
নজরবন্দী'র স্থান, কাল এবং চরিত্রগুলো যত বেশি না আমার মস্তিষ্ক প্রসূত, তার থেকে অনেক বেশী আমার অভিজ্ঞতালব্ধ! অর্থ্যাৎ বইটিতে উল্লেখিত বেশির ভাগ চরিত্র এবং ঘটনার অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে আমি গিয়েছি বিধায় এটিকে অন্যভাবে একটা ভিন্ন ধরনের গবেষনা গ্রন্থ বললেও অন্যায় হবেনা।
বছর পাঁচেক আগে দেশের দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের দিকে একবার আমি একজন সিদ্ধ পুরুষের সন্ধান পেয়ে যাই, যার উপর প্রতি মঙ্গলবার মাঝ রাতে মহামায়া নামক দেবী ভর করত এবং মহামায়ার মাধ্যমে তিনি তার হাজারো ভক্তকুলকে রোগমুক্তি প্রদান করতেন। দীর্ঘ সময় আমি সেই সিদ্ধ পুরুষের সাথে থেকে মূলত তার তন্ত্র-মন্ত্র কিংবা যাদুবিদ্যা সংক্রান্ত বিষয়গুলো এবং সমাজে তার প্রভাব বোঝার চেষ্টা করছিলাম। আমার এখনো মনে আছে, প্রথম যেদিন আমি তার আশ্রমে গেলাম সেদিন তিনি তার আশ্রমের সেবায়েতগনের উদ্দ্যেশ্যে বলেছিলেন, 'আমার আশ্রমে আজ এক মহান মনিষীর পদার্পন ঘটেছে! তোমরা কি তার পদধুলি নিবা না?' সেদিন একবারের জন্যেও আমার ভাবনাতে আসে নাই যে তাকে উপজীব্য করেই একদিন নজরবন্দী'র সৃষ্টি হবে। আমি জানিনা, নজরবন্দী আমাকে সেই উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারবে কিনা তবে থ্রিলারটিতে আমি খুব করে চেষ্টা করেছি একটা টানটান ভৌতিক উত্তেজনা জিইয়ে রেখে নিম্নবর্গীয় কিছু মানুষের জীবনের গল্প বয়ানের পাশাপাশি সমাজে প্রচলিত কিছু অতি-ভৌতিক ঘটনার মুখোশ উন্মোচন এবং যৌক্তিক বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা প্রদানের।
মনে করেন, একটা বর্ষনমুখর রাতে সুনসান, নীরব, ভৌতিক গা ছমছম করা গ্রাম্য একটা উপশহরে আপনি একজন আগন্তুক! পুরোটা রাত্রী বাজারের নৈশপ্রহরীর সংগে কাটিয়ে, তার জ্ঞান-গরিমার প্রকাশে পুরোদস্তুর তাজ্জ্বব বনে গিয়ে পরের দিন সকালে জানলেন সেই নৈশ প্রহরী বছর দশেক আগেই মারা গিয়েছে। তখন আপনার অবস্থা কি দাঁড়াবে? ধর্ম, সমাজ কিংবা মনোবিজ্ঞান এই ব্যাখ্যায় কি বলে! কিভাবে করবেন আপনি এই রহস্যময় নৈশপ্রহরীর রহস্য উন্মোচন কিংবা সেই কম শিক্ষিত মহামায়ার সাধক, সিদ্ধ পুরুষ যিনি কিনা আপনাকে একটা অজ-পাড়া গাঁয়ে বসে বিশ্ব সৃষ্টির রহস্য কিংবা কোয়ান্টাম ম্যাকানিক্স বোঝাচ্ছেন?
কিছুদিন পূর্বে খোদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সুন্দরবনকে দস্যু মুক্ত একটা অঞ্চল হিসেবে ঘোষনা দিলেন! কখনো ভেবেছেন কি, সুন্দরবনের ভেতরে কি পরিমান অত্যাচার আর তান্ডব চললে সেই অঞ্চল দস্যুমুক্ত হবার পর সেই খবর একজন প্রধানমন্ত্রী বেশ গর্বের সাথে ঘোষনা করেন!!- কখনো কি এই নির্যাতিত নিপীড়িত বনজীবিদের কিংবা মুন্ডা জীবনের গল্প শুনেছেন?
এমন হাজারো তথ্য জুড়ে দিয়ে একটা টানটান উত্তেজনার সুখপাঠ্য গল্পের সৃষ্টি-ই হল নজরবন্দী! আমার বিশ্বাস বইটা একবার শুরু করলে, শেষ না করে উঠতে আপনার কষ্ট হবে। বইটির অসাধারন প্রচ্ছদ করেছেন জাদিদ ভাই, আর প্রকাশ করেছেন শ্রদ্ধেয় নীল সাধু দাদা তার এক রঙ্গা এক ঘুড়ির ব্যানারে।
বইটি আজ হতে একুশে বই মেলাতে এক রঙ্গা এক ঘুড়ির স্টলে (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, স্টল-৪৩৪) এবং মেঘফুল, বাংলা একাডেমী, লিটল ম্যাগ চত্ত্বর, স্টল-১১৪ এ পাওয়া যাচ্ছে।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৩:২০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




