ভিভিআইপি মুভমেন্টের সময় জনপদ স্থবির হয়ে যায়; বা স্থবির করে দেওয়া হয়। মানে এটিই রীতি। তাই, সরকার-ভেদেও রীতি-নীতি অভেদ্য।
ভিভিআইপি মুভমেন্টে পড়ে জনপদ যখন স্থবির হয়ে থাকে, মানুষের যখন ঘাড় ত্যাড়ামি, ব্যাটামি কোনো কিছু দেখিয়েও কোনো লাভ নাই, বরং বেশি 'তেড়িবেড়ি করলে' প্রহরায় নিয়োজিতদের 'ঘাড়ালি খাওয়াই' যখন নিশ্চিত ভবিতব্য তখন মানুষেরা বেশ শান্ত হয়ে যায়।
এইসব স্থবিরতার সময়ে নট-নড়ন-চড়ন অবস্থায় ত্যাক্ত লাগা স্বাভাবিক। তবে, মেজাজ-মর্জি নিয়ন্ত্রনের মধ্যে থাকলে, এমত সময়েও মাঝে মাঝে হাসতে-হাসতে পেটে খিল ধরার মতন রস মিলে যায়।
আজকেও এরকম হলো।
খটখটা রোদের মধ্যে বনানী ওভারপাসের প্রান্তে দাঁঁড়িয়ে এক দল লোক এমন সব স্বগতোক্তি, মন্তব্য, আলাপ ও হাসাহাসিতে মত্ত হলো যে, না শুনলে এর রস বোঝা মুস্কিল।
কিন্তু অপেক্ষারত পথিকেরা কী সব বলাবলি করছিল সেই বৃত্তান্ত আমি এইখানে লিপিবদ্ধ করবো না।
আমি দশগ্রীব নই। আমার মুণ্ডু একখানি। এবং সদ্য পাশ হওয়া ডিজিটাল আইনকে আমি সমীহ করি। কারণ আমি নিদারুন গরীব মাস্টর। দিন আনি দিন খাই দশা। তাই, আমাকে হাতে এবং ভাতে মারা ওয়ান-টু'র ব্যাপার।
তবে, আপনারা যারা পত্রিকার সাংবাদিক তারা কিন্তু এই আইডিয়াটিকে কাজে লাগাতে পারেন। কারণ আপনাদেরকে কোনোভাবেই 'মারা' সহজ না। হাতেও না, ভাতেও না। (খাশুগজি বা সাগর-রুনির ঘটনা এখানে না টানাই শ্রেয়) কারণ সাংবাদিকতার একটি অব্যর্থ রক্ষা কবচ 'পাবলিক ইন্টারেস্ট'। পাবলিক ইন্টারেস্টের সামনে 'পিথীমির' কোনো আইন ঘাড়-ত্যাড়া হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে নাই।
পাবলিক ইন্টারেস্টের নামেই ওয়াশিংটন পোস্ট ভিয়েতনাম ওয়ার নিয়ে প্রতিবেদন ও নিবন্ধ প্রকাশ করে ম্যাকনামারা-হোয়াইট হাউজ-মার্কিন সরকারী মিথ্যাচারের ১৩টা বাজিয়ে দিয়েছিল। যদিও একই কথা বলতে গিয়ে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল নিউ ইয়র্ক টাইম্স। কিন্তু পোস্ট জিতেছিল।কোনো দিন যুদ্ধে জিততে পারবে না জেনেও ভিয়েতনামে প্রাইড রক্ষার নামে আরো হাজার-হাজার সৈন্য পাঠানোর কূটচাল থেকে অবশেষে মার্কিন সরকার সরে আসতে বাধ্য হয়েছিল।
অর্থাৎ যুক্তির শক্তি যদি শক্তির শক্তির চেয়ে বেশি হয়, তাহলে শক্তিও ঘুঘুর মতন বাঁধা পড়ে যায়।
তাই, অতীব গুরুত্বপূর্ণদের চলাচলের সময় সংসার যখন স্থবির হয়ে যায় তখন লোকেরা কী ধরণের মন্তব্য, বক্তব্য ও পরামর্শ দেয় এবং সেগুলোকে ক্যাটেগরিকেলি ভাগ করলে মোটা দাগে কী সারবস্তু পাওয়া যায় তা নিয়ে দারুণ কাজ হতে পারে।
কোনো একটি পত্রিকা ভিভিআইপিদের মুভমেন্টের তালিকাটা পুলিশের থেকে আগেই কালেক্ট করে নিয়ে সেই সব স্থবির-হতে-চলা এলাকাগুলোতে আগেই রিপোর্টার এসাইন করে রাখতে পারে। এভাবে ঢাকা শহরের প্রায় সবগুলো/অধিকাংশ বড় মোড়ের মানুষের চিন্তাকে জানা/ পাঠ করা/রিড করা যাবে। তাদের আকাঙ্ক্ষাকে তাদের জবানীতেই তুলে আনা যাবে।
জনতার বক্তব্য জনতার জবানীতে তুলে এনে পত্রিকায় প্রকাশের ব্যাবস্থা করলে এটি ডিজাটাল আইনে বাধা না পড়ারই কথা। কিন্তু পত্রিকায় প্রকাশ হলে গুটিকয়-বিচ্ছিন্ন-জনতার বক্তব্য আরো বৃহত্তর জনগোষ্ঠি জানবে এবং ক্ষদ্রতর অতিব-গুরুত্বপূর্ণ নীতি-নির্ধারক গোষ্ঠীরও গোচরে আসবে।
এতে করে, বদল না এলেও অন্তত বদল যে দরকার তার একটা বোধ তৈরি হবে।
আর কে না জানে! বোধই যত ক্যাচালের মূল। বোধ ছিল বলেই ‘ঠাকুর ঘরে কে রে’ প্রশ্নের জবাবে উত্তর এসেছিল, ‘আমি কলা খাই না’।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



