somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইউনূসের নোবেল পাওয়ার পেছনে ছিলেন হাসিনা

০৯ ই জুলাই, ২০১১ বিকাল ৩:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঢাকা, জুলাই ০৯ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, মুহাম্মদ ইউনূসের শান্তিতে নোবেল জয়ের পেছনে শেখ হাসিনার অবদান রয়েছে। তা নাহলে নোবেল জয় তার পক্ষে সম্ভবপর হতো না।

শনিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনের (পিডিবিএফ) যুগপূর্তির অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম বিশ্বে পরিচিত করতে হাসিনার অবদান তুলে ধরে আশরাফ বলেন, "মাইক্রোক্রেডিটকে বিশ্বব্যাপী পরিচিত করিয়েছিলেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমেরিকায় মাইক্রোক্রেডিটের বিশ্বব্যাপী সম্মেলনে ইউনূস সাহেবকে সবার সামনে পরিচিত করিয়ে দেন এই শেখ হাসিনা। সেদিন সেখানে আমেরিকার বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন, স্পেনের রানীসহ অনেকেই ছিলেন।"

"শেখ হাসিনা সেদিন ইউনূস সাহেবকে পরিচয় করিয়ে না দিলে তিনি বিশ্বব্যাপী পরিচিতও হতেন না, আর নোবেল পুরস্কারও পেতেন না", বলেন তিনি।

ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রমের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনের মাধ্যমে শান্তিতে অবদান রাখায় ২০০৬ সালে নোবেল পুরস্কার পান ইউনূস। গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইউনূসকে বর্তমান সরকার এ বছরের শুরুতে অব্যাহতি দেয়। এ নিয়ে আইনি লড়াই চালিয়েও হারতে হয় তাকে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন না নিয়ে পদে ধরে রাখায় ইউনূসকে অব্যাহতি দেওয়া হলেও তার কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারি দলের নেতারা।

আশরাফ বলেন, মাইক্রোক্রেডিট শব্দটি কোনো বিশেষ অর্থনীতিবিদের আবিষ্কার নয়। মাইক্রোক্রেডিটের জন্ম দিয়েছে পিডিবিএফ। যদি এর জন্য নোবেল পেতে হয়। তাহলে নোবেল দেওয়া উচিত পিডিবিএফকে।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন থাকা অবস্থায় ১৯৯৯ সালের ৭ নভেম্বর সপ্তম জাতীয় সংসদে আইনের মাধ্যমে পিডিবিএফ প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরের বছরের ৯ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিষ্ঠানটি কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এর যুগপূর্তির অনুষ্ঠানেও ছিলেন হাসিনা।

পল্লী অঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠির আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন, নারী-পুরুষ সমতা প্রতিষ্ঠা, নারীর ক্ষমতায়নই এ প্রতিষ্ঠানের কাজের মূল উদ্দেশ্য।

চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে প্রতিষ্ঠানটিকে স্থবির করে রাখা হয়েছিলো জানিয়ে এর সমালোচনাও করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আশরাফ।

পল্লী উন্নয়নে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "এ বিশাল অট্টালিকায় বসে গ্রামের মানুষের কথা বলাটা বেমানান। আমরা এটা করছি শহরের মানুষকে সম্পৃক্ত করার জন্য। গ্রামের মানুষের উন্নয়নে শহরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।"

সুষম উন্নয়নে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে আশরাফ বলেন, "বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিলো- সোনার বাংলা গড়ার, সোনার ঢাকা গড়ার নয়। ঢাকায় শুধু বড় বড় বাড়ি হবে আর গাড়ি চলবে, তা নয়। গ্রামেরও উন্নয়ন হবে।"

অনুষ্ঠানে জামালপুরের জয়নাব বিবি পিডিবিএফের মাধ্যমে নিজের স্বনির্ভর হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন। জয়বান বিবি পিডিবিএফের মাধ্যমে ঋণ নিয়ে কৃষি খামার গড়ে দুই মেয়েকে মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়িয়ে বিয়ে দিয়েছেন এবং এক ছেলেকে øাতক পর্যন্ত পড়িয়েছেন। এখন তার ছেলে একটি ওষুধ কোম্পানিতে কাজ করছেন।

জয়নাব বিবি বলেন, "পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন আমাদের চোখ ফুটিয়ে দিয়েছে। এখন আমরা দু'মুঠো খেতে পারি, ভালো কাপড় পরতে পারি। কিস্তির টাকার জন্য কেউ আমাদের গরু-ছাগল নিয়ে টানাটানি করে না।"

গ্রামীণ ব্যাংকসহ ক্ষুদ্রঋণ বিতরণকারী বিভিন্ন এনজিওর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা ঋণের কিস্তি আদায়ের জন্য নিপীড়ন চালায়।

পিডিবিএফ'র যুগপূর্তির অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব মিহির কান্তি মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থানী কমিটির সভাপতি রহমত আলী।

স্বাগত বক্তব্যে পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে ঋণের শ্রেষ্ঠ সুফলভোগী ছয় জন, সুফলভোগীদের শ্রেষ্ঠ ছয় সন্তান এবং শ্রেষ্ঠ ছয় কর্মীকে পুরস্কার হিসেবে পদক ও নগদ অর্থ দেওয়া হয়।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×