আর কতকাল এই ভন্ড পীর ধর্মক ব্যাবসাইরা আমাদের প্রতারিত করে যাবে।
ঢাকা, এপ্রিল ১৬ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভের চেয়ারম্যান ও কুতুববাগ দরবার শরীফের পীরসহ চারজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি প্রতারণা মামলা প্রত্যাহারের জন্য ‘নকল বাদী’ সাজানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বাদী পক্ষের দুই আইনজীবী ঢাকার মহানগর হাকিম মো. হাসিবুল হকের আদালতে বাদীর অবস্থান ও দাবি সম্পর্কে পরস্পরবিরোধী আবেদন করলে নকল বাদী সাজানোর বিষয়টি জানাজানি হয়।
হাকিম রোববার দুই আইনজীবীর আবেদন শুনে বাদী হিসাবে পরিচয়দানকারী দুই ব্যাক্তির ভোটার পরিচয়পত্র যাচাই করার নির্দেশ দিয়েছে পুলিশকে। শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশকে ১৫ মে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে হবে।
এর আগে ১৭ এপ্রিল মামলার পরবর্তী তারিখে বাদী সৈয়দ শরীফুল হক চিশতীকে (বাবা- মৃত সৈয়দ নাসিরুল হক চিশতী, ৮৬ কাকরাইল, রমনা) আদালতে হাজির করতে বলা হয়েছে। এ বিষয়টি নিশ্চিত করবেন রমনা থানার ওসি।
বাদীর এক আইনজীবী আমিরুল ইসলাম তার আবেদনে বলেন, গত ১৩ মার্চ এ মামলা দায়েরের পর থেকে বাদী সৈয়দ শরীফুল হক চিশতী নিখোঁজ। আর এ মামলার আসামিরা অন্য একজনকে বাদী সাজিয়ে মামলা প্রত্যাহারের চেষ্টা করছেন।
আমিরুল বলেন, বতর্মানে যে ব্যক্তিকে বাদী সাজিয়ে মামলা প্রত্যাহারের চেষ্টা হচ্ছে তার নাম শরীফুল ইসলাম, পিতা- মৃত ওয়াসিম উদ্দিন। অথচ আসল বাদীর নাম সৈয়দ শরীফুল হক চিশতী। তার বাবা মৃত সৈয়দ নাসিরুল হক চিশতী।
মামলার ‘আসল’ বাদীকে উদ্ধার এবং ‘ভুয়া’ বাদীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আদালতের কাছে আবেদন করেন এই আইনজীবী।
অন্যদিকে বাদীর অপর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. গোলাম সারোয়ার গত ২৮ মার্চ মামলা প্রত্যাহরের এক আবেদনে বলেন, বাদী ও আসামিদের মধ্যে ‘ভুল বোঝাবোঝির’ কারণে এ মামলা করা হয়েছিল। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। বাদী এখন আর মামলাটি চালাবেন না।
তার এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলাটি খারিজের আদেশ দেন বিচারক।
কিন্তু অপর আইনজীবী আমিরুল ইসলাম রোববার ‘ভুয়া’ বাদী সাজিয়ে মামলা প্রত্যাহারের চেষ্টার অভিযোগ আনলে আদালত পাড়ায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
কুতুববাগ দরবার শরীফের পীর মো. জাকির শাহের সাবেক খাদেম সৈয়দ শরীফুল হক চিশতী গত ১৩ মার্চ মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।
কুতুববাগ দরবার শরীফের পীর মো. জাকির শাহ, ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রফিকুল আমিন, জনৈক কবির হোসেন ও ইসমাইল হোসেন বাবুকে মামলায় আসামি করেন তিনি।
মহানগর হাকিম হাসিবুল হক ওইদিন বাদীর জবানবন্দি শুনে আসামিদের ১৫ এপ্রিল আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেন।
মামলার আরজিতে বলা হয়, গত বছরের ১৩ এপ্রিল বাদীকে কুতুববাগ দরবার শরীফে আটক রেখে আমমোক্তারনামার কথা বলে কিছু স্ট্যাম্পসহ কার্টিজ পেপারে তার স্বাক্ষর নেয় আসামিরা।
পরবর্তীতে বাদী জানতে পারেন, কুতুববাগ দরবার শরীফের পীর জাকির শাহ ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির চেয়ারম্যান রফিকুল আমিনের কাছে বাদীর পৈতৃক সম্পত্তির বেশ কিছু জমি ষোল কোটি ৫০ লাখ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন।
বিষযটি নিয়ে কথা বলতে গেলে আসামিরা বাদীকে হত্যার হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে এজাহারে।
সুত্র

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


