ঢাকা, জুলাই ০৯ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, মুহাম্মদ ইউনূসের শান্তিতে নোবেল জয়ের পেছনে শেখ হাসিনার অবদান রয়েছে। তা নাহলে নোবেল জয় তার পক্ষে সম্ভবপর হতো না।
শনিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনের (পিডিবিএফ) যুগপূর্তির অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম বিশ্বে পরিচিত করতে হাসিনার অবদান তুলে ধরে আশরাফ বলেন, "মাইক্রোক্রেডিটকে বিশ্বব্যাপী পরিচিত করিয়েছিলেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমেরিকায় মাইক্রোক্রেডিটের বিশ্বব্যাপী সম্মেলনে ইউনূস সাহেবকে সবার সামনে পরিচিত করিয়ে দেন এই শেখ হাসিনা। সেদিন সেখানে আমেরিকার বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন, স্পেনের রানীসহ অনেকেই ছিলেন।"
"শেখ হাসিনা সেদিন ইউনূস সাহেবকে পরিচয় করিয়ে না দিলে তিনি বিশ্বব্যাপী পরিচিতও হতেন না, আর নোবেল পুরস্কারও পেতেন না", বলেন তিনি।
ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রমের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনের মাধ্যমে শান্তিতে অবদান রাখায় ২০০৬ সালে নোবেল পুরস্কার পান ইউনূস। গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইউনূসকে বর্তমান সরকার এ বছরের শুরুতে অব্যাহতি দেয়। এ নিয়ে আইনি লড়াই চালিয়েও হারতে হয় তাকে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন না নিয়ে পদে ধরে রাখায় ইউনূসকে অব্যাহতি দেওয়া হলেও তার কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারি দলের নেতারা।
আশরাফ বলেন, মাইক্রোক্রেডিট শব্দটি কোনো বিশেষ অর্থনীতিবিদের আবিষ্কার নয়। মাইক্রোক্রেডিটের জন্ম দিয়েছে পিডিবিএফ। যদি এর জন্য নোবেল পেতে হয়। তাহলে নোবেল দেওয়া উচিত পিডিবিএফকে।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন থাকা অবস্থায় ১৯৯৯ সালের ৭ নভেম্বর সপ্তম জাতীয় সংসদে আইনের মাধ্যমে পিডিবিএফ প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরের বছরের ৯ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিষ্ঠানটি কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এর যুগপূর্তির অনুষ্ঠানেও ছিলেন হাসিনা।
পল্লী অঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠির আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন, নারী-পুরুষ সমতা প্রতিষ্ঠা, নারীর ক্ষমতায়নই এ প্রতিষ্ঠানের কাজের মূল উদ্দেশ্য।
চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে প্রতিষ্ঠানটিকে স্থবির করে রাখা হয়েছিলো জানিয়ে এর সমালোচনাও করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আশরাফ।
পল্লী উন্নয়নে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "এ বিশাল অট্টালিকায় বসে গ্রামের মানুষের কথা বলাটা বেমানান। আমরা এটা করছি শহরের মানুষকে সম্পৃক্ত করার জন্য। গ্রামের মানুষের উন্নয়নে শহরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।"
সুষম উন্নয়নে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে আশরাফ বলেন, "বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিলো- সোনার বাংলা গড়ার, সোনার ঢাকা গড়ার নয়। ঢাকায় শুধু বড় বড় বাড়ি হবে আর গাড়ি চলবে, তা নয়। গ্রামেরও উন্নয়ন হবে।"
অনুষ্ঠানে জামালপুরের জয়নাব বিবি পিডিবিএফের মাধ্যমে নিজের স্বনির্ভর হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন। জয়বান বিবি পিডিবিএফের মাধ্যমে ঋণ নিয়ে কৃষি খামার গড়ে দুই মেয়েকে মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়িয়ে বিয়ে দিয়েছেন এবং এক ছেলেকে øাতক পর্যন্ত পড়িয়েছেন। এখন তার ছেলে একটি ওষুধ কোম্পানিতে কাজ করছেন।
জয়নাব বিবি বলেন, "পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন আমাদের চোখ ফুটিয়ে দিয়েছে। এখন আমরা দু'মুঠো খেতে পারি, ভালো কাপড় পরতে পারি। কিস্তির টাকার জন্য কেউ আমাদের গরু-ছাগল নিয়ে টানাটানি করে না।"
গ্রামীণ ব্যাংকসহ ক্ষুদ্রঋণ বিতরণকারী বিভিন্ন এনজিওর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা ঋণের কিস্তি আদায়ের জন্য নিপীড়ন চালায়।
পিডিবিএফ'র যুগপূর্তির অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব মিহির কান্তি মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থানী কমিটির সভাপতি রহমত আলী।
স্বাগত বক্তব্যে পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে ঋণের শ্রেষ্ঠ সুফলভোগী ছয় জন, সুফলভোগীদের শ্রেষ্ঠ ছয় সন্তান এবং শ্রেষ্ঠ ছয় কর্মীকে পুরস্কার হিসেবে পদক ও নগদ অর্থ দেওয়া হয়।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


