়টা এমন আপনে ঝোলা নিয়ে কর্পোরেট অফিসে গেছেন) এখন যার বাড়িতে আছি সে আমার বান্ধবি। ধরি তার নাম কল্পনা চাকমা। না সেই কল্পনা চাকমা না, তবে শেষ নামটা আসলেই চাকমা। প্রাণের বন্ধু না হলেও ভালো বন্ধু। হলে রুমমেট ছিলাম, ঢাকা ইউনিভার্সিটি ফিল্ম সোসাইটিতে বেগার খেটেছি, আমার এবং আমার জীবন সঙ্গীর অনেক পছন্দের একজন মানুষ।

অনেক দিন ধরেই আসতে চেয়েছিলাম ওর বাসাতে, হঠাৎই প্লান করে চলে এলাম। আমি একা। আমার বরের কাজ আছে, তার সময় নেই। ভেবেছিলাম দু’বন্ধু মিলে একটু ঘুরবো ফিরবো, আর আমি ছবি তুলবো। রাঙ্গামাটি বর্ষাকালে অসাধারণ। বান্ধবীকে ইনবক্সে জানাতেই সে বললো চলে আয়। ও চিরকালই এমন। অসম্ভব পরোপকারী, পরিশ্রমী, দাতা, শুদ্ধমনের মানুষ। ওর রান্না করা ভাত আর আলুভাজি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ খাবারের মধ্য একটা। আর আঙ্কেল-আন্টি, ওনাদের মতো মানুষই হয় না। হলে যখন থাকতাম তখন থেকেই দেখেছি। এরকম একটা বাসায় এসে এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হবো ভাবতেই পারিনি। আমি যখন ঘটনা শুনলাম, তখন থেকে মনে মনে বলছি ধরণি দ্বিধা হও, আমি ঢুকে যাই তোমার গর্তে, আমায় কেন তুমি এমন অভিজ্ঞতার মুখে দ্বার করালে?

আমাকে কেউ কিচ্ছু বলছে না, আমিও জানি আমার কোন বিপদ এই বাসায় আসবে না। আমি পুরোটাই নিরাপদ। আমার বন্ধু আমাকে আগলে রাখবেই। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে আমি কি আমার এই বন্ধুকে এই নিরাপত্তার বোধটুকু এই দেশে কোথাও এক মুহুর্তের জন্য দিতে পেরেছি? পারবো কখনো?

*এই লিখাটা আমি যখন লিখছি তখন লংগদু গ্রামে আগুন জ্বলছে। আদিবাসীদের ঘরে আক্রমন করে আগুন দিয়েছে বাঙ্গালীরা। আজকের দিনের অভিজ্ঞতাটা হয়তো সত্যি হতো যদি সংসারের সাতকাহনে শেষ মুহুর্তে আমার যাওয়াটা আটকে না যেত। ধরণী দ্বিধা হও!
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জুন, ২০১৭ দুপুর ১:২১
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Ai দিয়ে তৈরি করা কিছু বাংলাদেশী টাকার নমুনা নোট

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ২০ শে মে, ২০২৬ দুপুর ২:২২


হঠাত করেই কয়েকদিন ধরে ফেসবুকে Ai দিয়ে তৈরি করা কিছু বাংলাদেশী টাকার নমুনা নোট বার বার সামনে আসতে শুরু করে। তাদের কিছু কিছু নমুনা খুবই সুন্দর, কিছু কিছু আবার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ন্যায়বিচার ও ইসলামী ভ্রাতৃত্ব!

লিখেছেন মোঃ খালিদ সাইফুল্লাহ্‌, ২০ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৪:৪০

একদিন দু’জন লোক এক বালককে টেনে ধরে নিয়ে আসল উমর (রাঃ)র দরবারে। উমর (রাঃ) তাদের কাছে জানতে চাইলেন যে, ‘ব্যাপার কি, কেন তোমরা একে এভাবে টেনে এনেছ ?’

তারা বলল, ‘এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যু্ক্তিসংগত ব্যাখ্যা চাই-১

লিখেছেন অপলক , ২০ শে মে, ২০২৬ রাত ৯:২৪




আমরা সবাই জানি ইসলাম ধর্মে, আত্মহত্যাকারীর পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। সহীহ বুখারীতে এসেছে, আল্লাহ তা'আলা বলেন, "আমার বান্দা নিজের জীবনের ব্যাপারে আমার আগেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে, তাই আমি তার ওপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোল্লাতন্ত্র ও নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধের সমাধান নয়, বরং তা বৃদ্ধির একটি কারণ

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২১ শে মে, ২০২৬ সকাল ৮:৪২


সাত বছর বয়সের ছোট্ট শিশু রামিসাকে ধর্ষণ করে গলা কেটে হত্যার ঘটনার সমাধান হিসেবে, মোল্লাতন্ত্রের মুখপাত্র আহমাদুল্লাহ হুজুর পুরাতন এক ফতোয়া নিয়ে হাজির হয়েছেন। এইসব নৃশঃসতার মাত্রা কমিয়ে আনার একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেজন্মা

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২১ শে মে, ২০২৬ সকাল ১১:৪১


হু বেজন্মা কথা শুনার পর
আমি বিরক্ত মনে করতাম
কিন্তু বেজন্মা কথাটা সত্যই
স্রোতের মতো প্রমান হচ্ছে-
খুন ধর্ষণ করার পশুত্বকে
বলে ওঠে বেজন্মা ক্যান্সার;
ক্যান্সারের শেষপরিণতি মৃত্যু
তেমনী বেজন্মার হোক মৃত্যু-
চাই না এই বেজন্মাদের বাসস্থান
আসুন রুখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×